বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

কেন মানুষের জীবনে বিপদ আসে?

মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের সুখ এবং দুঃখের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, এবং এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দিয়ে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩৫) পরীক্ষার উদ্দেশ্য ও আল্লাহর হেকমত: আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেন। কেউ কষ্ট বা অসুখের […]

নিউজ ডেস্ক

১১ জানুয়ারী ২০২৫, ১৭:০২

মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের সুখ এবং দুঃখের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, এবং এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দিয়ে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩৫)

পরীক্ষার উদ্দেশ্য ও আল্লাহর হেকমত: আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেন। কেউ কষ্ট বা অসুখের মাধ্যমে, আবার কেউ সুখের মধ্যে পরীক্ষা লাভ করেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দার বিশ্বাস, ধৈর্য এবং অবস্থান যাচাই করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, কঠিন শাস্তির পূর্বে আমি তাদেরকে হালকা শাস্তি আস্বাদন করাবো, যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে। (সুরা সাজদাহ, আয়াত: ২১)
এছাড়া, কোনো জাতিকে সীমালঙ্ঘনের জন্য আজাব দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যাতে অন্যরা সতর্ক হয়।

পরীক্ষার মাধ্যমে মুমিনের কল্যাণ: মুমিনদের পরীক্ষা কখনোই কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। বরং, পরীক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাদের গুনাহ মাফ করেন, মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং পরকালীন শাস্তি লঘু করেন। রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, মুসলমানের ওপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আপতিত হয়, এমনকি তার দেহে যে কাঁটা ফোটে, এসবের বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। (বুখারি শরিফ, হাদিস: ৫৬৪১ / মুসলিম শরিফ, হাদিস: ২৫৭৩)

এভাবে, বিপদ-মসিবতের মাধ্যমে আল্লাহ মুমিনদের কল্যাণ করেন, এমনকি কিয়ামতের দিন তাঁদের প্রতিদান দেখে অন্যরা আফসোস করবে।

পরীক্ষার দুটি উদ্দেশ্য: পরীক্ষার মূলত দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে: ১. আল্লাহ বান্দাকে এমন কিছু দিয়ে পরীক্ষা করেন, যাতে তার স্থান জান্নাতে উন্নীত হয়। ২. বান্দার গুনাহের শাস্তি দুনিয়াতেই দেওয়া হয়, যাতে পরকালের কঠিন শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার মূল্য: যখন আমরা কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন হই, আমাদের মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ তায়ালা কাউকে এমন বোঝা চাপান না যা সে বহন করতে সক্ষম নয়। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬) এজন্য আমাদের কখনোই নিরাশ হওয়া উচিত নয়, বরং ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, হতে পারে, তুমি একটি জিনিস অপছন্দ করো যা তোমার জন্য ভালো এবং তুমি একটি জিনিস পছন্দ করো যা তোমার জন্য খারাপ। আল্লাহ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৬)

এটা বুঝতে হবে যে, আল্লাহ আমাদের ভালো চান এবং তাঁর পরীক্ষা কখনোই বিনা কারণে হয় না। প্রতিটি পরীক্ষার পেছনে আল্লাহর একান্ত পরিকল্পনা থাকে, যদিও তা আমরা তৎক্ষণাৎ বুঝতে না পারি।

ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার পুরস্কার: রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, মুমিনের বিষয়টি কতই না চমৎকার! তার জন্য কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই নেই। তার জন্য যদি কোনো খুশির ব্যাপার হয় এবং সে কৃতজ্ঞতা আদায় করে, তাহলে সেটি তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি কোনো দুঃখের বিষয় হয় এবং সে ধৈর্য ধারণ করে, সেটিও তার জন্য কল্যাণকর। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯)

এটা আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যে, যে কোনো পরিস্থিতিতেই আমাদের মনোভাব ইতিবাচক রাখা উচিত। এটি পরিস্থিতিকে ভালো দিকে পরিবর্তন করতে সাহায্য করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর স্মরণ করো, যখন তোমাদের রব ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে আরো বেশি দেব, আর অকৃতজ্ঞ হলে নিশ্চয় আমার শাস্তি কঠোর।(সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭)

কষ্টের পর স্বস্তি ও পুরস্কার: একটি বিষয় মনে রাখা উচিত যে, পরীক্ষার পর আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে যে পুরস্কার দেন তা পরীক্ষার তুলনায় অনেক বেশি হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, সুতরাং কষ্টের সাথেই তো স্বস্তি আছে, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে। (সুরা ইনশিরাহ, আয়াত: ৫-৬)
পরীক্ষার সময়, যদি আমরা সঠিক মনোভাব রাখি, তবে আল্লাহ আমাদের জন্য মহান পুরস্কার প্রস্তুত করেছেন।

ঐতিহাসিক উদাহরণ: রসুল সা. এবং সাহাবিদের জীবনেও কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। মক্কায় ইসলাম প্রচারের ১৩ বছরে মাত্র কিছু মানুষ মুসলমান হয়েছিল, কিন্তু হিজরতের পর ইসলাম পুরো আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়েছিল। এ থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা কখনোই পরীক্ষা দেন না স্রেফ কষ্ট দেওয়ার জন্য, বরং তার পরিণতি মহান হয়।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সব পরীক্ষার সময় ধৈর্য এবং কৃতজ্ঞতা সহকারে তাঁর প্রতি আস্থা রাখার তৌফিক দিন।কেননা পরীক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাদের পরিশুদ্ধ করেন, তাঁদের গুনাহ মাফ করেন এবং পরকালে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সব পরিস্থিতিতে সহ্যশক্তি ও সঠিক মনোভাব রাখার ক্ষমতা দান করুন। আমিন।

