চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।
গত বছর এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫১টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ৮৩টি প্রতিষ্ঠান বেড়ে এবার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৪-এ। বিষয়টি শিক্ষা প্রশাসন ও অভিভাবক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ছাড়াও মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একযোগে ফল প্রকাশ করা হয়। সারা দেশের ৩ হাজার ৭১৪টি কেন্দ্রে মোট ৩০ হাজার ৮৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন।
তবে আশার আলোও আছে—৯৮৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। যদিও গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২৯৬৮টি, যা থেকে স্পষ্ট যে শতভাগ পাস করা স্কুল-মাদ্রাসার সংখ্যাও কমেছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবীর বলেন, ফলাফল তৈরিতে এবার ‘বাস্তব মূল্যায়ন’ নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১০ এপ্রিল, শেষ হয় ১৩ মে। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কম।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের এমন ঊর্ধ্বমুখী সংখ্যা শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।