ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন আসামি এখনো দেশেই অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. নজরুল ইসলাম।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের পাসপোর্ট ইতোমধ্যে ব্লক করা হয়েছে এবং ইমিগ্রেশন ডাটাবেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি।
তিনি বলেন, “আমরা ফয়সাল নামে এক সন্দেহভাজনের পাসপোর্ট নম্বর পেয়েছি। তার সর্বশেষ ভ্রমণ তথ্য অনুযায়ী তিনি থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন। এরপর তার কোনো দেশত্যাগের রেকর্ড ইমিগ্রেশন ডাটাবেজে নেই।” এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত যে মূল আসামি এখনো দেশের মধ্যেই রয়েছে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “শুধু একজন জুলাই যোদ্ধা হাদিই নন, লক্ষ লক্ষ জুলাই যোদ্ধা রয়েছে। সবার জন্য আলাদা করে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে যাদের ক্ষেত্রে হাই থ্রেট রয়েছে, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, হাদির ওপর হামলার ঘটনায় অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দু’জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হামলার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক এবং অপর দু’জন অবৈধ পথে সীমান্ত পারাপারের সঙ্গে যুক্ত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
মামলার বিষয়ে তিনি জানান, এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। কারণ, ভুক্তভোগীর পরিবার বর্তমানে রোগীর চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। তবে আজ পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না হলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানান তিনি।
ডিএমপি জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।