গণভোটসহ সব বিরোধপূর্ণ বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। অন্যথায় সরকার নিজ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে বলে স্পষ্ট করেছে আইন উপদেষ্টা পরিষদ।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ সময় অন্যান্য উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। আসিফ নজরুল বলেন, “সরকার সব রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ জানিয়েছে— গণভোট, নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে যে অমিল রয়েছে, তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই মীমাংসা করতে হবে। এরপর সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে।”
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আয়োজন নিয়ে আগের বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে সব দলই নীতিগতভাবে একমত হয়েছিল, তবে গণভোটের সময়সূচি নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। কমিশন রূপরেখায় উল্লেখ করেছিল— গণভোট আয়োজন সরকারের এখতিয়ারেই থাকবে।
সরকার ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি ও তাদের শরিক দলগুলো চায়, সেই দিনেই গণভোটের আয়োজন করা হোক। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলো নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছে, অন্তত জাতীয় নির্বাচনের আগে। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, তারা নির্দিষ্ট সময় নিয়ে অনমনীয় নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই “এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম” রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। এখন দেখার বিষয়— দলগুলো ঐক্যমত্যে পৌঁছে আলোচনার পথ বেছে নেয় নাকি সরকার এককভাবে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।