বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

টিকে থাকার লড়াইয়ে দুর্গাপুরের কামার শিল্প

নূর আলম,দুর্গাপুর (নেত্রকোণা)প্রতিনিধি: আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার কামার শিল্পে নেই আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য ও ব্যস্ততা। একসময় ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই কামার দোকানগুলোতে হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখরিত থাকত দুর্গাপুরের বিভিন্ন বাজার। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এবং বাজারে চায়না ও আধুনিক যন্ত্রপাতির দখলে ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প আজ পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। সরেজমিনে দুর্গাপুর পৌর […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

৩০ মে ২০২৫, ২০:৫৬

নূর আলম,দুর্গাপুর (নেত্রকোণা)প্রতিনিধি:

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার কামার শিল্পে নেই আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য ও ব্যস্ততা। একসময় ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই কামার দোকানগুলোতে হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখরিত থাকত দুর্গাপুরের বিভিন্ন বাজার।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এবং বাজারে চায়না ও আধুনিক যন্ত্রপাতির দখলে ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প আজ পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে।

সরেজমিনে দুর্গাপুর পৌর শহরের দেশওয়ালীপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, কামার দোকানগুলোতে ততই কমছে ক্রেতাদের উপস্থিতি।

সাধারণত বছরে এই একটি সময়েই ভালো বিক্রির আশায় থাকেন কামার শিল্পীরা। কিন্তু এবারও আশানুরূপ বেচাকেনা না থাকায় হতাশ তারা।

কামাররা জানান, আধুনিক মেশিনে তৈরি কমদামী চায়না দা, ছুরি, চাপাতি বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় তাদের হাতে তৈরি সরঞ্জামের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে অনেকেই পৈতৃক এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন।

দেশওয়ালীপাড়ার কামার শিল্পী পরিতোষ কর্মকার বলেন, “৪০ বছর ধরে এ পেশায় আছি। একসময় কোরবানির ঈদের আগে দিন-রাত কাজ করতে হতো। এখন আর সেই চাহিদা নেই। বিক্রি কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। বাপ-দাদার পেশা বলে এখনো ধরে রেখেছি, কিন্তু চলতে কষ্ট হচ্ছে।”

আরেক কারিগর মিটু কর্মকার জানান, “বংশ পরম্পরার কারণে এখনও কামার পেশার সঙ্গে জড়িত আছি। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রপাতির কারণে আমাদের তৈরি জিনিসপত্র এখন আর তেমন বিক্রি হয় না। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

চকলেংগুরার কামার শিল্পী লিটন বলেন, “আগে ঈদের সময় হাতের কাজ সামলাতে পারতাম না, আর এখন দোকানে বসে থাকলেও কাজ নেই। আমাদের তৈরি জিনিসের কদর হারিয়ে গেছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা নির্মলেন্দু সরকার বলেন, “একসময় কোরবানির ঈদের আগে কামার দোকানগুলোতে ভিড় লেগে থাকত। এখন আধুনিক যন্ত্রপাতির দাপটে সেই দৃশ্য আর দেখা যায় না। সরকার যেন এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।”

আরেক বাসিন্দা মামুন বলেন, “এই শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে। আগে প্রতিটি দোকানে টুংটাং শব্দে মুখর থাকত দুর্গাপুর শহর। এখন তা হারিয়ে গেছে। কামারদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।”

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদার বলেন, “কামারদের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তাদের আর্থিক সহযোগিতা ও পেশাগত উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা দিয়ে এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে।”

দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহনকারী কামার শিল্প আজ টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত। সময়োপযোগী সরকারি উদ্যোগ ও সচেতনতা ছাড়া এ শিল্প হয়তো একদিন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে— এমন আশঙ্কাই করছেন স্থানীয়রা।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।