সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

দলের বাইরে থেকে ভিপি ও জিএস প্রার্থী দেওয়ার পথে ছাত্রদল! তৃণমূলে অসন্তোষ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দীর্ঘ ৩৮ বছর পর হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর যা প্রথম। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন ঘিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে রাজনৈতিক জোট ও পদবণ্টনের হিসাব-নিকাশ। ছাত্রদলের সম্ভাব্য প্যানেলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। যা ক্যাম্পাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রতিনিধি ডেস্ক

১১ নভেম্বর ২০২৫, ২২:১৩

রোকুনুজ্জামান, জবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দীর্ঘ ৩৮ বছর পর হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর যা প্রথম। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন ঘিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে রাজনৈতিক জোট ও পদবণ্টনের হিসাব-নিকাশ। ছাত্রদলের সম্ভাব্য প্যানেলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। যা ক্যাম্পাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সংগঠনটির অনেক তৃণমূল নেতাকর্মী অভিযোগ করছেন, নিজেদের দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মীদের বাদ দিয়ে ছাত্রদলের বাইরের প্রার্থী দিয়ে প্যানেল সাজানো হচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ছাত্রদলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একক শক্তিকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে একটি মহল জোরালো ভাবে কাজ করছে। এই সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের চাপ রয়েছে বলেও অভিযোগ করছেন তাঁরা।

ছাত্রদলের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদল জকসু নির্বাচনে যে প্যানেল ঘোষণা করতে যাচ্ছে যেখানে শীর্ষ দুইটি পদ ভিপি এবং জিএসসহ সম্পাদকীয় এবং সদস্য পদে আরও ৮ পদসহ মোট ১০টি পদেই ছাত্রদলের বাইরের প্রার্থীদের দিয়ে প্যানেল ঘোষণা হতে পারে। এরমধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদ ও অন্যান্য সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে এই প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এর বাইরে দুয়েকজন পরিচিত মুখ সাধারণ শিক্ষার্থীও থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। এতে করে ছাত্রদলের দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করছেন।

তারা বলছেন, বহু বছর ধরে তারা সংগঠনের পতাকা বহন করে আন্দোলন করেছেন নির্যাতন সহ্য করেছেন। অথচ এখন বাইরের মানুষ এসে নেতৃত্বের আসনে বসবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না বলেও অভিযোগ তাদের।

ছাত্রদল ও অন্যান্য সূত্রমতে, ছাত্রদল তাদের প্যানেলে ২১টি পদের মধ্যে প্রায় ১০টি পদ বাইরের সংগঠন বা অরাজনৈতিক প্রার্থীদের দিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের কাছে যেতে পারে ভিপি পদসহ ৬টি পদ, এখানে ভিপি পদে ছাত্র অধিকার পরিষদ জবি শাখার সভাপতি একেএম রাকিব, জিএস পদে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও খাদিজাতুল কুবরাকে, যিনি আওয়ামী লীগের সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাভোগ করেছিলেন। এজিএস পদে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতিকুর রহমান তানজিলের নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে। ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এমন হলে শীর্ষ তিন পদের মধ্যে এক এজিএস ছাড়া ভিপি ও জিএস শীর্ষ দুই পদেই ছাত্রদলের বাইরের প্রার্থী হবেন।

এদিকে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন, ছাত্রদলের প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক সিন্ডিকেট প্রভাব ফেলছে। অনেকে বলছেন, ছাত্রদলের জবি শাখার ওপর একটি বিশেষ মহল চাপ প্রয়োগ করছে যাতে যৌথ প্যানেলে ছাত্রদলের বাইরের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এতে স্থানীয় নেতারা রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান হারানোর আশঙ্কা করছেন। নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একক শক্তিকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে একটি মহল জোরালো ভাবে কাজ করছে। এই সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের চাপ রয়েছে বলেও অভিযোগ করছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাখা ছাত্রদলের এক যুগ্ম আহবায়ক বলেন, ছাত্রদল সবসময় জবিতে শক্ত অবস্থানে ছিল। এখন যদি বাইরের প্রার্থীদের দিয়ে প্যানেল গঠন হয়, তাহলে আমাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মূল্য শূন্যে নেমে আসবে। আমরা চাই, জবি ছাত্রদলের নিজস্ব প্রার্থীরাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের একাধিক যুগ্ম আহ্বায়ক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন। এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান—সব জায়গায় জবি ছাত্রদল ছিল সামনের কাতারে। এখন যখন জকসু নির্বাচন সামনে, তখনই বহিরাগতদের প্রাধান্য দিয়ে আমাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে। এটি একটি মহলের ষড়যন্ত্র, যারা জবি ছাত্রদলের ঐক্য ও নেতৃত্বকে ধ্বংস করতে চায়।

