শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

উখিয়ায় পরপর তিন ছেলেকে হ/ত্যা, বিচার না পাওয়ায় হতাশ পরিবার

দৈনিক সকাল কক্সবাজার: ‎বৃদ্ধার নাম গোলজার বেগম (৬৬)। এক যুগ আগে তাঁর স্বামী ছিদ্দিক আহমদের মৃত্যু হয়। তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর চার ছেলে তিন মেয়ে নিয়ে বৃদ্ধার নতুন জীবন শুরু। কিন্তু ভোটের রাজনীতি তাঁর সংসার তছনছ করে দিল। ১০ বছরের মাথায় গোলজার হারিয়ে ফেলেন তিন সন্তানকে। ‎১১ ডিসেম্বর দুপুরে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:৫৪

দৈনিক সকাল কক্সবাজার:

‎বৃদ্ধার নাম গোলজার বেগম (৬৬)। এক যুগ আগে তাঁর স্বামী ছিদ্দিক আহমদের মৃত্যু হয়। তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর চার ছেলে তিন মেয়ে নিয়ে বৃদ্ধার নতুন জীবন শুরু। কিন্তু ভোটের রাজনীতি তাঁর সংসার তছনছ করে দিল। ১০ বছরের মাথায় গোলজার হারিয়ে ফেলেন তিন সন্তানকে।

‎১১ ডিসেম্বর দুপুরে ছিদ্দিক মেম্বারের ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল নারীকণ্ঠের বিলাপের সুর। দুই কানি জমির ওপর টিনশেডের পুরোনো ভিটেবাড়ি। সাত মাস আগে ঘরের একটি অংশ ভেঙে পাকা ছাদ নির্মাণ করেন তাঁর ছেলে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামাল হোসাইন (৪২)। ১৫ দিন পর মাকে নিয়ে নতুন পাকা বাড়িতে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই দুর্বৃত্তরা কামাল হোসাইনকে হত্যা করে লাশ গুম করে। ভিটাতে দুই শতাধিক সুপারি ও কয়েকটি নারকেলগাছ। শীতের ঠান্ডা পরিবেশ ও উত্তরের হাওয়ায় নারীকণ্ঠের বিলাপ ভেসে বেড়ায়, মানুষের মনে দাগ কাটে। কিন্তু বৃদ্ধার মনের অশান্তি দূর করার কিংবা বিলাপ থামানোর কেউ নেই।

‎‘বাড়িতে কেউ আছেন’ বলে ডাক দিতেই ছুটে আসেন গোলজার বেগম। সঙ্গে নিহত কামালের স্ত্রী ও দুই নাতি। বাড়িতে নারী-শিশু ছাড়া কোনো পুরুষ নেই। পরিচয় পাওয়ার পর গোলজার বেগম ভেতর থেকে নিহত তিন ছেলের বাঁধাই করা তিনটি ছবি নিয়ে এলেন। বললেন, ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা একে একে আমার এই তিন ছেলেকে হত্যা করেছে। খুনিরা সবাই এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। তাদের বিচার হয় না।’

‎পরপর খুন তিন ছেলে

‎নিহত তিনজনের বাবা ছিদ্দিক আহমদ এলাকায় নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দুবার ইউপি সদস্য হন তাঁর ছেলে কামাল হোসাইন। মূলত নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরেই কামালসহ ছিদ্দিকের তিন ছেলে হত্যার শিকার হন।

‎গত ৮ জুলাই দুপুরে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামাল হোসাইনের মরদেহ মনখালী গ্রামের একটি খাল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত কামালের ছোট ভাই সাহাব উদ্দিন বাদী হয়ে ১১ জুলাই উখিয়া থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন মনখালী গ্রামের আবদুর রহিম, তোফাইল আহমদ, জুহুর আহমদ চৌধুরী, শরিফুল হক সাগর, জহির আহমদ, নুরুল বশর, মোহাম্মদ রিদুয়ান ও শরিফুল ইসলাম নাহিদ। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় কয়েক দফা মানববন্ধন-প্রতিবাদ সমাবেশ করেন স্থানীয় লোকজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আসামি ধরা পড়েনি।

‎এর আগে ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই ছিদ্দিকের বড় ছেলে জসিম উদ্দিনকে হত্যা করে মেরিন ড্রাইভের পূর্ব পাশে সাগরপাড়ে ফেলে রাখে। এ ঘটনায়ও সাহাবউদ্দিন বাদী অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। পুলিশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ দমন বিভাগ (সিআইডি) চট্টগ্রামে তদন্তাধীন। জসিম হত্যার তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ছিদ্দিক আহমদের মেজ ছেলে জিয়া উদ্দিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তবে পরিবারের দাবি, তাঁকেও হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

‎ছিদ্দিক আহমদের বড় ছেলে জসিম উদ্দিনের হত্যার ঘটনায় মামলা করার পর থেকে আসামিরা তাঁর অপর দুই ছেলে সাহাবউদ্দিন ও ইউপি সদস্য কামালকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। সাহাব উদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়। তখন আসামিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ৮ জুলাই কামাল হোসাইনকে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে রাখে তারা

‎কামাল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার এসআই দুর্জয় সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ১১ জুলাই থেকে অন্তত ২০ দিন তিনি মামলার তদন্তকাজ পরিচালনা করেন। ওই সময়ে তিনি কামাল হত্যার নেপথ্যে কোনো সূত্র খুঁজে পাননি। কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করাও সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

‎এ প্রসঙ্গে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ইমন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, তিন মাসে তদন্তের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসেনি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। ইমন চৌধুরী বলেন, মামলার আসামিরা সবাই হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন। সে জন্য গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।

‎নিহত তিনজনের বাবা ছিদ্দিক আহমদ এলাকায় নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দুবার ইউপি সদস্য হন তাঁর ছেলে কামাল হোসাইন। মূলত নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরেই কামালসহ ছিদ্দিকের তিন ছেলে হত্যার শিকার হন।

‎খুনের পেছনে কারা

‎স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনকে ঘিরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বাদী ও আসামিরা পরস্পরের নিকটাত্মীয়। নিহত কামালের ভাগনে আকিল রানা বলেন, ২০১৭-১৮ সালে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে লড়েন সুলতান আহমদ ও কামাল হোসাইন। সুলতান নিহত কামালের চাচাতো ভাই। তখন আরেক চাচাতো ভাই জহুর আহমদ সুলতানের পক্ষে নির্বাচন করেন। সেই থেকে কামালের পরিবারের সঙ্গে জহুর আহমদ ও সুলতানের পরিবারের বিরোধ শুরু।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মনখালী গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি জানান, ২০২১ সালে কামাল হোসাইন ইউপি সদস্য পদে প্রার্থী হন। তখন অসুস্থতার কারণে সুলতান প্রার্থী হতে পারেননি। কিন্তু সুলতান ও জহুর আহমদের পরিবার কামালের বিরোধিতা করে মোহাম্মদ মুসার পক্ষে মাঠে নামে। বিপুল ভোটে মেম্বার নির্বাচিত হন কামাল হোসাইন। এরপর দুই পক্ষের বিরোধ চরম পর্যায়ে যায়। শুরু হয় খুনের রাজনীতি।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।