মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নদী খাল জলাশয় নেই তবুও সড়ক বিভাগ নির্মাণ করছে ৯ কোটি টাকার ব্রিজ

আব্দুল্লাহ আল মামুন ,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ নদী, খাল ও কোন জলাশয় নেই, তবুও সড়ক বিভাগ নির্মাণ করছে ৯ কোটি ১০ লক্ষ টাকার ব্রিজ। দুই পাশে রয়েছে বাড়ি-ঘর ও রাস্তা। টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের রতনগঞ্জ খিলগাতী এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে ব্রিজটি। টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের অফিস সূত্রে জানা যায়, সড়ক […]

নদী খাল জলাশয় নেই তবুও সড়ক বিভাগ নির্মাণ করছে ৯ কোটি টাকার ব্রিজ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:১৯

আব্দুল্লাহ আল মামুন ,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ

নদী, খাল ও কোন জলাশয় নেই, তবুও সড়ক বিভাগ নির্মাণ করছে ৯ কোটি ১০ লক্ষ টাকার ব্রিজ। দুই পাশে রয়েছে বাড়ি-ঘর ও রাস্তা। টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের রতনগঞ্জ খিলগাতী এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে ব্রিজটি।

টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের অফিস সূত্রে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নে ৩৪.৮৮ মিটার দৈর্ঘ্যের ৯ কোটি ১০ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এই ব্রিজ। এই ব্রিজটির নির্মাণ কাজ পায় এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লি. নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজটি বাস্তবায়ন করছে মনোজ ও সুমন নামের টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের দুই প্রভাবশালী ঠিকাদার।

যারা সড়ক বিভাগের বেশির ভাগ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে তাদের ঠিকাদারী বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও সড়ক বিভাগের সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্রিজের পাইলিংয়ের কাজের প্রস্তুতি চলছে।

ব্রিজটি যেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে এটি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের রতনগঞ্জ খিলগাতী এলাকায়। সাধারণত ব্রিজ নির্মাণ করা হয়, পানিপ্রবাহ কিংবা যেখানে কোনো খাল এবং নদীনালা থাকে কিংবা পানির প্রবাহ থাকে এমন জায়গায়।

কিন্তু নির্মাণাধীন ব্রিজটির দুই পাশে কোনো জলাশয় নদী বা কোন খাল নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে তার দুই পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়িঘর ও রাস্তা রয়েছে। আশে পাশে কোনো খাল, নদীনালা ও জলাশয় নেই যে পানি প্রবাহিত হবে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ এখানে সরকারি টাকা অপচয় না করে এই টাকা অন্য কোন রাস্তা ও ব্রিজের কাজে লাগাতে পারতো।

স্থানীয় নাগ বাড়ি এলাকার বাসিন্দা সার্ভেয়ার বেনজীর আহমেদ বলেন, যেখানে ব্রিজ হচ্ছে সেখানে নদী বা খাল কোনদিনই ছিল না। এখানে ব্রিজের কোন প্রয়োজন নেই, শুধু শুধু সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামাল ও রতনগঞ্জ বাজার এলাকার আলম মিয়া বলেন, এখানে কোনদিনই কোন খাল ছিল না।

এখানে ব্রিজ তৈরি করার কোন যুক্তিই নাই। নদী বা খালের পানিপ্রবাহের পথ তো দূরে থাক ব্রিজের দুই পাশে রাস্তা ও বাড়ী ঘর ছাড়া কিছুই নেই। খিলগাতী গ্রামের নান্নু মিয়া, আজগর আলী ও ইলিমুদ্দিন বলেন, গরু ছাড়া গোয়ালের যেমন মূল্য নেই, ঠিক তেমনি কোনো জলাশয় বা নদী ছাড়া ব্রিজের কোনো প্রয়োজন নেই।

এখানে কেন ব্রিজ করা হচ্ছে আমরা কেউ জানি না। তারা আরো জানান, লোহার ব্রিজ কয়েক যুগ আগে করা হয়েছিল তখন কাজে লাগতো। এখানে প্রায় ২ যুগ আগে মানুষজন ঘর বাড়ী নির্মাণ করে বসতি স্থাপন করেছে। এখন নদী খাল বা জলাশয় না থাকায় কোন পানি প্রবাহিত হয় না।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নাগবাড়ী ইউনিয়নের নায়েব মৌজা ম্যাপ ও ভলিয়ম বই পর্যালোচনা করে জানান, সিএস, আরএস ও বিএস রেকর্ডে সরকারি রাস্তা ব্যতীত ঐ জায়গায় কোন নদী, খাল বা জলাশয় নেই। এ বিষয়ে উক্ত কাজের ঠিকাদার মনোজ ও সুমনের সাথে কথা হয় ওই ব্রিজ এলাকায়। তারা বলেন, আমরা ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে।

যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ পেয়েছি, তাই কাজ করছি। আমরা না করলে অন্য কেউ করতো। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেন। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর সড়ক বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, পূর্বে এখানে লোহার ব্রিজ ছিল, তাই সেখানে ব্রিজ করতে হবে।

তাছাড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য বন্য হলে কিভাবে পানি প্রবাহিত হবে এজন্য এখানে ব্রিজ করা হচ্ছে। ব্রিজের পশ্চিম এবং রাস্তার দক্ষিণ পাশে গ্রামের লোকজনের পায়ে হেঁটে যাওয়ার রাস্তা রয়েছে, সেখানে যে কোন প্রতিষ্ঠান কালভার্ট বা ব্রিজ তাদের প্রয়োজনে করতে পারবে। 

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ব্রিজের অনুমোদন আমি দেই না। প্রধান কার্যালয় থেকে টিম সরেজমিনে এসে দেখে, শুনে বুঝে অনুমোদন দেয়।

নদী খাল জলাশয় আছে কিনা, তা নতুন করে যাচাই করে ব্রিজের কাজ করা কিংবা কাজ বন্ধ করা আমার দায়িত্ব নয়। টাঙ্গাইল জেলা ‘নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্য বলেন, অনেক এলাকাতেই পর্যাপ্ত ব্রীজ কালভার্ট না থাকাতে চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

বর্ষার মৌসুমে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা নৌকা কিংবা সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। অথচ অসাধু কিছু কর্মকর্তাদের কারণে প্রকল্পের নামে লোক দেখানো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে রাষ্ট্রের অনেক অর্থ অপচয় হয়।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।