বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

সাগর–রুনি হত্যা: অন্তর্বর্তী আমলেও কেন থমকে রইল বিচার?

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। বরং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১১বার পেছানো হয়েছে। ১৮ মাস পার করেছে অন্তর্বতী সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর বিদায় নেবে ইউনূস সরকার। ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ১৪ বছর আগে নৃশংসভাবে সংঘটিত সাগর-রুনি […]

সাগর–রুনি হত্যা: অন্তর্বর্তী আমলেও কেন থমকে রইল বিচার?

সাগর–রুনি হত্যা: অন্তর্বর্তী আমলেও কেন থমকে রইল বিচার?

নিউজ ডেস্ক

১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৫

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। বরং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১১বার পেছানো হয়েছে।

১৮ মাস পার করেছে অন্তর্বতী সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর বিদায় নেবে ইউনূস সরকার। ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ১৪ বছর আগে নৃশংসভাবে সংঘটিত সাগর-রুনি হত্যার বিচার আলোর মুখ দেখেনি।

বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন তদন্তকারীরারও। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য অন্তর্বতী সরকারের সময়ে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মুস্তফা কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ভবিষ্যতে কী হবে, জানি না। আমাদের তদন্তে এখনো কোনো অগ্রগতি নাই। আমরা হত্যার মোটিভ এবং আসামিদের এখনো চিহ্নিত করতে পারিনি। আমরা হতাশ।

সন্তান হত্যার বিচার পাওয়ার বিষয়ে হতাশ সাগরের মা সালেহা মনির বললেন, আর কী হবে! আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রেখেছি। কোনো সরকারই কিছু করবে বলে মনে হয় না।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি তাদের ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় খুন হন। ঘটনার পর ১৪ বছর পার হলেও এই হত্যার মোটিভ এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পারেনি সরকার।

অন্তর্বতী সরকারের আমলে ১১ বার পিছিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন

হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছরে থানা পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাবের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এই মামলার তদন্ত আসে পিবিআই’র হাতে। গত ৫ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে গত ৫ জানুয়ারি এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য দিন ছিল। কিন্তু পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়ার নতুন তারিখ দেয়া হয়েছে।

এ নিয়ে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১২৩ বার পেছানো হলো। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে পেছানো হয়েছে ১১২ বার আর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পেছানো হলো ১১ বার।

অগ্রগতি নেই অন্তর্বর্তী সরকারের টাস্কফোর্সেরও

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ৩০ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চার সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করে। টাস্কফোর্সের প্রধান করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মুস্তফা কামালকে।

এই টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই হিসাবে গত বছরের মার্চে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সময়মতো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি টাস্কফোর্স।

এরপর এই কমিটি আরো ছয় মাস সময় নিলেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এরপর গত বছরের ২৩ অক্টোবর তারা উচ্চ আদালতে আবেদন জানিয়ে আরো ছয় মাস সময় নেয়। আগামী এপ্রিল মাসে এই সময় শেষ হবে। অবশ্য এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় নেয়ার কথা।

কোথায় আটকে আছে তদন্ত?

এই মামলায় বিভিন্ন সময় মোট আট জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর নতুন কাউকে আটক করেনি। যে আটজনকে আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে ছয়জন এখনো কারাগারে আছেন। বাকিরা জামিনে রয়েছেন।

আটকদের দুইজন বাদে সবাই গ্রিল কাটা চোর ও ডাকাত দলের সদস্য। একজন বাসার দারোয়ান এবং আরেকজন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।

ওই আটজনসহ মোট ২৫ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করিয়েছিল র‌্যাব। ঘটনাস্থল থেকে তারা সাগর-রুনি ছাড়াও আরো দুইজন পুরুষের ডিএনএ পায়। কিন্তু যে ২৫ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের সঙ্গে অজ্ঞাত ওই দুই পুরুষসহ সন্দেজভাজন কারোর ডিএনএ ম্যাচ করেনি।

ডয়চে ভেলের হাতে আসা তদন্ত সংশিষ্ট কিছু ডকুমেন্টে দেখা যায়, দুইজন অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে সেই ডিএনএ’র ভিত্তিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের ছবি আঁকা সম্ভব। সেই ছবি আঁকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থও পরিশোধ করেছিল র‌্যাব। কিন্তু সেই ছবি আর আসেনি।

এর বাইরে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, বঁটি, ছুরির বাঁট, সাগরের হাত বাঁধা ওড়না ও রুনির পরনের কাপড় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছিল র‌্যাব। পাশাপাশি সাগর-রুনির ভাড়া বাসার ভাঙা গ্রিলের অংশ, ঘটনাস্থলে পাওয়া চুল, ভাঙা গ্রিলের পাশে পাওয়া মোজা, দরজার লক, দরজার চেইন ও ছিটকিনির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সেখানে পাঠানো হয়।

