শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

স্বাধীনতাযুদ্ধে বাঙালি আলেমদের অমূল্য অবদান

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সংগ্রাম। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তির লড়াইয়ে কেবল সাধারণ মানুষ নয়, দেশের আলেম সমাজও ছিল অগ্রভাগে। তাদের অংশগ্রহণ ছিল একাধিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতার পর মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান ছিল সঙ্গতি ও সংগ্রামের নিদর্শন। স্বাধীনতা অর্জনে আলেমরা যেভাবে নেতৃত্ব […]

নিউজ ডেস্ক

১৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৮:৩৭

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সংগ্রাম। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তির লড়াইয়ে কেবল সাধারণ মানুষ নয়, দেশের আলেম সমাজও ছিল অগ্রভাগে। তাদের অংশগ্রহণ ছিল একাধিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতার পর মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান ছিল সঙ্গতি ও সংগ্রামের নিদর্শন।

স্বাধীনতা অর্জনে আলেমরা যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন ও নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তা আজও আমাদের প্রেরণা যোগায়। আজ আমরা তাদের সম্পর্কে জানবো ইনশাআল্লাহ ।

১. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সঙ্গী ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে তিনি সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে জনমত গঠনে অসামান্য ভূমিকা পালন করেন।

২. হাফেজ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন একজন হাফেজে কুরআন। তিনি যুদ্ধকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেন এবং দেশ মুক্তির লক্ষ্যে এক অগ্রণী নেতা হিসেবে কাজ করেন।

৩. শহীদ আলেম বুদ্ধিজীবী মাওলানা অলিউর রহমান
বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী একজন আলেম ছিলেন মাওলানা অলিউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে পুস্তিকা রচনা করতেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ তার অকাল শহীদ হন আলবদর বাহিনীর হাতে।

৪. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আলেমরা
মাওলানা উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ ও মাওলানা আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী দুই ভাই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কুরআনভিত্তিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সচেতন করেন।

৫. যোদ্ধা সংগ্রাহক মুফতি আব্দুস সোবহান
চট্টগ্রামের মুফতি আব্দুস সোবহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজ বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ প্রদান করেন। তিনি নিজে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন এবং তরুণদের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেন।

৬. গেরিলা যোদ্ধা মাওলানা আবদুর রহমান
কুমিল্লার মাওলানা আবদুর রহমান ছিলেন একজন গেরিলা যোদ্ধা। তিনি যুদ্ধের শুরুতে প্রশিক্ষণ নিয়ে একাধিক গেরিলা অভিযানে অংশ নেন ও দেশ স্বাধীন করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।

৭. লিফলেট বিতরণকারী মাওলানা আবু ইসহাক
রাঙামাটির মাওলানা আবু ইসহাক পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ করতেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনগণকে জাগ্রত করতেন। রাজাকার বাহিনী তাকে খুঁজতে শুরু করলে তিনি গভীর জঙ্গলে আত্মগোপন করেন।

৮. মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের অংশগ্রহণকারী মাওলানা আবদুস সোবহান
মাওলানা আবদুস সোবহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ গঠন করেন এবং তার নেতৃত্বে শতাধিক যোদ্ধা সংগ্রহ করা হয়।

৯. মাওলানা দলিলুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রাম
মাওলানা দলিলুর রহমান রাঙ্গুনিয়ায় প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকেই আলেম সমাজকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১০. মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সেনা কর্মকর্তা মাওলানা নূরুল আফসার
মাওলানা নূরুল আফসার ফেনী ও নাজিরহাট অঞ্চলের একাধিক মুক্তিযুদ্ধের অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এবং পরে সেনাবাহিনীতে যোগদান করে সার্জেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেন।

১১. মসজিদে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দানকারী মাওলানা মতিউল ইসলাম
নারায়ণগঞ্জের মিলনপাড়া মসজিদের ইমাম মাওলানা মতিউল ইসলাম যুদ্ধকালীন সময়ে মসজিদে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে তাদের সুরক্ষা প্রদান করেন।

১২. সংবাদ সংগ্রহকারী মাওলানা মির্জা মোহাম্মদ নূরুল হক
কুড়িগ্রামের মাওলানা মির্জা মোহাম্মদ নূরুল হক পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সংবাদ সংগ্রহ করতেন এবং যুদ্ধকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করতেন।

