বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

স্বতন্ত্র হয়ে জয়, পরে দলীয় রাজনীতিতে যোগদান : গবিতে গকসু নেতাদের নিয়ে তীব্র আলোচনা

গবি সংবাদদাতা: দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহসভাপতি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানের ছাত্রদলে যোগদানের ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক পরিচয় ও গঠনতন্ত্রের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা […]

স্বতন্ত্র হয়ে জয়, পরে দলীয় রাজনীতিতে যোগদান : গবিতে গকসু নেতাদের নিয়ে তীব্র আলোচনা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০০:৩৪

গবি সংবাদদাতা:

দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহসভাপতি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানের ছাত্রদলে যোগদানের ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক পরিচয় ও গঠনতন্ত্রের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ফেসবুক পোস্টে প্রকাশ্যে জানান, গকসুর সহসভাপতি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই যোগদানসংক্রান্ত ছবি, পোস্ট ও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি ক্যাম্পাসভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপ, শিক্ষার্থী ফোরাম এবং জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক আলোচনায় আলোড়ন তোলে।

ভিপির যোগদানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংসদের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে আসে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হান খান এবং সহ সাধারণ সম্পাদক মো. সামিউল হাসানকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে সহ সাধারণ সম্পাদক সামিউল হাসান জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া সমাজকল্যাণ ও ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তরকে ছাত্রদলে যোগদান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. নির্জন হোসেন প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানান বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। এসব ঘটনা মিলিয়ে ছাত্র সংসদের একাধিক শীর্ষ পদে থাকা প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হয়েছে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্রের ১৭.১ (খ) ধারায় বলা আছে, কোনো নির্বাচিত সদস্য যদি কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনে যোগ দেন অথবা ওই সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচিত বা মনোনীত হন,

তাহলে তার সংসদ সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। গঠনতন্ত্রে এত স্পষ্ট বিধান থাকার পরও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।

ভিপির রাজনৈতিক দলে যোগদানের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একাংশ শিক্ষার্থী ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস রাখা ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত অধিকার।

তবে বড় একটি অংশ শিক্ষার্থী বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। অনলাইন পোস্ট ও মন্তব্যে তারা লিখেছেন, নির্বাচনের সময় ভোটাররা দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই রায় দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পৃক্ততা সেই রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

কেউ কেউ এটিকে ভোটের ম্যান্ডেটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। কিছু পোস্টে ছাত্র সংসদের কার্যক্রমকে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে সমালোচনা করা হয়েছে।

এই বিতর্কের মধ্যেই গকসুর প্যাডে দেওয়া একটি নোটিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা কিছু সময় পর মুছে ফেলা হয়। নোটিশে গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে অরাজনৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে বলা হয়, ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।

একই সঙ্গে ভিপির রাজনৈতিক দলে যোগদানকে তার ব্যক্তিগত অধিকার বলা হলেও, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তা নিয়ম বহির্ভূত উল্লেখ করে ছাত্র সংসদ এ সিদ্ধান্তের দায়ভার নেবে না বলেও নোটিশে উল্লেখ ছিল।

এ বিষয়ে গকসুর সহসভাপতি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মতাদর্শগত মিল থাকায় তিনি ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। তবে গকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো দলীয় পদ গ্রহণ করা যায় না বিধায় তিনি ছাত্রদলের কোনো পদ বা দায়িত্ব নেননি।

তিনি আরও বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সে কারণে ক্যাম্পাসের ভেতরে তিনি কোনো ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হবেন না এবং অন্য কাউকেও তা করতে দেবেন না। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজ আগের মতোই চালিয়ে যাবেন।

গকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হান খান বলেন, ভিপির ছাত্রদলে যোগদান তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও বিষয়টি গকসুর গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে।

ছাত্র শিবিরের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট–সংক্রান্ত একটি ইস্যুতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একজন সাধারণ অংশগ্রহণকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

গকসু নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিবির–সম্পর্কিত পোস্টের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং যারা পোস্ট দিয়েছেন, তারাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

সহ সাধারণ সম্পাদক মো. সামিউল হাসান বলেন, সহ সাধারণ সম্পাদক মো. সামিউল হাসান বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকে এবং তিনি তার ব্যতিক্রম নন।

তিনি বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং ছাত্র সংসদও একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। সে কারণে তিনি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হবেন না এবং অন্য কাউকেও তা করতে দেবেন না। ক্যাম্পাসের ভেতরে কেউ প্রকাশ্যে দলীয় রাজনীতি চর্চা করে না।

ছাত্র শিবিরের সঙ্গে তার আদর্শিক অবস্থান প্রসঙ্গে সামিউল বলেন, ছাত্র শিবিরের সৎ, দক্ষ ও আদর্শ নেতৃত্ব তৈরির যে দর্শন, সেটি তিনি ধারণ করেন এবং এটি তার কাছে ভালো লাগে। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও সৎ, দক্ষ ও আদর্শ নেতৃত্ব গড়ে তোলার কথা বলতেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু ছাত্র শিবির নয়, ইনকিলাব মঞ্চ, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতবিরোধী ও বাংলাদেশপন্থী অবস্থানের কারণে এসব বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত। যারা সৎ, দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলার মতাদর্শে বিশ্বাস করেন, তিনি তাদের পাশেই থাকেন।

গণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস এবং গকসুর গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা আছে—কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনে যোগ দিলে বা কোনো পদে নির্বাচিত হলে তার সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। সে হিসেবে ভিপির সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্রবিরোধী হলেও এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে ছাত্র সংসদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্র সংসদে মোট ২০ জন সদস্য রয়েছেন। ফলে এ বিষয়ে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। সবাই মিলে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গকসুর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতি মুছে ফেলার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

ছাত্র শিবিরের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র সংসদের কোনো সদস্য সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারেন না এবং তিনি নিজেও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। তবে ব্যক্তিগত আদর্শিক অবস্থান থাকা একজন নাগরিকের অধিকার।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র শিবিরের ‘সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলার’ আদর্শে বিশ্বাস রাখেন বলেই তাদের কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একই সঙ্গে ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নেন এবং সেসব বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।

ঢাকা–১৭ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি অন দ্য রেকর্ড কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সমাজকল্যাণ ও ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তর বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের মতাদর্শিক সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তিনি শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তবে গকসু নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ছাত্রদলে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, মতাদর্শগত মিল থাকায় ছাত্রদলে যুক্ত হলেও কোনো পদ বা দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অবগত রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গকসুর যাত্রা শুরু হয়। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রায় সাত বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সহসভাপতি পদে ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. রায়হান খান, সহ সাধারণ সম্পাদক পদে মো. সামিউল হাসান এবং সমাজকল্যাণ ও ক্যান্টিন সম্পাদক পদে মো. মনোয়ার হোসেন অন্তর নির্বাচিত হন।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।