এখন পর্যন্ত এই মামলায় বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্তকারীরা ১৬০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কিন্তু কোনো পর্যায়েই তদন্তকারীরা হত্যার মোটিভ এবং জড়িতদের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেনি। কার্যত ডিএনএ টেস্টের পর এই মামলা নিয়ে কোনো কাজ হয়নি।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মুস্তফা কামাল বলেন, আসলে আমরা এখনো হত্যার মোটিভ ও আসামিদের চিহ্নত করতে পারিনি। এখন পর্যন্ত আমরা হতাশ। মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নাই। আগে যা ছিলো, সেই অবস্থায়ই আছে। ভবিষ্যতে কী হবে, তা তো বলতে পারছি না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে যে আটজনকে আটক করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আমরা এখানো পাইনি। আর যে ২৫ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে সেই ডিএনএ কারো সাথে ম্যাচ করেনি। ফলে আমরা অন্ধকারেই আছি।

তার কথা, যাদের আগে আটক করা হয়েছে তারা তো সন্দেহভাজন। তাদের কাছ থেকে কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। আগের তদন্তকারীরা যেসব কাজ করেছেন, তদন্ত করেছেন সবই আমরা আবার দেখেছি। কিন্তু তাতে মামলা ডিটেকট করার মতো কোনো কিছুই আমরা পাই নাই। তারপরও আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। যদিও এখনো কোনো আশার খবর নেই।

আর ধরেন ১৪ বছর আগে এই হত্যাকাণ্ড। যারা হত্যা করেছে তখন তাদের বয়স যদি ৩০ বছর হয়, এখন ৪৪ বছর। এরকম অনেক সমস্যা আছে, বলেন তিনি।

এই মামলায় নিয়োজিত ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ডয়চে ভেলেকে বলেন, মামলার তদন্ত পর্যায়ে আমাদের কিছু করার নেই। তদন্তকারীরা চার্জশিট দিলে আমরা ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য কাজ করব। কিন্তু তদন্তকারীরা কোনো তদন্ত করছে বলে মনে হয় না। শুধু আদালত থেকে সময় নেয়। আমাদেরও প্রশ্ন যে, এই সরকারের সময়েও কেন মামলাটির তদন্ত শেষ করা গেলনা।

স্বজনদের হতাশা

রুনির ভাই নওশের রোমান বলেন, গত আগস্টে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আমি ও সাগর-রুনির ছেলে মেঘ দেখা করি। তখন প্রধান উপদেষ্টা মামলার খোঁজ খবর নেন। তিনিও আমাদের কাছে মামলার অগ্রগতির খবর জানতে চান, ওই টুকু। তদন্তকারীরা এখন আর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। আমরাও আর খোঁজ নেই না।

এই সরকারের আমলে তো আর হত্যার তদন্ত হলো না। আশা করেছিলাম হবে। কিন্ত সে আশা পুরণ হলো না। ভবিষ্যতেও হবে বলে মনে হয় না, হতাশার সঙ্গে বলেন নওশের।

সাগরের মা সালেহা মনির বলেন, প্রফেসর ইউনূস আমাকে ডাকেনও নাই। আমিও দেখা করার চেষ্টা করিনি। তবে আশা করেছিলাম এই সরকার অন্তত: সাগর-রুনি হত্যার বিচার করবে। তদন্ত শেষ করবে। কিন্তু কিছু তো করল না। আসলে এটার বিচার কেউই করবে না। এর শেকড় অনেক গভীরে মনে হয়, বলেন তিনি।

তার কথা, আমি বিচারের আশা তারপরও ছাড়িনি। কেউ বিচার না করলেও আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রেখেছি। তিনি নিশ্চয়ই বিচার করবেন।

তিনি বলেন, পিবিআই দায়িত্ব নেয়ার পর একদিন এসেছিল। কিন্তু তাদের কথা আমার পছন্দ হয় না। তারা কী করছে, তাও আমি বুঝতে পারছি না।

সাগর-রুনির পরিবারের এমন অভিযোগার জবাবে পিবিআই’র প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা যোগাযোগ করে কী করব! তাদের তো নতুন কোনো খবর দেয়ার মতো আমাদের কাছে কোনো তথ্য নাই। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কী বলব! সাগরের মা তো তদন্ত নিয়ে হতাশ। আর আমরাও হতাশ।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা সংস্করণের হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন সমীর কুমার দে। এই প্রতিবেদনের সব ধরনের দায়ভার ডয়চে ভেলের।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।