শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

উখিয়ায় পরপর তিন ছেলেকে হ/ত্যা, বিচার না পাওয়ায় হতাশ পরিবার

দৈনিক সকাল কক্সবাজার: ‎বৃদ্ধার নাম গোলজার বেগম (৬৬)। এক যুগ আগে তাঁর স্বামী ছিদ্দিক আহমদের মৃত্যু হয়। তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর চার ছেলে তিন মেয়ে নিয়ে বৃদ্ধার নতুন জীবন শুরু। কিন্তু ভোটের রাজনীতি তাঁর সংসার তছনছ করে দিল। ১০ বছরের মাথায় গোলজার হারিয়ে ফেলেন তিন সন্তানকে। ‎১১ ডিসেম্বর দুপুরে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:৫৪

দৈনিক সকাল কক্সবাজার:

‎বৃদ্ধার নাম গোলজার বেগম (৬৬)। এক যুগ আগে তাঁর স্বামী ছিদ্দিক আহমদের মৃত্যু হয়। তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর চার ছেলে তিন মেয়ে নিয়ে বৃদ্ধার নতুন জীবন শুরু। কিন্তু ভোটের রাজনীতি তাঁর সংসার তছনছ করে দিল। ১০ বছরের মাথায় গোলজার হারিয়ে ফেলেন তিন সন্তানকে।

‎১১ ডিসেম্বর দুপুরে ছিদ্দিক মেম্বারের ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল নারীকণ্ঠের বিলাপের সুর। দুই কানি জমির ওপর টিনশেডের পুরোনো ভিটেবাড়ি। সাত মাস আগে ঘরের একটি অংশ ভেঙে পাকা ছাদ নির্মাণ করেন তাঁর ছেলে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামাল হোসাইন (৪২)। ১৫ দিন পর মাকে নিয়ে নতুন পাকা বাড়িতে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই দুর্বৃত্তরা কামাল হোসাইনকে হত্যা করে লাশ গুম করে। ভিটাতে দুই শতাধিক সুপারি ও কয়েকটি নারকেলগাছ। শীতের ঠান্ডা পরিবেশ ও উত্তরের হাওয়ায় নারীকণ্ঠের বিলাপ ভেসে বেড়ায়, মানুষের মনে দাগ কাটে। কিন্তু বৃদ্ধার মনের অশান্তি দূর করার কিংবা বিলাপ থামানোর কেউ নেই।

‎‘বাড়িতে কেউ আছেন’ বলে ডাক দিতেই ছুটে আসেন গোলজার বেগম। সঙ্গে নিহত কামালের স্ত্রী ও দুই নাতি। বাড়িতে নারী-শিশু ছাড়া কোনো পুরুষ নেই। পরিচয় পাওয়ার পর গোলজার বেগম ভেতর থেকে নিহত তিন ছেলের বাঁধাই করা তিনটি ছবি নিয়ে এলেন। বললেন, ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা একে একে আমার এই তিন ছেলেকে হত্যা করেছে। খুনিরা সবাই এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। তাদের বিচার হয় না।’

‎পরপর খুন তিন ছেলে

‎নিহত তিনজনের বাবা ছিদ্দিক আহমদ এলাকায় নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দুবার ইউপি সদস্য হন তাঁর ছেলে কামাল হোসাইন। মূলত নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরেই কামালসহ ছিদ্দিকের তিন ছেলে হত্যার শিকার হন।

‎গত ৮ জুলাই দুপুরে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামাল হোসাইনের মরদেহ মনখালী গ্রামের একটি খাল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত কামালের ছোট ভাই সাহাব উদ্দিন বাদী হয়ে ১১ জুলাই উখিয়া থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন মনখালী গ্রামের আবদুর রহিম, তোফাইল আহমদ, জুহুর আহমদ চৌধুরী, শরিফুল হক সাগর, জহির আহমদ, নুরুল বশর, মোহাম্মদ রিদুয়ান ও শরিফুল ইসলাম নাহিদ। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় কয়েক দফা মানববন্ধন-প্রতিবাদ সমাবেশ করেন স্থানীয় লোকজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আসামি ধরা পড়েনি।