তারা আরও বলেন, আমরা চাই আমাদের সংগঠনের যোগ্য, মেধাবী ও ত্যাগী নেতারাই প্রার্থী হোক। বাইরের সংগঠনের নেতাদের এনে প্যানেল সাজানো মানে হচ্ছে ছাত্রদলকে দুর্বল করা। ভাড়াটে প্রার্থী দিয়ে কখনও ছাত্র রাজনীতি টেকে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের যে ঐতিহ্য আছে, তা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওতুল ইসলাম পরাগ বলেন, আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না যেখানে বিগত সরকারের সময়ে নির্যাতনের শিকার কোনো ত্যাগী কর্মী তার প্রাপ্য জায়গা থেকে বঞ্চিত হবে। আমাদের অভিভাবক দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ, তিনি যেন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের যোগ্যতাকেই অগ্রাধিকার দেন। আমি সবসময় দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তবে এমন সিদ্ধান্ত যেন না হয় যা আমাদের কর্মীদের হতাশ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, সবকিছু বিবেচনা করে আমরা একটা ইনক্লুসিভ প্যানেল দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা চেষ্টা করছি, আশা করি ভালো কিছু হবে।

শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অসন্তোষের বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে সবাই তো নিজেকে মনে মনে ভিপি ভাবে। এতে আবার অনেক মিডিয়া হাইপও তুলে দেয়। কিন্তু আসলে বাস্তবতা তো ভিন্ন।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষাঙ্গন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব।  বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই […]

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৩

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারীদের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীম লাবিব। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অগ্নিবীণা হলের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় লাবিব মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাথায় ৬টি সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সূত্রমতে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের সামনে। সেখানে খোলামেলাভাবে গাঁজা খাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে সদস্য সচিবের অনুসারী রাশেদুল হাসান রাতুল চারুকলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে জেরা করে। পরে তাদের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। চারুকলা বিভাগের সেই শিক্ষার্থীরা আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারী। এরপরে আহ্বায়ক হাবিবের এক মিছিলে এই ঘটনার রেশ ধরে রাতুল ও সদস্য সচিবের অন্যান্য অনুসারীদের সাথে পুণরায় বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।

এ ঘটনার সময় সদস্য সচিব মামুন সরকারকে নিয়ে কটু কথা বলার অভিযোগে বিদ্রোহী হল থেকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসেন সদস্য সচিব ও তার অনুসারীরা। পরে অগ্নিবীণা হলের সামনে আহ্বায়ক হাবিবের অনুসারীরা উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মাঝে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষকে উস্কে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহাবুল আলম, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

সংঘর্ষের পর এক পক্ষ অগ্নিবীণা হল ও আরেক পক্ষ বিদ্রোহী হলে অবস্থান নেয়। এসময় ক্যাম্পাস জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

আহত তানজীম লাবিব বলেন, আমাদের সবাই অগ্নিবীণা হলের ভিতরে চলে গেলেও শাহাবুল আলম হলের গেইট বন্ধ করে দেয়ায় আমি ও ইসরাফিল ভাই ভিতরে যেতে পারি নি। এসময় অপর পক্ষের সবাই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার উপর হামলা করে ও হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি ছাত্রলীগ বিরোধী মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিকে একটা হট্টগোল শুরু হয়। যেখানে সাবেক ছাত্রলীগ করা লোকজন যারা এখন ছাত্রদলের একটি গ্রুপে অনুপ্রবেশ করেছে তারা ছিলো। আমি সেখান থেকে সবাইকে সরিয়ে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে এই ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা একজন যুগ্ম-আহ্বায়ককে নিয়ে যায়। পরে সেখানে উপস্থিত হলে ছাত্রলীগকে প্রতিহত করতে হাতাহাতির ঘটনা হয়।

ঘটনার বিষয়ে সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সিনিয়র জুনিয়রদের বাকবিতন্ডা থেকে আমি বিষয়টা মিমাংসার জন্য ইনানকে অগ্নিবীণা হলের সামনে নিয়ে আসি। তখন সেখানে শাখা ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন নেতা উপস্থিত হয়ে ঘটনাকে উস্কে দেয় ও মারামারির ঘটনা ঘটায়। চিহ্নিত ছাত্রলীগ করা অনুপ্রবেশকারীরা এই ঝামেলাগুলো করছে। বারবার তারা মারামারির পথে যাচ্ছে। আমি চাই ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনীতির চর্চা হোক এবং সাবেকরা যেন ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে প্রভাব না ফেলে।

নিজের পক্ষে ছাত্রলীগ অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে মামুন সরকার বলেন, যারা পূর্বে চাপে পরে ছাত্রলীগ করেছে কোন পদে ছিলো না, খারাপ কাজে সম্পৃক্ত ছিলো না ও জুলাইয়ের পক্ষে ছিল তাদের মধ্যে যারা ছাত্রদলকে ধারণ করতে চেয়েছে আমি তাদের জায়গা দিয়েছি। কিন্তু অন্য পক্ষে ছাত্রলীগের সভাপতিকে রান্না করে খাওয়ানো লোকজনও আছে তারা নিজেদের বিষয়ে অভিযোগ তুলছে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের নিজেদের মাঝে একটা ঝামেলা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলে বহিষ্কৃত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে গত (২৮ জুলাই) মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা থেকে (২৯ জুলাই) বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত তিন দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় ২ জন আহত হয়।