বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ভিড়ের মধ্যে মোবাইল চুরি, কুষ্টিয়ায় চক্রের ৬ সদস্য আটক

কুষ্টিয়ায় জনসমাগমপূর্ণ স্থানে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগে একটি চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে নগদ ২৯ হাজার ৮৯০ টাকা, কয়েকটি মোবাইল ফোন, ১৩টি খালি মোবাইল ফোনের বক্স এবং বিভিন্ন ধরনের লটারির কুপন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারী রাকিবুল ইসলামের চুরি যাওয়া আইটেল এস২৩ মডেলের মোবাইল ফোনটি […]

ভিড়ের মধ্যে মোবাইল চুরি, কুষ্টিয়ায় চক্রের ৬ সদস্য আটক

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৪৯

কুষ্টিয়ায় জনসমাগমপূর্ণ স্থানে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগে একটি চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে নগদ ২৯ হাজার ৮৯০ টাকা, কয়েকটি মোবাইল ফোন, ১৩টি খালি মোবাইল ফোনের বক্স এবং বিভিন্ন ধরনের লটারির কুপন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারী রাকিবুল ইসলামের চুরি যাওয়া আইটেল এস২৩ মডেলের মোবাইল ফোনটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার কুষ্টিয়া শহরের এন.এস. রোডে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে মোবাইল ফোন চুরির একটি ঘটনা থেকে এ চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। এ ঘটনায় জুয়েল মোল্লা ওরফে বাদশাকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সাহেব আলীসহ আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়।

আটক অন্য ব্যক্তিরা হলেন সাহেব আলী (৫৫), লিটন (৫২), সানমুন মিয়া (১৯), তোফাজ্জল হোসেন (৫৫) ও নুপুর (২৩)। তাঁদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রাকিবুল ইসলাম কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে এন.এস. রোড পার হচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর পকেট থেকে প্রায় ২৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের আইটেল এস২৩ মডেলের একটি মোবাইল ফোন চুরি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনাটি বুঝতে পেরে রাকিবুল ইসলাম জুয়েল মোল্লা ওরফে বাদশাকে ধরে ফেলেন। এ সময় জুয়েল তাঁর কাছে থাকা চুরি করা মোবাইল ফোনটি সাহেব আলী নামের আরেক ব্যক্তির হাতে তুলে দেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সাহেব আলী মোবাইল ফোনটি নিয়ে দ্রুত ভিড়ের মধ্যে পালিয়ে যান। এরপর রাকিবুল ইসলাম ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন জুয়েলকে আটক করেন।

জুয়েলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় শহরের চর মিলপাড়া এলাকার শ্মশানঘাটসংলগ্ন লালন-রবীন্দ্র উদ্যানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সাহেব আলীসহ আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে নগদ ২৯ হাজার ৮৯০ টাকা, কয়েকটি মোবাইল ফোন, ১৩টি খালি মোবাইল ফোনের বক্স এবং বিভিন্ন ধরনের লটারির কুপন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য ও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা অভিযোগ অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে লটারির আয়োজন ও লোকসমাগমকে কাজে লাগিয়ে ভিড়ের মধ্যে মানুষের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে আসছিলেন। পরে চুরি করা মালামাল বিক্রি করা হতো বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া লটারির কুপন ও খালি মোবাইল ফোনের বক্সকে এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে অভিযানের সময় অভিযোগকারী রাকিবুল ইসলামের চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা যায়নি। উদ্ধার হওয়া অন্যান্য মোবাইল ফোনের মালিকানা শনাক্ত এবং সেগুলোর সঙ্গে কোনো চুরির ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

এদিকে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত লালন মেলা ও আখড়াবাড়ি এলাকায় একাধিক মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা নিয়েও আলোচনা চলছে। মেলা চলাকালে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের মধ্যে মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ উঠেছিল। এ পরিস্থিতিতে আটক ছয়জনের সঙ্গে লালন মেলা ও আখড়াবাড়ি এলাকার চুরির ঘটনাগুলোর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা কত দিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, চুরি করা মোবাইল ফোন কোথায় বিক্রি করা হতো এবং উদ্ধার হওয়া মালামালের প্রকৃত মালিক কারা, এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা মামলা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর কুষ্টিয়া মডেল থানায় ৪৩/৪০৭ নম্বরে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৪২০, ৩৭৯, ৪১১, ৪১৩ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাদশা মিয়া।

জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোতে মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, মেলা, লটারি কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মানুষের অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে চোরচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কুষ্টিয়ায় আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা, সাম্প্রতিক মোবাইল চুরির ঘটনাগুলোর সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা এবং এর পেছনে আরও বড় কোনো চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী রাকিবুল ইসলামের চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং এ চক্রের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটন এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।