সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

বিমানবন্দরে লাগেজ চোর সিন্ডিকেট বেপরোয়া

বিতর্ক, দুর্ঘটনা, সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। একের পর বিতর্ক প্রতিষ্ঠানটি গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে, ফেলছে অস্বস্তিতে। সর্বশেষ কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সিলগালা করা স্ট্রংরুমের (ভল্ট) তালা ভাঙার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটল মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা, যা ঘটিয়েছেন এক দায়িত্বরত আনসার সদস্য। তার পোশাকের ভেতরে লুকানো অবস্থায় পুরোনো মডেলের […]

বিমানবন্দরে লাগেজ চোর সিন্ডিকেট বেপরোয়া

বিমানবন্দরে লাগেজ চোর সিন্ডিকেট বেপরোয়া

নিউজ ডেস্ক

০৮ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৪৪

বিতর্ক, দুর্ঘটনা, সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। একের পর বিতর্ক প্রতিষ্ঠানটি গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে, ফেলছে অস্বস্তিতে। সর্বশেষ কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সিলগালা করা স্ট্রংরুমের (ভল্ট) তালা ভাঙার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটল মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা, যা ঘটিয়েছেন এক দায়িত্বরত আনসার সদস্য।

তার পোশাকের ভেতরে লুকানো অবস্থায় পুরোনো মডেলের ১৫টি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ঘটনা জেনে সেই আনসার সদস্যকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার ও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান বলেছেন, আনসার সদস্যের কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধারের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সদস্য রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা নিয়েছে, যা বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সূত্রমতে, দেশের প্রধান বিমানবন্দরে প্রতি বছর লাগেজসহ হাজার হাজার চুরির ঘটনা ঘটে আসছে, যা কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। অনেকের মতে, বছরের পর বছর ধরে বিমানবন্দরে চোর ও লাগেজ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। যাদের মধ্যে নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরাও জড়িত রয়েছে। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সরকারি হিসাবমতে, বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে তিনটি লাগেজ চুরি বা গায়েব হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই লাগেজ গায়েব চক্র তত্পরতা চালালেও পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে কারা, কীভাবে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অপতত্পরতা চালাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ও এভিয়েশন বিশ্লেষকরা।

গত ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরও অগ্নিপ্রতিরোধী স্ট্রংরুমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য আমদানি করা বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল। তবে সিলগালা অবস্থায় থাকা স্ট্রংরুমে তালা ভাঙা হয়। ঘটনার ১০ দিন পর ২৭ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় জিডি হলে গত ৪ নভেম্বর তা প্রকাশ পায়। অনেকের আশঙ্কা, স্ট্রংরুম থেকে কয়েকটি অস্ত্র চুরি গেছে। সেই ঘটনার রেশ শেষ না হতেই কার্গো ভিলেজে ভস্মীভূত দ্রব্যের মাঝে থাকা ১৫টি বাটন ফোন লুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্য।

এর আগে বিমানবন্দরে যাত্রীর লাগেজ থেকে ৬ হাজার ৮০০ ইউরো (৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকা) চুরির ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাঁচ কর্মীকে গত ৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়। গত ২ আগস্ট ভারতের চেন্নাইগামী সেই যাত্রীর চেক করা লাগেজ থেকে ইউরো চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সিসিটিভির ফুটেজ থেকে কর্মীদের শনাক্ত করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলার পর আদালতের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার আগে গত ৭ জানুয়ারি ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরে লাগেজ খুইয়ে ফেলেন ভুক্তভোগী কাজী মোশতাক আহম্মেদ। ইমিগ্রেশনে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়েও লাগেজ না পেয়ে অভিযোগ দেন বিমানের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ বিভাগে। শেষ অবধি লাগেজ ফিরিয়ে দিতে না পেরে বিমান কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৯ হাজার টাকা দেয়। তবে ভুক্তভোগীর ভাষ্য, খোয়া যাওয়া লাগেজে ১১ কেজি ওজনের বিভিন্ন সামগ্রী ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। অথচ পাঁচ মাস পরে তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ১৯ হাজার ৫২০ টাকা।

সেই ঘটনার পর ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান নাগরিক ও ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সৌদিপ্রবাসী এক যাত্রীর লাগেজ খোয়া যায়। বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সহযোগিতায় পরে তারা লাগেজ ফিরে পান। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি আরিফ প্রামাণিক নামে এক সৌদি আরবপ্রবাসী দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পথে দুষ্কৃতকারীরা তার টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজ থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুষ্কৃতকারীদের আটক এবং উদ্ধার করা টাকা ও মালামাল বুঝিয়ে দেয়।

বিমানের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ বিভাগের সূত্রমতে, প্রতিদিন গড়ে তিনটির মতো লাগেজ চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। গত ছয় মাসে ৫৪০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে সিভিল এভিয়েশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাইরে যতই কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয়। কিন্তু ভেতরে তেমন শক্তিশালী কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থাই নেই। বাইরে কড়াকড়ি, ভেতরে ঢিল। ভেতরের এই প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সিন্ডিকেট চক্রের ঔদ্ধত্য এতটা বেপরোয়া। শাহজালালে এত এত বাহিনীর স্ট্রং সিকিউরিটি থাকা সত্ত্বেও তারা কিছুই টের পেল না! সিভিল এভিয়েশনের সিকিউরিটি চুরি-পাচারসহ অমুক করে তমুক করে বলে অ্যাবসেক বাহিনী আনা হলো। কার্যত কিছুই হচ্ছে না! শো অফ হলো। সিন্ডিকেটবাজি থামছেই না।

অবশ্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, ‘নিরাপত্তাবলয় ছিল বলেই চোর সফল হতে পারেনি। এটা ব্যক্তির অসাধুতা, যা কোনোভাবেই পুরো আনসার বাহিনীর পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না। বাহিনী যথেষ্ট ভালো কাজ করছে। ভালোদের কারণে খারাপদের এসব কর্মকাণ্ড আমরা শনাক্ত করতে পারছি।’

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, পুরো এয়ারপোর্টের মালিকানা অনেকটা সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের। সরকারের পক্ষ থেকে তারা এ দায়িত্বপ্রাপ্ত। এয়ারপোর্টের ভেতরে অন্য কোনো সংস্থার কর্তৃত্ব নেই। এর ভেতরে ভালো কিছু হলে প্রশংসা, মন্দ হলে নিন্দিত হতে হবে তাদেরই। অথচ এর ভেতরে কিছু ঘটলেই দেখা যায়, সবার মধ্যে দায়িত্ব এরিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি, এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ বলেন, এভাবে একের পর অপ্রীতিকর ঘটনা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচয়ে কলঙ্কের কালিলেপন করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির নামে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা দায় এড়াচ্ছেন এবং বিষয়টিকে বারবারই উপেক্ষা করে যাচ্ছেন। আর কতটা মূল্য দিলে বিমান এদের কাছ থেকে রেহাই পাবে?

স্রত্র : ইত্তেফাক

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।