বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পর্যটন স্পট বান্দরবানের প্রান্তিকলেক–কদুখোলায় বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারে রোহিঙ্গা চক্র

মঈন উদ্দীন,বান্দরবান প্রতিনিধিঃ সংঘবদ্ধ একটি চক্রের (রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট) বিরুদ্ধে বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন স্পট প্রান্তিকলেক ও কদুখোলা এলাকায় খাস পতিত পাহাড়, সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বান্দরবান সীমান্ত লাগোয়া চট্টগ্রামের বনবিভাগের রিজার্ভ ফরেস্টে বিশেষ জাল ও নানা ফাঁদ পেতে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বন্যপ্রাণী শিকার এবং জীবিত বন্দী করে বাইরে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ঐ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাতের […]

পর্যটন স্পট বান্দরবানের প্রান্তিকলেক–কদুখোলায় বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারে রোহিঙ্গা চক্র

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০০:২৪

মঈন উদ্দীন,বান্দরবান প্রতিনিধিঃ

সংঘবদ্ধ একটি চক্রের (রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট) বিরুদ্ধে বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন স্পট প্রান্তিকলেক ও কদুখোলা এলাকায় খাস পতিত পাহাড়, সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বান্দরবান সীমান্ত লাগোয়া চট্টগ্রামের বনবিভাগের রিজার্ভ ফরেস্টে বিশেষ জাল ও নানা ফাঁদ পেতে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বন্যপ্রাণী শিকার এবং জীবিত বন্দী করে বাইরে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

ঐ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাতের আধাঁরে অবাধে সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও উক্ত বনবিভাগের রিজার্ভ ফরেস্টের বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে পাচারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ফলে উক্ত এলাকায় মাইলের পর মাইল বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল বৃক্ষ ও বনশূন্য হয়ে পড়ছে। এছাড়াও নানা প্রজাতির পশুপাখি শিকারের কারণে এসব পাহাড় ও বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫/১০ বছর যাবত চক্রটির কয়েকজন সদস্য প্রান্তিকলেক এলাকায় সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও পতিত খাস পাহাড়ের প্রায় ২০ একরের অধিক জায়গায় সরকারের নিষিদ্ধকৃত পরিবেশ ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছ লাগিয়ে ভূমি দখল করে নিয়েছে। স্থাপন করেছে ঘরবাড়িও।

স্থানীয়রা বলেন, এসব পরিবেশ ক্ষতিকর গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাদের কৌশল হলো গাছগুলো বড় হয়ে গেলে প্রশাসন ও লোকজনকে বুঝাতে সক্ষম হবে তাঁরা জায়গাগুলোতে দীর্ঘ বছর ধরে ভোগদখলে আছেন এবং বসবাস করছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম আইন অনুযায়ী কোন পাহাড়, ভূমি যদি কারও দীর্ঘ দিন বা বছর ভোগদখলে থাকে,

এসব পাহাড়, ভূমি খাস হলেও বসবাস ও চাষাবাদ করতে পারবে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চেষ্টা করছে চক্রটি। বসতি স্থাপন ও বসবাসের সুযোগ নিয়ে এরা বন্যপ্রাণী শিকার, গাছ পাচারসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।

স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত শনিবার সরেজমিনে সুয়ালক ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড কদুখোলা ও প্রান্তিকলেকসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে দেখা যায়,

পতিত খাস পাহাড়, বনভূমি, বনাঞ্চল ও কালাইছাখোলা সীমান্ত লাগোয়া চট্টগ্রামের বনবিভাগের রিজার্ভ ফরেস্ট এরিয়ার কাছাকাছি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে একাধিক অবৈধ বাড়ি গড়ে উঠেছে।

বাড়ির চারপাশে রয়েছে সরকারের নিষিদ্ধকৃত ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি ছোটবড় গাছ, চারাগাছের একাধিক বাগান। বাড়ির উঠানে হাঁস-মুরগি, গরু, ছাগল দেখা গেলেও বসতঘরগুলো লোকশূন্য অবস্থায় পাওয়া যায়।

