সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের (বেআইনিভাবে ঠেলে পাঠানো) একটি বড় চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে বিএসএফের সেই অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় সাময়িকভাবে উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সীমান্তবাসীর তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোরের দিকে বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৮ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ২ জন শিশুসহ মোট ১২ জন নাগরিককে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে বাংলাদেশের সীমানায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
এ সময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেন এবং শক্ত অবস্থান নেন। বিজিবির কঠোর প্রতিহত করার মুখে বিএসএফ তাদের পুশইন করতে ব্যর্থ হয়।
বর্তমানে ওই ১২ জন ব্যক্তি ভারতীয় সীমান্তেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং পুশইনের অপচেষ্টা রোধে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক পুশইনের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী ও বিভিন্ন মানবাধিকার রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে শুরু করে চলতি বছরের (২০২৬) প্রথম আট মাসেই বিএসএফের মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে শুধু বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে আটকের পর বিজিবির হস্তক্ষেপে বহু মানুষকে ফেরত পাঠানো হলেও অনেক জায়গায় গোপনে পুশইনের ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে লালমনিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় (যেমন কুলাউড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, ফেনী ও দিনাজপুর) বেশ কয়েকবার নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ, যা বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত বাধায় প্রতিহত করা হয়।
কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একতরফাভাবে সীমান্ত দিয়ে এভাবে লোকজনকে ঠেলে পাঠানো সম্পূর্ণ অবৈধ ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
বারবার পতাকা বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সত্ত্বেও বিএসএফের এমন আচরণ সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনার সৃষ্টি করছে। এদিকে বুড়িমারী সীমান্তের সাম্প্রতিক ঘটনার পর লালমনিরহাট জেলার পুরো সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।