রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে দুপুরের দিকে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট এবং ছাত্রশিবির সমর্থক প্রার্থীরা অভিযোগ তুলেছেন যে, ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের এনে নির্বাচনকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন এবং তার সঙ্গে স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপি-সমর্থক নেতাকর্মীরা রয়েছেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পূর্বে জানিয়েছিল বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রতিনিধিরা তাদের অভিযোগ উত্থাপন করেন। প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মুস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “বিভিন্ন কেন্দ্রে ছাত্রদল কর্মীরা চিরকুট দিয়ে ভোটারদের কেন্দ্র প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, যদিও নির্বাচন কমিশন আগে জানিয়েছিল প্রচারপত্র ও চিরকুট নিয়ে কেন্দ্র প্রবেশ করা যাবে।”
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ফাহিম রেজা দাবী করেন, “কয়েকটি স্থানে ছাত্রদল ও বিএনপির বহিরাগতরা প্রবেশ করেছে। তারা গুজব ছড়াচ্ছে। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।” তিনি আরও বলেন, “ভোটাররা ভুলবশত চিরকুট বুথে রেখে আসলেও সংশ্লিষ্টরা তা অপসারণ করা উচিত। কিন্তু এখনও কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”
অন্যদিকে, ছাত্রদল-সমর্থক প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন (আবীর) অভিযোগ করেছেন যে, একটি কেন্দ্রে “পোলিং এজেন্টদের ছবিসহ ভোটার তালিকা দেখতে দেওয়া হয় নি।”
তিনি দাবি করেন, এ ধরনের বাধা ভোটার শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রচুর নিরাপত্তা থাকলেও কিছু কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে ২ হাজার পুলিশ ও ১৮ প্লাটুন র্যাব-বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে নির্বাচনকালের নিরাপত্তার জন্য।
এই অভিযোগ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে এবং কোনো ধরনের প্রভাব বা গুপ্তহস্তক্ষেপ হবে না।