সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ফিচার

হত্যা মামলাসহ, ৯ মামলার আসামি মুক্তিযোদ্ধা ‘জুতার মালা’য় হিরো

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে একজন বয়স্ক মানুষকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হচ্ছে। তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়, এবং এর মধ্যে কিছু লোক তাকে জুতার মালা পরিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে। ভিডিওটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের একটি ঘটনার এবং এতে দেখা যায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি, আবদুল হাই ওরফে কানু (৭৮), যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:০৪

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে একজন বয়স্ক মানুষকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হচ্ছে। তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়, এবং এর মধ্যে কিছু লোক তাকে জুতার মালা পরিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে। ভিডিওটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের একটি ঘটনার এবং এতে দেখা যায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি, আবদুল হাই ওরফে কানু (৭৮), যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। ভিডিওটি ধারণ করে রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। জানা যায়, আবদুল হাই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তার প্রতিপক্ষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিছু গণমাধ্যম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবদুল হাইয়ের পরিচয়কে সামনে এনে এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছে। তাদের মতে, একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, মুক্তিযোদ্ধা না হলে কি এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য হতো?

অতীতেও বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত করার নজির রয়েছে। ১৯৯৯ সালে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ যে ভাবে হেনস্তা করেছিল, তা অনেকেরই মনে আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শত শত মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ। এমনকি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকেও ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকাকে দেশে মরার সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি হাসিনা সরকার।

প্রশ্ন হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধা হওয়া কি কারো জন্য সাত খুন মাফের সুযোগ সৃষ্টি করে? নাকি সাধারণ নাগরিকদের প্রতি এমন আচরণও সমানভাবে নিন্দাযোগ্য? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের সবার কাছ থেকে সমান দৃষ্টিভঙ্গি আশা করা উচিত।

 

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একযুগ আগে একটি অনুষ্ঠানের খাবার টেবিল থেকে জামায়াত অনুসারি একজন ব্যবসায়ীকে জোর করে তুলে এলাকাছাড়া করেছিল মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই ওরফে কানু। অতপর জামায়াতের ওই ব্যবসায়ী বহু বছর গ্রামের ফিরতে পারেননি। এমনকি স্থানীয় জামায়াতের কয়েকজন নেতাকে এলাকাছাড়া করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতা কানু।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুল হাই ওরফে কানুকে তার এলাকার কিছু মানুষ অপমানিত করে জুতার মালা পরায় এবং এলাকা ছাড়ার জন্য হুমকি দেয়। কানু তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে চুপচাপ এই লাঞ্ছনা মেনে নেন, যা অনেকটা একজন অপরাধীর শাস্তি গ্রহণের মতো। যদিও এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়, প্রশ্ন উঠেছে যে, যারা আওয়ামী লীগ শাসনামলে কানুর অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন, তাদের প্রতিশোধস্পৃহা কি এই ঘটনার পেছনে কাজ করেছে?

গণমাধ্যমে কানুর অতীতের অপকর্ম আড়াল করে তাকে শুধু বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, “গণমাধ্যমের উপস্থাপন দেখে মনে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরানো অপরাধ, কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে তা ঠিক। আওয়ামী লীগ শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনেকেই নৈতিকতা হারিয়েছেন। কানুর মতো অনেক মুক্তিযোদ্ধা ক্রিমিনাল কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং শেখ হাসিনার শাসনকে সমর্থন দিয়েছেন।”

কানুর পরিবারের অভিযোগ, তাকে লাঞ্ছিত করা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের কাজ। ঘটনাটি ঘটার পর কানু অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কানু দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নিজ দলের লোকদের অত্যাচারের শিকার হন। এক সময় তিনি চৌদ্দগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ও রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের সমর্থনে রাজনীতি করলেও পরে তার বিরোধিতায় চলে যান। মুজিবুলের পক্ষে থাকাকালে তিনি প্রতিপক্ষ নেতাদের ওপর অত্যাচার চালান এবং ধান্দাবাজি করে অর্থ উপার্জন করেন। তার অপকর্মের কারণে এলাকার মানুষ তাকে নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল। পরে, মুজিবুলের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হওয়ায় তিনি নিজেও হামলা ও অত্যাচারের শিকার হন এবং প্রায় আট বছর এলাকাছাড়া ছিলেন।

4o

৫ আগষ্ট হাসিনা পালানোনর পর থেকে তিনি বাড়িতে থাকছেন। গত রোববার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরই তাঁকে আটক করেন একদল লোক। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে তাঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়। লাঞ্ছিতকারীরাই ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে রাতে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দিয়ে দেখা যায়, দুজন ব্যক্তি জুতার মালা পরা অবস্থায় কানুকে টানাহেঁচড়া করছেন। তাঁকে লাঞ্ছিত করা ব্যক্তিদের একজনই পুরো ঘটনার ভিডিও করেছেন। এ সময় কানু কোনো প্রতিবাদ করেননি বারবার তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানান।

আবদুল হাই কানুর ছেলে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, হামলাকারীরা সকলেই স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের চিহ্নিত নেতা-কর্মী। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে লাঞ্ছিত করা হলো, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে কার কাছে বিচার চাইব?

এ প্রসঙ্গে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাহফুজুর রহমান বলেন, ওসি সাহেব আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো না। আমরা ঘটনাটির খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। জামায়াত ও শিবিরের কোনো নেতা-কর্মী এই ঘটনায় জড়িত হয়ে থাকলে আমরা অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম আক্তার উজ জামান বলেন, ‘ভিডিওটি দেখে আমি ওই ব্যাক্তির সঙ্গে দুইবার কথা বলেছি। তিনি কোনো অভিযোগ করতে রাজি হচ্ছেন না। বলছেন তিনি অভিযোগ করলে এলাকায় থাকতে পারবেন না, আর থানা পুলিশকেও ঝামেলায় ফেলতে চান না। তবে ওসি বলেন, আমরা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে চৗদ্দগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাকে মানহানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনা তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আবদুল হাই হত্যাসহ ৯টি মামলার আসামি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সবাইকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বক্তব্য দেখে মনে হচ্ছে তারা সুবোধ বালকের ভুমিকায় অবর্তীর্ণ হয়েছেন। হাসিনা রেজিমে মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন করা আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা। তাকে গ্রেফতার দূরের কথা তিনি মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় তার পক্ষ নিচ্ছে অন্তর্র্বর্তী সরকার! দীর্ঘ ১৫ বছর যারা জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এলাকায় থাকতে পারেননি; ভারতের তাবেদার হাসিনা হটানোর আন্দোলন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা অন্তর্বর্তী সরকারের যেন তর সইছে না। এটা ঠিক মুক্তিযোদ্ধারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট সন্তান। কিন্তু তারা যদি অপরাধ করেন? শেখ হাসিনা কি মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসিতে ঝুলায়নি?

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।