মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নদী খাল জলাশয় নেই তবুও সড়ক বিভাগ নির্মাণ করছে ৯ কোটি টাকার ব্রিজ

আব্দুল্লাহ আল মামুন ,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ নদী, খাল ও কোন জলাশয় নেই, তবুও সড়ক বিভাগ নির্মাণ করছে ৯ কোটি ১০ লক্ষ টাকার ব্রিজ। দুই পাশে রয়েছে বাড়ি-ঘর ও রাস্তা। টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের রতনগঞ্জ খিলগাতী এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে ব্রিজটি। টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের অফিস সূত্রে জানা যায়, সড়ক […]

নদী খাল জলাশয় নেই তবুও সড়ক বিভাগ নির্মাণ করছে ৯ কোটি টাকার ব্রিজ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:১৯

আব্দুল্লাহ আল মামুন ,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ

নদী, খাল ও কোন জলাশয় নেই, তবুও সড়ক বিভাগ নির্মাণ করছে ৯ কোটি ১০ লক্ষ টাকার ব্রিজ। দুই পাশে রয়েছে বাড়ি-ঘর ও রাস্তা। টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের রতনগঞ্জ খিলগাতী এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে ব্রিজটি।

টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের অফিস সূত্রে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নে ৩৪.৮৮ মিটার দৈর্ঘ্যের ৯ কোটি ১০ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এই ব্রিজ। এই ব্রিজটির নির্মাণ কাজ পায় এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লি. নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজটি বাস্তবায়ন করছে মনোজ ও সুমন নামের টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের দুই প্রভাবশালী ঠিকাদার।

যারা সড়ক বিভাগের বেশির ভাগ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে তাদের ঠিকাদারী বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও সড়ক বিভাগের সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্রিজের পাইলিংয়ের কাজের প্রস্তুতি চলছে।

ব্রিজটি যেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে এটি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের রতনগঞ্জ খিলগাতী এলাকায়। সাধারণত ব্রিজ নির্মাণ করা হয়, পানিপ্রবাহ কিংবা যেখানে কোনো খাল এবং নদীনালা থাকে কিংবা পানির প্রবাহ থাকে এমন জায়গায়।

কিন্তু নির্মাণাধীন ব্রিজটির দুই পাশে কোনো জলাশয় নদী বা কোন খাল নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে তার দুই পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়িঘর ও রাস্তা রয়েছে। আশে পাশে কোনো খাল, নদীনালা ও জলাশয় নেই যে পানি প্রবাহিত হবে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ এখানে সরকারি টাকা অপচয় না করে এই টাকা অন্য কোন রাস্তা ও ব্রিজের কাজে লাগাতে পারতো।

স্থানীয় নাগ বাড়ি এলাকার বাসিন্দা সার্ভেয়ার বেনজীর আহমেদ বলেন, যেখানে ব্রিজ হচ্ছে সেখানে নদী বা খাল কোনদিনই ছিল না। এখানে ব্রিজের কোন প্রয়োজন নেই, শুধু শুধু সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামাল ও রতনগঞ্জ বাজার এলাকার আলম মিয়া বলেন, এখানে কোনদিনই কোন খাল ছিল না।

এখানে ব্রিজ তৈরি করার কোন যুক্তিই নাই। নদী বা খালের পানিপ্রবাহের পথ তো দূরে থাক ব্রিজের দুই পাশে রাস্তা ও বাড়ী ঘর ছাড়া কিছুই নেই। খিলগাতী গ্রামের নান্নু মিয়া, আজগর আলী ও ইলিমুদ্দিন বলেন, গরু ছাড়া গোয়ালের যেমন মূল্য নেই, ঠিক তেমনি কোনো জলাশয় বা নদী ছাড়া ব্রিজের কোনো প্রয়োজন নেই।

এখানে কেন ব্রিজ করা হচ্ছে আমরা কেউ জানি না। তারা আরো জানান, লোহার ব্রিজ কয়েক যুগ আগে করা হয়েছিল তখন কাজে লাগতো। এখানে প্রায় ২ যুগ আগে মানুষজন ঘর বাড়ী নির্মাণ করে বসতি স্থাপন করেছে। এখন নদী খাল বা জলাশয় না থাকায় কোন পানি প্রবাহিত হয় না।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নাগবাড়ী ইউনিয়নের নায়েব মৌজা ম্যাপ ও ভলিয়ম বই পর্যালোচনা করে জানান, সিএস, আরএস ও বিএস রেকর্ডে সরকারি রাস্তা ব্যতীত ঐ জায়গায় কোন নদী, খাল বা জলাশয় নেই। এ বিষয়ে উক্ত কাজের ঠিকাদার মনোজ ও সুমনের সাথে কথা হয় ওই ব্রিজ এলাকায়। তারা বলেন, আমরা ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে।

যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ পেয়েছি, তাই কাজ করছি। আমরা না করলে অন্য কেউ করতো। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেন। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর সড়ক বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, পূর্বে এখানে লোহার ব্রিজ ছিল, তাই সেখানে ব্রিজ করতে হবে।

তাছাড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য বন্য হলে কিভাবে পানি প্রবাহিত হবে এজন্য এখানে ব্রিজ করা হচ্ছে। ব্রিজের পশ্চিম এবং রাস্তার দক্ষিণ পাশে গ্রামের লোকজনের পায়ে হেঁটে যাওয়ার রাস্তা রয়েছে, সেখানে যে কোন প্রতিষ্ঠান কালভার্ট বা ব্রিজ তাদের প্রয়োজনে করতে পারবে। 

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ব্রিজের অনুমোদন আমি দেই না। প্রধান কার্যালয় থেকে টিম সরেজমিনে এসে দেখে, শুনে বুঝে অনুমোদন দেয়।

নদী খাল জলাশয় আছে কিনা, তা নতুন করে যাচাই করে ব্রিজের কাজ করা কিংবা কাজ বন্ধ করা আমার দায়িত্ব নয়। টাঙ্গাইল জেলা ‘নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্য বলেন, অনেক এলাকাতেই পর্যাপ্ত ব্রীজ কালভার্ট না থাকাতে চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

বর্ষার মৌসুমে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা নৌকা কিংবা সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। অথচ অসাধু কিছু কর্মকর্তাদের কারণে প্রকল্পের নামে লোক দেখানো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে রাষ্ট্রের অনেক অর্থ অপচয় হয়।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।