ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করে সাতজন কৃষকের প্রায় ১০ বিঘা জমির ধান বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
এ ঘটনায় সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলো- রূপনারায়নপুর এলাকার ওবাইদুল ইসলাম (৫৫), এন্দাদুল হক (৫২), মো. বাবু (৩৮), মো. সাবু (৩২), মো. মজাই (৫৮), মো. মমিন (৩০) ও জিয়ারুল ইসলাম (৪০)। শুক্রবার সকালে একদল সাংবাদিক সরেজমিন রুপনারায়নপুর মাঠে গিয়ে ঘটনার সত্যতা দেখতে পান।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও মামলার বাদী মো. চানমদ্দীন জানান, সে সহ অপর কৃষক মামুন হোসেন, আমিনুল, রিয়াজ, মিজানুর, মাসুদ ও মোমিন রুপনারায়নপুর মৌজায় জেএল নং-১৮২ মোতাবেক ৭৬০ ও ২৫-২৩৪৫ নম্বর প্রস্তাবিত খতিয়ানভুক্ত ৩ দশমিক ১৭ একর সম্পত্তি ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে চাষাবাদ করে আসছেন এবং আমন মৌসুমে যথারীতি ধান রোপন করেছেন।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে ধানগাছে স্প্রে মেশিনের সাহায্যে ধানক্ষেতে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করেন। কীটনাশকের প্রভাবে জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁরা আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, জমিতে রাসায়নিক স্প্রে করাকালে স্থানীয় মিজানুর তা দেখে ফেললে দুষ্কৃতিকারী প্রতিপক্ষ বিপ্লব গং প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর রহমানকে ধাওয়া দিলে সে প্রাণ ভয়ে জমিতে লুকায় ও পরবর্তীতে কৌশলে পালিয়ে আসে।
ইতিপূর্বেও বিপ্লব গং চানমুদ্দীন গংদের জমির আলু-সরিষা বিনষ্ট করার অভিযোগে চানমুদ্দীনের দায়েরকৃত মামলায় আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তদন্তে বিপ্লব গং ইউপি চেয়ারম্যানের গ্রাম আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন এবং জরিমানা প্রদান করেন।
জমি-জমা নিয়ে আমাদেরকে চানমদ্দীন গং হয়রানি করছে এবং তাদের সাথে মামলা ও শত্রুতা রয়েছে মর্মে স্বীকার করে অভিযুক্ত বিপ্লব মুঠোফোনে বলেন, জমিগুলোর দাবীদার আমরাই, তারা আমাদের জমিতে জোর করে ধান লাগিয়েছে এবং চানমুদ্দীন গং আমাদের মামলা দিয়ে হয়রানী করছে, আমরা কারও জমিতে স্প্রে করিনি, তারা আমাদের হয়রানী করতে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
ধামইরহাট থানার ওসি মো. মিন্টু রহমান বলেন, কেউ সম্পত্তির আইনগত বৈধ মালিক হলে সে ফসল দাবী করতেই পারে, কিন্তু কারও ফসল ধ্বংস করা ফৌজদারী ও দন্ডনীয় অপরাধ, বাদী অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।