শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

মিম্বারে বসেই জামায়াতের চিঠি ছিঁড়ে ফেললেন মসজিদের খতিব

রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীকে একটি সতর্কতামূলক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জুমার খুতবায় জামায়াতবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় ওই চিঠিতে। তবে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুমার নামাজের আগে মিম্বারে বসে সেই চিঠি প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করে নিজ হাতে ছিঁড়ে ফেলেছেন খতিব। গত ১৬ অক্টোবর উত্তরা পশ্চিম […]

মিম্বারে বসেই জামায়াতের চিঠি ছিঁড়ে ফেললেন মসজিদের খতিব

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৮ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৩৪

রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীকে একটি সতর্কতামূলক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জুমার খুতবায় জামায়াতবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় ওই চিঠিতে। তবে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুমার নামাজের আগে মিম্বারে বসে সেই চিঠি প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করে নিজ হাতে ছিঁড়ে ফেলেছেন খতিব।

গত ১৬ অক্টোবর উত্তরা পশ্চিম থানা জামায়াতে ইসলামী দপ্তর সম্পাদক জি. এম. আসলামের স্বাক্ষরিত চিঠিটি শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পক্ষে–বিপক্ষে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

চিঠিতে বলা হয়, বায়তুন নূর জামে মসজিদ অত্র এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ, যেখানে সেক্টরবাসীসহ বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ নামাজ আদায় করেন। তাই খতিবের দায়িত্ব হলো মিম্বারের মতো নিরপেক্ষ স্থান থেকে কুরআন–হাদিসের আলোকে সবার জন্য হেদায়েতমূলক বয়ান করা।

কিন্তু গত ১০ অক্টোবরের জুমার খুতবায় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ‘বিভ্রান্তিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, খতিবের বক্তব্য ছিল ‘হীনমন্যতা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক’, যা সমাজে অনৈক্য, বিভেদ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এতে বলা হয়, অনতিবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যথায় উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার খতিব ও মসজিদ কমিটিকে নিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

তবে শুক্রবার জুমার আগে মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী মিম্বারে বসে খোলাখুলিভাবে চিঠিটি প্রত্যাখ্যান করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুতবায় তিনি বলেন, ‘রোজা আর পূজা এক নয়। গত শুক্রবারও বলেছি, আজ আবারও বলছি—আপনারা সংযত ও সংশোধন হোন, তাওবা পড়ুন।’

এরপর তিনি মুসল্লিদের সামনে জামায়াতের পাঠানো চিঠিটি উপস্থাপন করে বলেন, তিনি এটি মানছেন না। এসময় উপস্থিত মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দেন। পরে খতিব নিজ হাতে চিঠিটি ছিঁড়ে ফেলেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, খতিব একজন নাগরিক হিসেবে যে কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন করতে পারেন, কিন্তু মসজিদের মিম্বারে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া শোভন নয়। মসজিদে বিভিন্ন মত ও দলের মানুষ নামাজ আদায় করেন—তাই মসজিদে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া অনুচিত। রাজনৈতিক ময়দানে সভা–সমাবেশে বক্তব্য দেওয়া যেতে পারে, তবে মিম্বারে বসে কোনো দলের এজেন্ডা প্রচার করা যাবে না।

এ ছাড়া চিঠিতে মসজিদ কমিটিকে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যেন মসজিদে সব মতের মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। খতিবের পক্ষপাতমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

চিঠিটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে ডিয়ারাবাড়ী আর্মি ক্যাম্প, উত্তরা; উপ-পুলিশ কমিশনার, উত্তরা বিভাগ (ডিএমপি); অফিসার ইনচার্জ, উত্তরা পশ্চিম থানা; এবং ১২ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৯০

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫১৭

রাজনীতি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য […]

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে জানিয়ে সারজিস বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও ফিরিয়ে দিতে হবে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং প্রধানের আকস্মিক সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখনই ভারতে যেতে হবে পরে গেলে ক্ষতি হবে-এ ধরনের বক্তব্য কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রকাশ নয়।

এটা ভারতের ‘আধিপত্যবাদের স্টেটমেন্ট’ বলে মনে হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে দুটি শক্ত অবস্থানসম্পন্ন বিবৃতি দিয়েছে, তা সাধুবাদ জানাই। তবে, এসব অবস্থান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

এসময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রিফাত রশিদ, আবু বাকের মজুমদারসহ এনসিপির কক্সবাজারের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৯০

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৯০