মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত মে মাসের পর এটিই তেলের সর্বোচ্চ দাম।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন করে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, সমুদ্রের তলদেশের কেবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ইন্টারঅ্যাকটিভ ইনভেস্টরের রিচার্ড হান্টার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক পথের পরিবর্তে ইরানে নতুন সামরিক অভিযান বিবেচনা করছে—এমন খবরই তেলের দাম বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। তাঁর মতে, স্বল্পস্থায়ী বলে ধারণা করা সংঘাত এখন অষ্টম মাসে গড়িয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার ছিল। সংঘাত তীব্র হওয়ার পর এপ্রিলের শেষ দিকে তা বেড়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছায়।
চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বুধবার হরমুজ প্রণালিতে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব থেকে কিছু মার্কিন কূটনীতিক ও সরকারি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানাহ স্ট্রিটার বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, এ সপ্তাহে সৌদি আরবের স্থাপনাগুলোতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বেড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সুসানাহ স্ট্রিটারের মতে, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এতে তেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?