বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

৪ কোটি তরুণ ভোটারই নির্বাচনের ‘কিংমেকার

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, দীর্ঘ দেড় দশক পর তুলনামূলকভাবে অংশগ্রহণমূলক ভোটের প্রত্যাশা এবং তরুণ ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি সব মিলিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হয়ে উঠেছে সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা। এই নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মূল চাবিকাঠি বা ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত […]

৪ কোটি তরুণ ভোটারই নির্বাচনের ‘কিংমেকার

৪ কোটি তরুণ ভোটারই নির্বাচনের ‘কিংমেকার

নিউজ ডেস্ক

১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৮

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, দীর্ঘ দেড় দশক পর তুলনামূলকভাবে অংশগ্রহণমূলক ভোটের প্রত্যাশা এবং তরুণ ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি সব মিলিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হয়ে উঠেছে সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা।


এই নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মূল চাবিকাঠি বা ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে দেশের তরুণ সমাজ। দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকা এবং নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় এবার প্রায় সাড়ে চার কোটি তরুণ ভোটার ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক মত প্রকাশ করতে প্রস্তুত।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই তরুণ জনগোষ্ঠী যদি সক্রিয়ভাবে ভোটকেন্দ্রে যায়, তাহলে নির্বাচনের ফলাফল যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।

ভোটারের পরিসংখ্যান : তরুণদের সংখ্যাগত শক্তি

পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দেশে মোট ভোটার ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩ জন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জনে। অর্থাৎ গত ১৭ বছরে ভোটার বেড়েছে প্রায় ৪ কোটি ৬৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ ভোটার প্রায় সাড়ে ৪ কোটি। জাতীয় যুবনীতি অনুযায়ী এই বয়সসীমাকেই ‘যুব’ বা তরুণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইসির বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারই প্রায় ৪ কোটি ৩২ লাখ। এর মধ্যে ১৮-২১ বছর বয়সী নতুন ভোটার : ৮৫ লাখের বেশি; ২২-২৫ বছর বয়সী : প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ; ২৬-২৯ বছর বয়সী: প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ; ৩০-৩৩ বছর বয়সী: প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ।

অর্থাৎ দেশের মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ জনগোষ্ঠী- যারা যেকোনো নির্বাচনী আসনের ফলাফল পাল্টে দেয়ার সক্ষমতা রাখে।

কেন এবার তরুণরা ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’?

২০০৮ সালের পর গত ১৭ বছরে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বড় একটি অংশের তরুণ কার্যত ভোট দেয়ার সুযোগ পায়নি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, অংশগ্রহণ সঙ্কট ও আস্থার ঘাটতির কারণে বহু তরুণ জীবনের প্রথম ভোট দেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অনেকের বয়স ইতোমধ্যে ৩০ পেরিয়ে গেছে, অথচ তারা এবারই প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছেন।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং আত্মত্যাগ রাজনৈতিক সচেতনতা আরো তীব্র করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৩০ বছরের কম বয়সী ভোটার গ্রুপটি এবার সবচেয়ে প্রভাবশালী। রাষ্ট্র কিভাবে চলবে, তা নিয়ে তাদের আগ্রহ অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান মনে করেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আমূল বদলে গেছে। তরুণ ভোটারদের বড় অংশ শুধু দর্শক ছিল না- তাদের অনেকেই আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, কেউ কেউ বন্ধু বা স্বজন হারিয়েছেন। ফলে রাজনীতি তাদের কাছে এখন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অংশ। তাদের তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার নির্বাচন, সংস্কার ও ন্যায়বিচার।

তিনি আরো বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের খবর মুহূর্তেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এটি তরুণদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলে, যার প্রতিফলন জাতীয় নির্বাচনেও দেখা যেতে পারে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার জেসমিন টুলি বলেন, ‘২০২৪ সালের যে পরিবর্তন, এবারের ভোটও সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা। তরুণ ভোটার সংখ্যায় ও সচেতনতায় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এগিয়ে। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের প্রত্যাশা বুঝতে হবে।’

তার মতে, তরুণরা প্রার্থী, ইশতেহার ও কর্মসূচি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে। অনেকেই এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি- যা নির্বাচনকে আরো অনিশ্চিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলছে।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বার্তা ও জাতীয় রাজনীতি

জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ডানপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর জয় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তরুণদের মনোজগতের একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তরুণ ভোটার যেদিকে ঝুঁকবে, ফলাফলও সেদিকেই যাবে। তবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল থেকে জাতীয় নির্বাচনের ফল নিশ্চিতভাবে অনুমান করা যায় না।

নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের প্রতিফলন নাও হতে পারে, তবে তরুণ ভোট যে বড় প্রভাব ফেলবে- এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রার্থীদের কাছে তরুণদের প্রত্যাশা কী?

তরুণ ভোটাররা এবার আবেগের চেয়ে যুক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১০ জন তরুণ ভোটারের সাথে কথা বলে উঠে এসেছে তাদের প্রত্যাশার ভিন্ন ভিন্ন দিক।

১. গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, তিনি এমন প্রার্থী চান যিনি সংসদে জনগণের কথা বলবেন এবং কর্তৃত্ববাদ সমর্থন করবেন না।

২. কর্মসংস্থান ও মেধার মূল্যায়ন : চাকরি প্রত্যাশী মামুনুর রশীদ চান মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও বাস্তবসম্মত কর্মসংস্থান পরিকল্পনা।

৩. নিরাপদ ক্যাম্পাস ও নারী নিরাপত্তা : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন নারী নিরাপত্তা ও সাইবার সুরাকে অগ্রাধিকার দিতে চান।

৪. ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা : নতুন ভোটার গৌতম কুমার সরকার নিরাপদ ধর্মচর্চা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

৫. আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও ভিসা সঙ্কট : উচ্চশিক্ষার্থী সাদ বাংলাদেশের বৈশ্বিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেন।

৬. দ্রব্যমূল্য ও বাজার নিয়ন্ত্রণ : সরোয়ার শুভ চান সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হোক।

৭. প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অধিকার : সাব্বির রহমান ইন্টারনেট স্বাধীনতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা চান।

৮. শিক্ষা ও গবেষণা বাজেট : বুয়েটের শিক্ষার্থী সিফাতুল ইসলাম গবেষণা বরাদ্দ ও শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেন।

৯. দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন : তরুণ উদ্যোক্তা রাকিবুল হাসান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দেন।

১০. কৃষি ও স্থানীয় উন্নয়ন : ঝিনাইদহের এক তরুণ ভোটার কৃষি ব্যয় কমানো ও টেকসই উন্নয়ন চান।

তরুণ ভোটার ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ একটি রাজনৈতিকভাবে সচেতন তরুণ সমাজ পেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে তারা দল ও প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারছে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরো তথ্যভিত্তিক হচ্ছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ এই প্রজন্ম প্রার্থীদের অতীত রেকর্ড, আর্থিক স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক অবস্থান দ্রুত যাচাই করতে সক্ষম। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে যারা স্বচ্ছতা, সুশাসন ও তারুণ্যের আকাক্সক্ষাকে ধারণ করতে পারবে তারাই এগিয়ে থাকবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি তরুণ ভোটারদের হাতেই। প্রায় ৪ কোটি তরুণের এই ‘পাওয়ার প্লে’ দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো বাংলাদেশ।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।