ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে টেলিফোনে কড়া কথা শুনিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে সম্বোধন করেছেন। বলেছেন, নেতানিয়াহু এখন সবার কাছে অপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
ইরানের সঙ্গে তিন মাস ধরে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনা ইতি টানতে যুক্তরাষ্ট্র যখন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন লেবাননে ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার (১ জুন) নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপ করেন ট্রাম্প।
এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তাদের সামরিক বাহিনী লেবাননে অভিযান আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ফোনে নেতানিয়াহুর ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। দুই নেতার ফোনালাপের বিষয়ে জানেন, এমন দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানায়, কথা বলার সময় নেতানিয়াহুকে সরাসরি ‘পাগল’ বলেন ট্রাম্প। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ‘অকৃতজ্ঞ’ও বলেন তিনি।
ওই মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, কথোপকথনে বেশ নরম সুরে নেতানিয়াহুকে কড়া কথা শুনিয়ে দেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘এখন সবাই আপনাকে ঘৃণা করে। এ কারণে (যুদ্ধ) সবাই ইসরায়েলকেও ঘৃণা করে।’
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কথোপকথনের এক পর্যায়ে বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ট্রাম্প। তিনি নেতানিয়াহুর ওপর রীতিমতো চিৎকার করে ওঠেন।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে বেশ কয়েকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। কিন্তু এবারের কথোপকথন ছিল বেশ ‘উত্তপ্ত ও তিক্ত’।
সিএনএন জানিয়েছে, ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প তাঁর ইসরায়েলি মিত্রকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তিনি অতীতে নেতানিয়াহুকে বিভিন্ন বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেন, লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখলে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
অ্যাক্সিওসে প্রকাশিত ট্রাম্প আর নেতানিয়াহুর উত্তপ্ত ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে এ ফোনালাপকে তিনি ‘ফলপ্রসূ’ বলেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অন্যের ওপর হামলা চালানো বন্ধ করবে। ইসরায়েলি বাহিনীও বৈরুতের দিকে অগ্রসর হবে না।
পরে নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লেবানন থেকে যদি ইরান সমর্থক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে ইসরায়েলও বৈরুতে হামলা চালাবে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ইসরায়েল অবস্থান পরিবর্তন করেনি। আর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযান পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?