বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

স্বতন্ত্র হয়ে জয়, পরে দলীয় রাজনীতিতে যোগদান : গবিতে গকসু নেতাদের নিয়ে তীব্র আলোচনা

গবি সংবাদদাতা: দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহসভাপতি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানের ছাত্রদলে যোগদানের ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক পরিচয় ও গঠনতন্ত্রের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা […]

স্বতন্ত্র হয়ে জয়, পরে দলীয় রাজনীতিতে যোগদান : গবিতে গকসু নেতাদের নিয়ে তীব্র আলোচনা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০০:৩৪

গবি সংবাদদাতা:

দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহসভাপতি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানের ছাত্রদলে যোগদানের ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক পরিচয় ও গঠনতন্ত্রের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ফেসবুক পোস্টে প্রকাশ্যে জানান, গকসুর সহসভাপতি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই যোগদানসংক্রান্ত ছবি, পোস্ট ও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি ক্যাম্পাসভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপ, শিক্ষার্থী ফোরাম এবং জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক আলোচনায় আলোড়ন তোলে।

ভিপির যোগদানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংসদের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে আসে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হান খান এবং সহ সাধারণ সম্পাদক মো. সামিউল হাসানকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে সহ সাধারণ সম্পাদক সামিউল হাসান জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া সমাজকল্যাণ ও ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তরকে ছাত্রদলে যোগদান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. নির্জন হোসেন প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানান বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। এসব ঘটনা মিলিয়ে ছাত্র সংসদের একাধিক শীর্ষ পদে থাকা প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হয়েছে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্রের ১৭.১ (খ) ধারায় বলা আছে, কোনো নির্বাচিত সদস্য যদি কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনে যোগ দেন অথবা ওই সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচিত বা মনোনীত হন,

তাহলে তার সংসদ সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। গঠনতন্ত্রে এত স্পষ্ট বিধান থাকার পরও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।

ভিপির রাজনৈতিক দলে যোগদানের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একাংশ শিক্ষার্থী ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস রাখা ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত অধিকার।

তবে বড় একটি অংশ শিক্ষার্থী বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। অনলাইন পোস্ট ও মন্তব্যে তারা লিখেছেন, নির্বাচনের সময় ভোটাররা দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই রায় দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পৃক্ততা সেই রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

কেউ কেউ এটিকে ভোটের ম্যান্ডেটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। কিছু পোস্টে ছাত্র সংসদের কার্যক্রমকে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে সমালোচনা করা হয়েছে।

এই বিতর্কের মধ্যেই গকসুর প্যাডে দেওয়া একটি নোটিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা কিছু সময় পর মুছে ফেলা হয়। নোটিশে গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে অরাজনৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে বলা হয়, ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।

একই সঙ্গে ভিপির রাজনৈতিক দলে যোগদানকে তার ব্যক্তিগত অধিকার বলা হলেও, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তা নিয়ম বহির্ভূত উল্লেখ করে ছাত্র সংসদ এ সিদ্ধান্তের দায়ভার নেবে না বলেও নোটিশে উল্লেখ ছিল।

এ বিষয়ে গকসুর সহসভাপতি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মতাদর্শগত মিল থাকায় তিনি ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। তবে গকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো দলীয় পদ গ্রহণ করা যায় না বিধায় তিনি ছাত্রদলের কোনো পদ বা দায়িত্ব নেননি।

তিনি আরও বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সে কারণে ক্যাম্পাসের ভেতরে তিনি কোনো ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হবেন না এবং অন্য কাউকেও তা করতে দেবেন না। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজ আগের মতোই চালিয়ে যাবেন।

গকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হান খান বলেন, ভিপির ছাত্রদলে যোগদান তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও বিষয়টি গকসুর গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে।

ছাত্র শিবিরের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট–সংক্রান্ত একটি ইস্যুতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একজন সাধারণ অংশগ্রহণকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

গকসু নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিবির–সম্পর্কিত পোস্টের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং যারা পোস্ট দিয়েছেন, তারাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

সহ সাধারণ সম্পাদক মো. সামিউল হাসান বলেন, সহ সাধারণ সম্পাদক মো. সামিউল হাসান বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকে এবং তিনি তার ব্যতিক্রম নন।

তিনি বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং ছাত্র সংসদও একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। সে কারণে তিনি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হবেন না এবং অন্য কাউকেও তা করতে দেবেন না। ক্যাম্পাসের ভেতরে কেউ প্রকাশ্যে দলীয় রাজনীতি চর্চা করে না।

ছাত্র শিবিরের সঙ্গে তার আদর্শিক অবস্থান প্রসঙ্গে সামিউল বলেন, ছাত্র শিবিরের সৎ, দক্ষ ও আদর্শ নেতৃত্ব তৈরির যে দর্শন, সেটি তিনি ধারণ করেন এবং এটি তার কাছে ভালো লাগে। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও সৎ, দক্ষ ও আদর্শ নেতৃত্ব গড়ে তোলার কথা বলতেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু ছাত্র শিবির নয়, ইনকিলাব মঞ্চ, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতবিরোধী ও বাংলাদেশপন্থী অবস্থানের কারণে এসব বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত। যারা সৎ, দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলার মতাদর্শে বিশ্বাস করেন, তিনি তাদের পাশেই থাকেন।

গণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস এবং গকসুর গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা আছে—কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনে যোগ দিলে বা কোনো পদে নির্বাচিত হলে তার সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। সে হিসেবে ভিপির সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্রবিরোধী হলেও এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে ছাত্র সংসদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্র সংসদে মোট ২০ জন সদস্য রয়েছেন। ফলে এ বিষয়ে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। সবাই মিলে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গকসুর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতি মুছে ফেলার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

ছাত্র শিবিরের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র সংসদের কোনো সদস্য সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারেন না এবং তিনি নিজেও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। তবে ব্যক্তিগত আদর্শিক অবস্থান থাকা একজন নাগরিকের অধিকার।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র শিবিরের ‘সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলার’ আদর্শে বিশ্বাস রাখেন বলেই তাদের কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একই সঙ্গে ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নেন এবং সেসব বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।

ঢাকা–১৭ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি অন দ্য রেকর্ড কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সমাজকল্যাণ ও ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তর বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের মতাদর্শিক সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তিনি শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তবে গকসু নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ছাত্রদলে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, মতাদর্শগত মিল থাকায় ছাত্রদলে যুক্ত হলেও কোনো পদ বা দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অবগত রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গকসুর যাত্রা শুরু হয়। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রায় সাত বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সহসভাপতি পদে ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. রায়হান খান, সহ সাধারণ সম্পাদক পদে মো. সামিউল হাসান এবং সমাজকল্যাণ ও ক্যান্টিন সম্পাদক পদে মো. মনোয়ার হোসেন অন্তর নির্বাচিত হন।

শিক্ষাঙ্গন

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শেকৃবির সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার

শেকৃবি প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার আলম। নবগঠিত কমিটিতে তাকে কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ২২:৪৮

শেকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার আলম। নবগঠিত কমিটিতে তাকে কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কৃষিবিদ সানোয়ার আলম সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

নেতাকর্মীরা জানান, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তিনি যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি কৃষি ও কৃষক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

এদিকে যুবদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

শিক্ষাঙ্গন

অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন, এইচএসসি পরীক্ষাও হবে ডিসেম্বরে

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনজানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হতে পারে। বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে […]

নিউজ ডেস্ক

০২ মে ২০২৬, ১৬:০০

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনজানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হতে পারে।

বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই সময়সূচি পিছিয়ে যায়। এতে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়, যা অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যা মাথায় রেখেই নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই যদি সব পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়, তাহলে সিলেবাস, ক্লাস টেস্ট ও বোর্ড পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই শেষ করা সম্ভব হবে। ফলে শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতেই পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে এবং দুই বছরের মধ্যেই নির্ধারিত পাঠক্রম শেষ করতে পারবে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসকে পুরোপুরি পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা গ্রহণ ও দ্রুত ফল প্রকাশ করতে হবে। ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

তিনি আরও জানান, লক্ষ্য হচ্ছে—শিক্ষার্থীরা ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে কোনো সেশনজট ছাড়াই উচ্চশিক্ষায় যেতে পারবে। কারিকুলাম সংস্কারের কাজ চলছে এবং সবকিছু প্রস্তুত থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এটি কার্যকর করা হতে পারে।

তবে নতুন সময়সূচি বাস্তবায়ন নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস সম্পন্ন করার ওপর। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে পরিকল্পনা ঠিক করা জরুরি—অ্যাকাডেমিক বছর ডিসেম্বরেই শেষ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পুরো শিক্ষা কার্যক্রম সাজাতে হবে।

এদিকে শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পাবলিক পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করে একটি বাস্তবসম্মত নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

শিক্ষাঙ্গন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আবু তাহের, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের আয়োজনে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড আন্ডার রাইজ এআই ক্যাম্প’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নবযুগ কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এআই ক্যাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাইজের ডিজিটাল গ্রোথ হ্যাক ম্যানেজার মো. ইয়াসিন আরাফাত। […]

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১২ মে ২০২৬, ২৩:০১

আবু তাহের, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের আয়োজনে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড আন্ডার রাইজ এআই ক্যাম্প’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নবযুগ কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এআই ক্যাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাইজের ডিজিটাল গ্রোথ হ্যাক ম্যানেজার মো. ইয়াসিন আরাফাত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাইজের ডিজিটাল গ্রোথ অফিসার শাম্মি আক্তার রুমি এবং বাংলালিংকের ইন্টার্ন (এইচআর) নোমান কিবরিয়া। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম জনি।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের কেস সমাধানের কৌশল, কৌশলগত চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধান এবং কাঠামোবদ্ধ বিশ্লেষণ বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি শিহাব সারওয়ার বলেন, ‘বর্তমান সময়ে বড় কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীরই থাকে। সেই পথে বিজনেস কেস কম্পিটিশনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই লক্ষ্যেই আমরা সেমিনারটি আয়োজন করেছি যাতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে। আশা করছি শিক্ষার্থীরা ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পেয়েছে।’

উল্লেখ্য, সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থীঅংশ নেন।