১৩. তিস্তা ব্রিজ দখলকারী মাওলানা আমজাদ হোসেন
মাওলানা আমজাদ হোসেন মুক্তিযুদ্ধের সময় তিস্তা ব্রিজ অপারেশনে অংশ নিয়ে দীর্ঘ ১৩ দিন যুদ্ধ করে ব্রিজটি দখল করেন।

১৪. প্রকাশ্যে জীবন উৎসর্গকারী মাওলানা আবুল হাসান
মাওলানা আবুল হাসান যশোর রেলস্টেশন মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন এবং পাকিস্তানি বাহিনী তার মাদরাসায় হামলা চালিয়ে তাকে শহীদ করে। তার আত্মত্যাগ দেশের স্বাধীনতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এইসব আলেমরা শুধুমাত্র ধর্মীয় নেতাই ছিলেন না, বরং তারা মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করতে তাদের জীবন উৎসর্গ করেন। তারা দেশে এবং বিদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি পদক্ষেপে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাদের অবদান আজও বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আলেম সমাজের এই সাহসিকতা ও ত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত, কেননা তারা প্রমাণ করেছেন, ধর্ম, জাতি, ও স্বাধীনতার সংগ্রামে কখনো কোনো বিভেদ হতে পারে না, বরং একসঙ্গে এগিয়ে চলা ছাড়া মুক্তি সম্ভব নয়।

ইসলাম ও জীবন

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা […]

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিলো।

খবরে জানা গেছে, সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার ভিসা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক বক্তব্যকারীদের প্রতি অস্টেলিয়া সরকারের কোনো সহনশীলতা নেই।

এ ছাড়া ডেইলি টেলিগ্রাফ শায়খ আহমদুল্লাহর ভিসা বাতিলের খবর নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, শায়খ আহমদুল্লাহ অতীতে ইহুদিদের ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার জন্য ইহুদিদের দায়ী করেন।

(আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে মেলবোর্নে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন।

মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া
তার ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল-তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগেই আজহারির মতো তাকেও অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হলো।

আন্তর্জাতিক

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন […]

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

নিউজ ডেস্ক

০৬ মে ২০২৬, ১৩:৫২

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন-

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন হার মানতে চাননি এবং জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি সুযোগ পেলে মমতাও জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতেন।

সাধারণত নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এবং তাকেই পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নিলে তিনি ফের শপথ নেন। নাহলে কুর্সি ছাড়তে হয়।

গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন-

আমরা তো হারিনি যে রাজভবনে যাব। হারলে আমি রেজিগনেশন দিতাম। এখন প্রশ্নই ওঠে না। জোর করে আমাদের হারানোর চেষ্টা হচ্ছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৯৭

ইসলাম ও জীবন

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন। ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে […]

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

নিউজ ডেস্ক

২৬ মে ২০২৬, ০৯:২৬

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন।

ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারেরও বেশি।

আজ ৯ জিলহজ, হজের মূল দিন। হাজিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের বিশাল এই সমতল ভূমি আজ সাদা এহরামে আচ্ছাদিত লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এক অনন্য দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

হাজিরা এখানে অবস্থান করে জিকির-আজকার, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটাবেন। একই সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং হজের খুতবা শুনবেন। এ বছর আরাফাতের মসজিদে নামিরায় হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে রাতযাপন করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপের জন্য কংকর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকেই।

পরদিন ১০ জিলহজ মিনায় গিয়ে হাজিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং তাওয়াফে জিয়ারত।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে গেলে শয়তান তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। সেই ঘটনার স্মরণেই হাজিরা জামরাতে প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন।

হজের শেষ পর্বে হাজিরারা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন। এর মাধ্যমেই শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে গতকাল সারাদিন ও রাত হাজিরা মিনায় অবস্থান করেন। লাখ লাখ তাঁবুর শহরে পরিণত হওয়া মিনায় তারা নামাজ, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটান।

পবিত্র হজ উপলক্ষে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফাসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার। মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

তীব্র গরমের মধ্যেও হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা ও আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, ড্রোন ক্যামেরা এবং তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে এবারের হজ ব্যবস্থাপনায়।