বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

ডিআইইউ শিক্ষার্থীর মৃত্যু ; দুর্ঘটনা,খুন নাকি অন্যকিছু?

ডিআইইউ প্রতিনিধি : ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫৩ ব্যাচের (২য় শিফটের) মেধাবী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান (২৭) ফোন খুঁজতে যেয়ে নিহত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এটা কি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্নহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড? (১৯ মে সোমবার) রাত ১২ টা থেকে ২ টার এর মধ্যে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেলের ১২৫ নাম্বার পিলারে কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে ছিলো। […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ মে ২০২৫, ২১:৪৫

ডিআইইউ প্রতিনিধি :

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫৩ ব্যাচের (২য় শিফটের) মেধাবী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান (২৭) ফোন খুঁজতে যেয়ে নিহত হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে এটা কি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্নহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড?

(১৯ মে সোমবার) রাত ১২ টা থেকে ২ টার এর মধ্যে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেলের ১২৫ নাম্বার পিলারে কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে ছিলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিয়াবাড়ি থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী সকালে কুর্মিটোলা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরে, ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। পরে পল্লবী থানায় লাশ হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

জানা যায় মাহমুদুলের গ্রামে বাড়ি নওগাঁর সাপাহার আশড়ন্দে এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং আবাসিক হলে থাকতেন। 

মাহমুদুল হাসান যে হোস্টেলে থাকতো সেই হোস্টেলের কেয়ার টেকার লিটন জানান, সকাল আনুমানিক ১১ টার দিকে মাহমুদুল হোস্টেল থেকে বাহিরে যান তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করি কোথায় যাচ্ছেন। মাহমুদুল হাসান বলেন তার ফোন হারিয়ে গেছে সেই ফোন খোঁজার জন্য বের হচ্ছি। তারপর সে আর হোস্টেলে ফিরে আসেনি। তিনদিন পর জানতে পারলাম সে মারা গেছে। এ মৃত্যুর স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না বলেও জানান তিনি।

এদিকে হোস্টেলের সিভিল বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, এই মৃত্যু কখনো স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না। ফোন হারিয়ে যাবার পরের তিন দিন পর্যন্ত সে কোথায় ছিল? এই প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে। 

মাহমুদুল হাসানের রুমমেট সাদিক বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে আমি রুমে আসি। আসার পর দেখি মাহমুদুল ভাই যে নিজের সাথেই একা একা কথা বলছে। আমার কাছে বিষয়টা অস্বাভাবিক, সন্দেহজনক এবং কোন সমস্যা আছে মনে হলো। আমি এসব প্রশ্ন করতেই তিনি অস্বীকার করলেন। পরে ঘুমানোর আগে তিনি ফোনে কার সাথে যেন কথা বললেন। ঘুম থেকে ওঠার পর আমাকে বলতেছে আমার ফোন নাকি হারিয়ে গেছে এটা খুঁজতে বাহিরে যাচ্ছি। এই বলে সে চলে গেল এই মৃত্যুটা আমার কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না। 

এদিকে তার মৃত্যুর ঘটনায় সঠিক তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম চাঁদ বলেন, ফোন খোঁজতে যে নিখোঁজ হওয়া এবং তার মৃত্যু কখনো স্বাভাবিক হতে পারে না। নিখোঁজ হওয়ার পরের তিনদিন সে কোথায় ছিল সেই প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন করা হোক। 

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল বাসেত বলেন, আমি সকাল দশটার দিকে এক্সিডেন্টের কথা জানতে পারি। পরে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মাজেদুল ইসলাম এবং ডিপার্টমেন্টের কো-অর্ডিনেটর আবিদ হাসানকে সেখানে যেতে বলি এবং তারা আমাকে মৃত্যুর খবরটি দুপুর ১২ টায় নিশ্চিত করে। আমরা ডিপার্টমেন্ট, ভিসি এবং বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের সাথে কথা বলে আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করব। 

সহকারী প্রক্টর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর আতিকুল ইসলাম মামুন বলেন, ঘটনাটা জানতে পারি সকাল দশটার দিকে ডক্টরস স্যারকে বিষয়টি অবহিত করি। প্রক্টর স্যার আমাকে থানায় যেতে বলেন। থানার এসআই মনির ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে অ্যাক্সিডেন্ট বলে নিশ্চিত করেন। তিনি আরো বলেন, ঘটনাটির সঠিক ব্যাখ্যা জানতে হলে ময়না তদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ হাজার টাকা সহয়তা করেছে। পরবর্তীতে কি হবে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিবেন।

