অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া যায় এবং এতে কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল সংক্রান্ত আপিলের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “সংবিধানে কোথাও বলা নেই যে অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জনগণই রাষ্ট্রের মালিক, তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে আইন প্রণয়ন হবে। জনগণ যেমনভাবে চান, দেশ তেমনভাবেই চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় বাংলাদেশের সমাজ ও প্রশাসনিক কাঠামোকে কুঠারাঘাত করেছে। এর ফলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের পথে গিয়েছে, ভোটের অধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নামেও ভোট দেওয়া হয়েছে— যা রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।”
এর আগে বুধবার তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং জানান, ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে বৃহস্পতিবার তিনি নতুন করে জানান, পদে থেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো আইনি বাধা নেই।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ৭৮ ও ১০২ অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব ও রাজনৈতিক যোগ্যতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নৈতিকভাবে বিতর্কিত হতে পারে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারার পুনরুদ্ধারে জনগণের যে প্রত্যাশা, তা পূরণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই একমাত্র উপায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহাল এই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হবে।”