ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও শায়খে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেছেন, “নৌকা, ধান আর লাঙল বুকে নিয়ে কেউ ঘুমায় না, কিন্তু হাতপাখা সবাই বুকের ওপর রাখে।” তিনি বলেন, হাতপাখা এমন এক প্রতীক যা দেশের সব শ্রেণির মানুষ—ধনী-গরিব, মুসলমান-অমুসলিম—সবার কাছে পরিচিত ও প্রিয়।
রোববার বিকেলে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পাটবাজারে পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঈশ্বরগঞ্জ শাখা এই গণসমাবেশের আয়োজন করে।
মুফতি ফয়জুল করিম বলেন, “যারা নৌকা নিয়ে ভোটে যায়, তারা নৌকা চালাতে পারে না। যারা ধান নিয়ে ভোটে যায়, তারা ধান কাটতে জানে না। আর যারা লাঙল নিয়ে ভোটে যায়, তারা লাঙল চালাতে জানে না। কিন্তু হাতপাখা এমন প্রতীক, যার ব্যবহার সবাই জানে। কারণ, কারেন্ট ফেল করলে হাতপাখা ফেল করে না।”
তিনি আরও বলেন, “হাতপাখা কেবল একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়, এটি মানুষের শান্তি ও ইসলামের মূল্যবোধের প্রতীক। হাতপাখার বিজয় মানে ইসলামের বিজয়, এ দেশের সাধারণ মানুষের বিজয় এবং ন্যায় ও শান্তির বিজয়। তাই সব মার্কা দেখা শেষ—এখন সময় হাতপাখার বাংলাদেশ গড়ার।”
চরমোনাই পীর আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে মানুষ পরিবর্তন চায়। জনগণ আর দুর্নীতি, দমননীতি ও দলীয় স্বার্থের রাজনীতি চায় না। “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে উঠবে, এবং প্রত্যেক নাগরিক শান্তিতে জীবনযাপন করতে পারবে,” বলেন তিনি।
গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি ও ময়মনসিংহ–৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে হাতপাখা প্রতীকের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি হাবিবুল্লাহ। সঞ্চালনা করেন উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাঈদুর রহমান সাঈদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম রুহুল আমীন, জামায়াতে ইসলামী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আমির অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল হক হাসান, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মোহাম্মদ মারুফ, এবং ইসলামী আন্দোলন ময়মনসিংহ জেলা উত্তরের সভাপতি হাদিউল ইসলাম প্রমুখ।