‎এর আগে ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই ছিদ্দিকের বড় ছেলে জসিম উদ্দিনকে হত্যা করে মেরিন ড্রাইভের পূর্ব পাশে সাগরপাড়ে ফেলে রাখে। এ ঘটনায়ও সাহাবউদ্দিন বাদী অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। পুলিশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ দমন বিভাগ (সিআইডি) চট্টগ্রামে তদন্তাধীন। জসিম হত্যার তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ছিদ্দিক আহমদের মেজ ছেলে জিয়া উদ্দিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তবে পরিবারের দাবি, তাঁকেও হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

‎ছিদ্দিক আহমদের বড় ছেলে জসিম উদ্দিনের হত্যার ঘটনায় মামলা করার পর থেকে আসামিরা তাঁর অপর দুই ছেলে সাহাবউদ্দিন ও ইউপি সদস্য কামালকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। সাহাব উদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়। তখন আসামিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ৮ জুলাই কামাল হোসাইনকে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে রাখে তারা

‎কামাল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার এসআই দুর্জয় সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ১১ জুলাই থেকে অন্তত ২০ দিন তিনি মামলার তদন্তকাজ পরিচালনা করেন। ওই সময়ে তিনি কামাল হত্যার নেপথ্যে কোনো সূত্র খুঁজে পাননি। কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করাও সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

‎এ প্রসঙ্গে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ইমন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, তিন মাসে তদন্তের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসেনি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। ইমন চৌধুরী বলেন, মামলার আসামিরা সবাই হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন। সে জন্য গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।

‎নিহত তিনজনের বাবা ছিদ্দিক আহমদ এলাকায় নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দুবার ইউপি সদস্য হন তাঁর ছেলে কামাল হোসাইন। মূলত নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরেই কামালসহ ছিদ্দিকের তিন ছেলে হত্যার শিকার হন।

‎খুনের পেছনে কারা

‎স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনকে ঘিরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বাদী ও আসামিরা পরস্পরের নিকটাত্মীয়। নিহত কামালের ভাগনে আকিল রানা বলেন, ২০১৭-১৮ সালে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে লড়েন সুলতান আহমদ ও কামাল হোসাইন। সুলতান নিহত কামালের চাচাতো ভাই। তখন আরেক চাচাতো ভাই জহুর আহমদ সুলতানের পক্ষে নির্বাচন করেন। সেই থেকে কামালের পরিবারের সঙ্গে জহুর আহমদ ও সুলতানের পরিবারের বিরোধ শুরু।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মনখালী গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি জানান, ২০২১ সালে কামাল হোসাইন ইউপি সদস্য পদে প্রার্থী হন। তখন অসুস্থতার কারণে সুলতান প্রার্থী হতে পারেননি। কিন্তু সুলতান ও জহুর আহমদের পরিবার কামালের বিরোধিতা করে মোহাম্মদ মুসার পক্ষে মাঠে নামে। বিপুল ভোটে মেম্বার নির্বাচিত হন কামাল হোসাইন। এরপর দুই পক্ষের বিরোধ চরম পর্যায়ে যায়। শুরু হয় খুনের রাজনীতি।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার […]

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ মার্চ ২০২৬, ২৩:০২

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যার পর মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মেঘনা নদীতে মৎস্য অভিযানের জন্য মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও একজন পুলিশ অফিসারসহ ৩ জন কনস্টেবল স্পিডবোটে করে মেঘনা নদীতে রওয়ানা দেন।

এ সময় যাত্রীবাহী লঞ্চ কর্ণফুলী-১২ এর সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। এ ঘটনায় ওই স্পিডবোটে থাকা সবাই তীরে উঠতে পারলেও নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয়ে যান কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলাম। তাকে উদ্ধার করতে গত দুইদিন ধরে কাজ করেছেন নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে খবর পাওয়া যায় দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়েছিল।

স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দৌলতখান থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেন। দৌলতখান থানা পুলিশের দেওয়া তথ্যে আমরা নিশ্চিত হই ওই মরদেহটি নিখোঁজ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।