এদিকে নিহত মাহমুদুল হাসানের পিতা ইদ্রিস আলী মাস্টার বলেন, আমার ছেলে মাহমুদুল ঢাকাতে মারা গেছে, এক্সিডেন্ট নাকি খুন হয়েছে আমরা বলতে পারবো নাহ। আমরা ঢাকা যেতে পারি নাই। আমার চাচাতো ভাই রবিউল মাহমুদুলের লাশ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসছে। রাতেই আমরা মাহমুদুলের লাশ দাফন করি। যেহেতু আমার ছেলে দুনিয়াতে নেই, এখন আমরা বিচার চাই নাহ।

পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, কুর্মিটোলা মেডিকেলে একটা লাশ এসেছে এমন সংবাদ পেয়ে দ্রুত একটা টিম যায় সেখানে। গিয়ে দেখতে পায় কিছু লোক তাকে রেখে চলে গেছে। ডাক্তার আমাদের প্রাথমিক ভাবে বলেন এটা এক্সিডেন্ট হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। পরবর্তীতে আমরা লাশের পরিচয় পাই। পোস্টমডেম শেষে লাশ তার আত্নীয় রবিউলের কাছে বুঝে দেওয়া হয়। এখনও তার পরিবার থেকে কোন মামলা করেনি।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

মুখে কালো কাপড় বেঁধে ক্লাস নিলেন ঢাবি অধ্যাপক সামিনা লুৎফা

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা এবং কথা বলা ও ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষকদের হেনস্তার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা। রোববার (১১ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব অবস্থানে থেকে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। এ সময় তিনি শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবসহ […]

মুখে কালো কাপড় বেঁধে ক্লাস নিলেন ঢাবি অধ্যাপক সামিনা লুৎফা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৫

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা এবং কথা বলা ও ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষকদের হেনস্তার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা।

রোববার (১১ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব অবস্থানে থেকে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। এ সময় তিনি শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবসহ একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শিকার শিক্ষকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক সামিনা লুৎফা তার প্রতিবাদের কথা জানান। তিনি লেখেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা নস্যাতের পরিকল্পিত চক্রান্ত শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সম্পর্কের আস্থা নষ্ট করছে। কথা বলা বা ভিন্নমত প্রকাশের কারণে যেসব শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তাঁদের প্রতি সংহতি জানাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ প্রতিবাদ করেছেন।

পোস্টে তিনি আরও জানান, সেদিন ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের আচরণবিধি বা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ নির্ধারণ করেছেন। অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে কী করা যাবে বা যাবে না এবং মতবিরোধ তৈরি হলে তা কীভাবে নিরসন করা হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এরপর পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে বসে থাকেন।

শিক্ষকদের অধিকার ও একাডেমিক স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে সামিনা লুৎফা ইংরেজিতে দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘শিক্ষকদেরও অধিকার আছে।’ একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়া, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা এবং প্রশ্ন, ভিন্নমত বা রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের কারণে শিক্ষকদের হয়রানি করে তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টার বিরুদ্ধে সংহতি জানান তিনি।

নিজের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন, অসৎ উদ্দেশ্যে ভুল সংবাদ প্রকাশ এবং অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে ধারণ করা নিয়েও আপত্তি জানান এ অধ্যাপক। তার ভাষ্য, শ্রেণিকক্ষের ভেতরে কোনো আচরণ বা আলোচনা নিয়ে একাডেমিক পরিসরে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। সেখানে মতের অমিল থাকলেও পরস্পরের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে সহাবস্থান করা গ্রহণযোগ্য আচরণ।

পোশাকের ক্ষেত্রেও কোনো নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মেনে চলতে বাধ্য হতে চান না বলে পোস্টে উল্লেখ করেন সামিনা লুৎফা। একই স্বাধীনতা শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা করেন তিনি। নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের ধরন যতই নিন্দনীয় হোক, তিনি ভয় পান না।

পোস্টে তাসনিম সিরাজ মাহবুবের পাশাপাশি লায়েকা বশীরসহ একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শিকার শিক্ষকদের প্রতি সংহতি জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে সুস্থ আলোচনা, মতবিনিময় ও নিজ নিজ বিষয়ে গভীরতর জ্ঞান অর্জনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ‘রিক্লেইম ক্লাসরুম’ বা শ্রেণিকক্ষের অধিকার পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরা এক ছাত্রীকে কেন্দ্র করে সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে আলোচনাকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর ৮ অক্টোবর জরুরি সভা ডেকে তাসনিম সিরাজকে বিভাগের সব ধরনের পাঠদান কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।