 

ইসলাম ও জীবন

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন। ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে […]

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

নিউজ ডেস্ক

২৬ মে ২০২৬, ০৯:২৬

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন।

ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারেরও বেশি।

আজ ৯ জিলহজ, হজের মূল দিন। হাজিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের বিশাল এই সমতল ভূমি আজ সাদা এহরামে আচ্ছাদিত লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এক অনন্য দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

হাজিরা এখানে অবস্থান করে জিকির-আজকার, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটাবেন। একই সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং হজের খুতবা শুনবেন। এ বছর আরাফাতের মসজিদে নামিরায় হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে রাতযাপন করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপের জন্য কংকর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকেই।

পরদিন ১০ জিলহজ মিনায় গিয়ে হাজিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং তাওয়াফে জিয়ারত।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে গেলে শয়তান তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। সেই ঘটনার স্মরণেই হাজিরা জামরাতে প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন।

হজের শেষ পর্বে হাজিরারা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন। এর মাধ্যমেই শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে গতকাল সারাদিন ও রাত হাজিরা মিনায় অবস্থান করেন। লাখ লাখ তাঁবুর শহরে পরিণত হওয়া মিনায় তারা নামাজ, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটান।

পবিত্র হজ উপলক্ষে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফাসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার। মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

তীব্র গরমের মধ্যেও হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা ও আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, ড্রোন ক্যামেরা এবং তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে এবারের হজ ব্যবস্থাপনায়।

আন্তর্জাতিক

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন […]

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

নিউজ ডেস্ক

০৬ মে ২০২৬, ১৩:৫২

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন-

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন হার মানতে চাননি এবং জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি সুযোগ পেলে মমতাও জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতেন।

সাধারণত নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এবং তাকেই পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নিলে তিনি ফের শপথ নেন। নাহলে কুর্সি ছাড়তে হয়।

গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন-

আমরা তো হারিনি যে রাজভবনে যাব। হারলে আমি রেজিগনেশন দিতাম। এখন প্রশ্নই ওঠে না। জোর করে আমাদের হারানোর চেষ্টা হচ্ছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৬

ইসলাম ও জীবন

মাদরাসায় যৌন নির্যাতন রোধে কমিশন গঠন-মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শ : শায়েখ আহমাদুল্লাহ

মাদরাসাভিত্তিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন ও অনাচারের অভিযোগ বন্ধে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বক্তা শায়েখ আহমাদুল্লাহ। একইসঙ্গে এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে আলাদা কমিশন গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন পরামর্শ ও সুপারিশ […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১০:৫৪

মাদরাসাভিত্তিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন ও অনাচারের অভিযোগ বন্ধে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বক্তা শায়েখ আহমাদুল্লাহ। একইসঙ্গে এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে আলাদা কমিশন গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন পরামর্শ ও সুপারিশ দিয়ে আসছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে হজ সফরে থাকলেও দেশে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন এবং কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, মাদরাসায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রতিরোধে প্রতিটি কক্ষ সিসিটিভির আওতায় আনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা, আবাসন ও শ্রেণিকক্ষ আলাদা রাখা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক খাটের ব্যবস্থা জরুরি।

এছাড়া মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

শায়েখ দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা থাকলেও কখনও কখনও নিরপরাধ আলেম বা ইমামদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়। উদাহরণ হিসেবে ফেনীর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে ফরেনসিক পরীক্ষায় অভিযোগের সঙ্গে স্থানীয় ইমামের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, দেশের বড় ও পরিচিত মাদরাসাগুলোর তুলনায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট আবাসিক মাদরাসাগুলোতে এ ধরনের অভিযোগ বেশি শোনা যায়।

এ অবস্থায় হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার অধীনে আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠলে কমিশন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না পাওয়ার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হবে।

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ধরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন পরামর্শ ও সুপারিশ দিয়ে আসছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে হজ সফরে থাকলেও দেশে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন এবং কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, মাদরাসায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রতিরোধে প্রতিটি কক্ষ সিসিটিভির আওতায় আনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা, আবাসন ও শ্রেণিকক্ষ আলাদা রাখা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক খাটের ব্যবস্থা জরুরি।

এছাড়া মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

শায়েখ দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা থাকলেও কখনও কখনও নিরপরাধ আলেম বা ইমামদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়। উদাহরণ হিসেবে ফেনীর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে ফরেনসিক পরীক্ষায় অভিযোগের সঙ্গে স্থানীয় ইমামের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, দেশের বড় ও পরিচিত মাদরাসাগুলোর তুলনায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট আবাসিক মাদরাসাগুলোতে এ ধরনের অভিযোগ বেশি শোনা যায়।

এ অবস্থায় হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার অধীনে আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠলে কমিশন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না পাওয়ার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হবে।

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ধরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।