স্থানীয় লোকজন বলেন, সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা এসব খাস জায়গায় দখল করে ঘরবাড়ি তৈরি করেছে ও পরিবেশে ক্ষতিকর গাছ বাগানগুলো রোপণ করেছে। আপনাদের (সাংবাদিকদের) উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের লোকজন পাহাড়ে গা-ঢাকা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিগত ৫/১০ বছর আগেও বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের প্রান্তিকলেক, হলোদিয়া, কদুখোলা, ঢাইক্কাখোলা, ভাগ্যকুল, রোয়াইজ্জাখোলা, কালাইছাখোলায় শত শত খাস পাহাড়, বনভূমি ও এই এলাকা সংলগ্ন চট্টগ্রাম বনবিভাগের রিজার্ভ ফরেস্ট ও পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এরিয়া জুড়ে ভরপুর গাছপালা এবং বনাঞ্চলে অভয়ারণ্য ছিল পশুপাখি ও নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঐ সংঘবদ্ধ চক্র দিনেদুপুরে ও রাতের আধাঁরে রিজার্ভ ফরেস্টে, বনাঞ্চল থেকে অবাধে কাঠ এবং বন্যপ্রাণী নিধন ও পাচার করে আসছে। এতে বনাঞ্চল উজাড়সহ বন্যপ্রাণী ও তাদের আবাসস্থল ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

বনবিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এসব বনাঞ্চলে ময়না, হিল ময়না, টিয়া, রাজধনেশ, দোয়াল, মুতুরা, ঘুঘু, বনপায়রা, সাদাবক, কাক, কোকিলপাখি, শালিক, হরিয়াল, চড়ুই, কুড়াডগ, বনহাঁস, বাজপাখি, কোয়েল পাখি,

চিল, পেঁচা, মাছরাঙা পাখি, ঈগল, কাঠঠোকরা, বুলবুলি, কাঠশালিক, বউকথাকও, পাতিহাঁস, বাবুইসহ প্রায় ৩৫-৪০ প্রজাতির পাখি এবং সাম্বার হরিণ, মায়া হরিণ, গয়াল, বুনো গরু, বন ছাগল,

বনরুই, গন্ধগোকুল, বেজি, তক্ষক, ভোঁদড়, চিতাবিড়াল, লজ্জাবতী বানর, মেঘলা চিতা, মার্বেল চিতা, কালো ভালুক, উলু বানর, উল্লুক, লম্বা লেজি শজারু, হলুদ কচ্ছপ, মথুরা, বন মোরগ, বানর, লজ্জাবতী বানর, সজারু, বনশূকর, নেকড়ে বাঘ,

বনশিয়াল, বনকুকুর (রাম কুকুর), কাঠবিড়ালি, বনবিড়াল, অজগর, লাল পান্ডা, ২১ প্রজাতির ইঁদুরসহ বিভিন্ন সরীসৃপ প্রাণী দেখা যেত। কিন্তু ঐ সংঘবদ্ধ চক্র অবাধে শিকার ও বন্দী করে পাচারের কারণে এসব বন্য প্রাণীকুল বিলুপ্তির পথে রয়েছে।


কদুখোলার বাসিন্দা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, চক্রটির সদস্যদের নাম বলবো না, বললে আমার সমস্যা হবে। একথা জানিয়ে বলেন, এরা প্রায় সময় জাল, ফাঁদ পেতে বনমোরগ, সাম্বার হরিণ, মায়া হরিণ, বুনো গয়াল, বুনো গরু,

বুনো ছাগল শিকার করে গ্রামেই আসতো ও কেটে মাংস বিক্রি করতো। একটি বনমোরগ ২-৩ হাজার টাকা, হরিণ, বুনো গরু, গয়াল, বুনো ছাগলের মাংস প্রতি কেজি দেড়, দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

প্রান্তিকলেক এলাকার মুরুং পাড়ার বাসিন্দা রেংনিং ম্রো বলেন, এই এলাকায় ১২-১৩ জনের সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। চক্রের মূল হোতা সৈয়দ আলম, আব্দুল আলম ও শফিকুল ইসলাম।

