বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

বাহারকন্যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাজুলের পিএস কামালের

কুমিল্লায় মাত্র ১১ বছরে শূন্য থেকে কয়েকশ কোটি টাকার মালিক বনেছেন সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. কামাল হোসেন। একজন কৃষকের ছেলে কামাল এক সময় তার পরিবারের ভরণ-পোষণ জোগাতেই হিমশিম খেতেন। হঠাৎ তার এমন বিত্তশালী হওয়া রূপকথার গল্পকেও যেন হার মানায়। স্থানীয়দের দাবি, মূলত তাজুল ইসলামের কমিশন বাণিজ্যের হোতা ছিলেন কামাল। এছাড়া […]

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৫:২২

কুমিল্লায় মাত্র ১১ বছরে শূন্য থেকে কয়েকশ কোটি টাকার মালিক বনেছেন সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. কামাল হোসেন। একজন কৃষকের ছেলে কামাল এক সময় তার পরিবারের ভরণ-পোষণ জোগাতেই হিমশিম খেতেন। হঠাৎ তার এমন বিত্তশালী হওয়া রূপকথার গল্পকেও যেন হার মানায়। স্থানীয়দের দাবি, মূলত তাজুল ইসলামের কমিশন বাণিজ্যের হোতা ছিলেন কামাল। এছাড়া টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমি দখল, সালিশ বৈঠক, ঠিকাদারি কাজে অনিয়ম, থানায় তদবিরসহ নানা অপরাধ-দুর্নীতিতেও জড়িত ছিলেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান কামাল।

জানা যায়, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদের ছেলে কামাল হোসেন। কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিসে এক দালালের সহযোগী হিসাবে কাজ করতেন। ১১ বছর আগে তৎকালীন কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ-সদস্য তাজুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। ব্যাপক চাটুকারিতার মাধ্যমে তাজুলের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন কামাল। নিজেকে তাজুলের ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৮ সালে তাজুল স্থনীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে কামালকে মন্ত্রীর উন্নয়ন সমন্বয়কারী হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় সদর আসনের সংসদ-সদস্য বাহাউদ্দিন ও তার মেয়ে সাবেক কুমিল্লা সিটি মেয়র তাহসিন বাহার সূচনার সঙ্গেও কামালের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কামাল কুমিল্লা এলজিইডি অফিসের টেন্ডারবাজির নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারি, মন্ত্রীর কমিশন বাণিজ্য এবং অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ফুলে-ফেঁপে উঠতে থাকেন। মাস্টার এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের এলজিইডির বেশিরভাগ ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতেন তিনি। কোটি কোটি টাকার কাজ কমিশন নিয়ে সাব কন্ট্রাক্টে বিক্রি করে দিতেন।

তার মাত্রাতিরিক্ত অনিয়ম-দুর্নীতি দৃষ্টিগোচর হলে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলাও করে। ৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর দুদক কুমিল্লার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

দুদকের অনুসন্ধানে তার নিজ নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। দুদক সূত্র জানায়, তার পারিবারিক ব্যয়, পরিশোধিত কর ও অপরিশোধিত দায়সহ ১৭ কোটি ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ২৬ টাকার নিট সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৮ কোটি ২০ লাখ ২১ হাজার ৮০ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া গেছে। আর ৮ কোটি ৯৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৪৬ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কুমিল্লার আদর্শ উপজেলায় তার নামে ১০ তলায় দুটি ফ্লোর ও ছয়তলা ভবন, কুমিল্লা সদরসহ বিভিন্ন জায়গায় ৫০০ শতাংশ জমি, টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়ি এবং ব্যাংকে গচ্ছিত ৮ কোটি টাকার বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, কামালের বিপুল সম্পদের সিকিভাগও দুদকের তদন্তে আসেনি। কামাল কয়েকশ কোটি টাকার মালিক হলেও দুদক এসব সম্পদ খুঁজে বের করতে পারেনি। তার কুমিল্লার হাউজিং এস্টেটের একাধিক বাড়ি, কান্দিরপাড় এলাকায় বিগ বাজার সুপার মার্কেট, একই এলাকায় অনেকগুলো ফ্ল্যাট, ঢাকায় ফ্ল্যাট ও প্লট এবং কৃষি ও অকৃষি জমির তথ্য বের করতে পারেনি দুদক। মূলত সাবেক মন্ত্রীর চাপে দুদক তখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি বলে অভিমত তাদের। স্থানীয়রা আরও জানান, শুধু কুমিল্লা শহরেই কামালের ২শ থেকে ৩শ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। তারা তার এসব অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

মনোহরগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, কামাল কৃষকের ছেলে। ঠিক মতো খেতেও পারতেন না। তিনি এখন কয়েকশ কোটি টাকার মালিক। দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করলেও সম্পদের সিকিভাগও বের করতে পারেনি। তার দৃশ্যমান কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

দুদক কুমিল্লার উপ-পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, ঠিকাদার কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে তার দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। তার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামাল হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও আত্মগোপনে থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।