মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ফিচার

হত্যা মামলাসহ, ৯ মামলার আসামি মুক্তিযোদ্ধা ‘জুতার মালা’য় হিরো

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে একজন বয়স্ক মানুষকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হচ্ছে। তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়, এবং এর মধ্যে কিছু লোক তাকে জুতার মালা পরিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে। ভিডিওটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের একটি ঘটনার এবং এতে দেখা যায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি, আবদুল হাই ওরফে কানু (৭৮), যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:০৪

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে একজন বয়স্ক মানুষকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হচ্ছে। তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়, এবং এর মধ্যে কিছু লোক তাকে জুতার মালা পরিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে। ভিডিওটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের একটি ঘটনার এবং এতে দেখা যায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি, আবদুল হাই ওরফে কানু (৭৮), যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। ভিডিওটি ধারণ করে রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। জানা যায়, আবদুল হাই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তার প্রতিপক্ষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিছু গণমাধ্যম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবদুল হাইয়ের পরিচয়কে সামনে এনে এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছে। তাদের মতে, একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, মুক্তিযোদ্ধা না হলে কি এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য হতো?

অতীতেও বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত করার নজির রয়েছে। ১৯৯৯ সালে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ যে ভাবে হেনস্তা করেছিল, তা অনেকেরই মনে আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শত শত মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ। এমনকি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকেও ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকাকে দেশে মরার সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি হাসিনা সরকার।

প্রশ্ন হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধা হওয়া কি কারো জন্য সাত খুন মাফের সুযোগ সৃষ্টি করে? নাকি সাধারণ নাগরিকদের প্রতি এমন আচরণও সমানভাবে নিন্দাযোগ্য? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের সবার কাছ থেকে সমান দৃষ্টিভঙ্গি আশা করা উচিত।

 

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একযুগ আগে একটি অনুষ্ঠানের খাবার টেবিল থেকে জামায়াত অনুসারি একজন ব্যবসায়ীকে জোর করে তুলে এলাকাছাড়া করেছিল মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই ওরফে কানু। অতপর জামায়াতের ওই ব্যবসায়ী বহু বছর গ্রামের ফিরতে পারেননি। এমনকি স্থানীয় জামায়াতের কয়েকজন নেতাকে এলাকাছাড়া করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতা কানু।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুল হাই ওরফে কানুকে তার এলাকার কিছু মানুষ অপমানিত করে জুতার মালা পরায় এবং এলাকা ছাড়ার জন্য হুমকি দেয়। কানু তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে চুপচাপ এই লাঞ্ছনা মেনে নেন, যা অনেকটা একজন অপরাধীর শাস্তি গ্রহণের মতো। যদিও এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়, প্রশ্ন উঠেছে যে, যারা আওয়ামী লীগ শাসনামলে কানুর অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন, তাদের প্রতিশোধস্পৃহা কি এই ঘটনার পেছনে কাজ করেছে?

গণমাধ্যমে কানুর অতীতের অপকর্ম আড়াল করে তাকে শুধু বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, “গণমাধ্যমের উপস্থাপন দেখে মনে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরানো অপরাধ, কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে তা ঠিক। আওয়ামী লীগ শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনেকেই নৈতিকতা হারিয়েছেন। কানুর মতো অনেক মুক্তিযোদ্ধা ক্রিমিনাল কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং শেখ হাসিনার শাসনকে সমর্থন দিয়েছেন।”

কানুর পরিবারের অভিযোগ, তাকে লাঞ্ছিত করা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের কাজ। ঘটনাটি ঘটার পর কানু অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কানু দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নিজ দলের লোকদের অত্যাচারের শিকার হন। এক সময় তিনি চৌদ্দগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ও রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের সমর্থনে রাজনীতি করলেও পরে তার বিরোধিতায় চলে যান। মুজিবুলের পক্ষে থাকাকালে তিনি প্রতিপক্ষ নেতাদের ওপর অত্যাচার চালান এবং ধান্দাবাজি করে অর্থ উপার্জন করেন। তার অপকর্মের কারণে এলাকার মানুষ তাকে নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল। পরে, মুজিবুলের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হওয়ায় তিনি নিজেও হামলা ও অত্যাচারের শিকার হন এবং প্রায় আট বছর এলাকাছাড়া ছিলেন।

4o

৫ আগষ্ট হাসিনা পালানোনর পর থেকে তিনি বাড়িতে থাকছেন। গত রোববার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরই তাঁকে আটক করেন একদল লোক। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে তাঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়। লাঞ্ছিতকারীরাই ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে রাতে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দিয়ে দেখা যায়, দুজন ব্যক্তি জুতার মালা পরা অবস্থায় কানুকে টানাহেঁচড়া করছেন। তাঁকে লাঞ্ছিত করা ব্যক্তিদের একজনই পুরো ঘটনার ভিডিও করেছেন। এ সময় কানু কোনো প্রতিবাদ করেননি বারবার তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানান।

আবদুল হাই কানুর ছেলে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, হামলাকারীরা সকলেই স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের চিহ্নিত নেতা-কর্মী। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে লাঞ্ছিত করা হলো, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে কার কাছে বিচার চাইব?

এ প্রসঙ্গে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাহফুজুর রহমান বলেন, ওসি সাহেব আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো না। আমরা ঘটনাটির খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। জামায়াত ও শিবিরের কোনো নেতা-কর্মী এই ঘটনায় জড়িত হয়ে থাকলে আমরা অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম আক্তার উজ জামান বলেন, ‘ভিডিওটি দেখে আমি ওই ব্যাক্তির সঙ্গে দুইবার কথা বলেছি। তিনি কোনো অভিযোগ করতে রাজি হচ্ছেন না। বলছেন তিনি অভিযোগ করলে এলাকায় থাকতে পারবেন না, আর থানা পুলিশকেও ঝামেলায় ফেলতে চান না। তবে ওসি বলেন, আমরা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে চৗদ্দগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাকে মানহানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনা তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আবদুল হাই হত্যাসহ ৯টি মামলার আসামি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সবাইকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বক্তব্য দেখে মনে হচ্ছে তারা সুবোধ বালকের ভুমিকায় অবর্তীর্ণ হয়েছেন। হাসিনা রেজিমে মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন করা আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা। তাকে গ্রেফতার দূরের কথা তিনি মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় তার পক্ষ নিচ্ছে অন্তর্র্বর্তী সরকার! দীর্ঘ ১৫ বছর যারা জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এলাকায় থাকতে পারেননি; ভারতের তাবেদার হাসিনা হটানোর আন্দোলন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা অন্তর্বর্তী সরকারের যেন তর সইছে না। এটা ঠিক মুক্তিযোদ্ধারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট সন্তান। কিন্তু তারা যদি অপরাধ করেন? শেখ হাসিনা কি মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসিতে ঝুলায়নি?

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।