এরা বিগত ৮-১০ বছর যাবত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও সরকারি বনাঞ্চল, পাহাড়, বনভূমি, বনবিভাগের বাগানের গাছ, কাঠ কেটে পাচারের পাশাপাশি পাখি, বিভিন্ন বন্যপ্রাণী হত্যা ও বন্দী করে বিক্রিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।

ঢাইক্কাখোলার কৃষক আব্দুল জালাল বলেন, পাখি ও বন্যপ্রাণী শিকারের জন্য চক্রটির কাছে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন অস্ত্র ও জীবিত বন্দী করার জাল, নানারকম ফাঁদ পাতার যন্ত্র রয়েছে।

এরা খুবই হিংস্র প্রকৃতির লোক। স্থানীয়দের সাথে প্রায় সময় ঝগড়া, বিবাদ, মারামারিসহ নানা অপকর্মে জড়ায়। স্থানীয়রা এদের ভয় পায়। তাই সহজে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চায় না।

কদুখোলার বাসিন্দা ছোলিম উল্লাহ বলেন, চক্রটির অধিকাংশ সদস্য মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে এই এলাকার মানুষের বাগান, চাষাবাদ জমি ও পাহাড়ে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে এরা স্থানীয়দের সাথে ছেলে-মেয়ের বিয়ে-সাদী করিয়ে আত্মীয়তার মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে শক্তি অর্জন করে ফেলেছে।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে, অর্থের বিনিময় ও নানা কৌশলে জাল কাগজ তৈরি করে বাংলাদেশের নাগরিকও হয়ে গেছে এরা।

একই এলাকার কৃষক আব্দুস ছালাম বলেন, পূর্বে যেসব রোহিঙ্গারা এসেছে, এরা কৌশলে ভোটার হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হয়ে গেছে। পুরাতন ও নতুনরা মিলে পার্বত্য বান্দরবান জেলার পাহাড়, বনভূমি দখল করে বসতি স্থাপন, গাছ নিধন ও বন্যপ্রাণী হত্যা, পাচারসহ নানা অপকর্ম করছে।

পাহাড়, বনভূমি দখল, পাখি, বন্যপ্রাণী শিকার ও কাঠ পাচারের বিষয়টি স্বীকার করে সুয়ালক ইউনিয়নের কদুখোলা ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রফিকুল আলম জানান, চক্রটির কাছে শিকারী জাল, ফাঁদ পাতার যন্ত্রসহ নানা দেশীয় অস্ত্র রয়েছে।

এরা এতই কৌশলী যে, এসব অস্ত্র পাহাড়, জঙ্গলের ঝোপঝাড়ে ও মাটিতে বিশেষ কায়দায় গর্তে লুকিয়ে রাখে। রাতের আধাঁরে ও জনমানব শূন্য এলাকায় কাজে লাগায়। অস্ত্র থাকায় স্থানীয়রাও ভয় পায় তাদের।

বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও তাদের কৌশলের কারণে এসব উদ্ধার করা যাচ্ছে না। চক্রটির সদস্যরা পূর্বে রোহিঙ্গা নাগরিক ছিল বলে জানান এই ইউপি সদস্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সংস্থা এক কর্মকর্তা বলেন, ১৫-২০ বছর আগে এসে যেসব রোহিঙ্গা সুয়ালকসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের বাগান, জমিতে পাহারাদার ও চাষি হিসেবে আশ্রয় নেয়। এই এলাকায় দীর্ঘ বছর থাকার সুবাদে নানা কৌশলে এদেশের নাগরিক হয়ে গেছে।

এরা বন্যপ্রাণী, কাঠ পাচার, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকার তথ্য রয়েছে আমাদের কাছে। তদন্ত চলমান হলেও বিষয়টি জটিল আকার ধারএ বিষয়ে বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, বর্তমানে বন্যহাতি সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প চালু রয়েছে।

তবে পাখিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী হত্যা, পাচার রোধ ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে বনবিভাগ।

বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় এ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নিতে বনবিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।