বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

ভিপি-জিএসে এগিয়ে ছাত্রশিবির, এজিএসে ছাত্রদল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন শেষে চলছে ভোট গণনা। ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ৫টি কেন্দ্রের ফলাফল। এগুলোতে ভিপি-জিএস পদে এগিয়ে আছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সাঈদ বিন হাবিব। আর এজিএস পদে ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এগিয়ে আছেন। শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের ঘোষিত ফলাফলে ছাত্রশিবির–সমর্থিত সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের […]

ভিপি-জিএসে এগিয়ে ছাত্রশিবির, এজিএসে ছাত্রদল

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০২:১৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন শেষে চলছে ভোট গণনা। ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ৫টি কেন্দ্রের ফলাফল। এগুলোতে ভিপি-জিএস পদে এগিয়ে আছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সাঈদ বিন হাবিব। আর এজিএস পদে ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এগিয়ে আছেন।

শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের ঘোষিত ফলাফলে ছাত্রশিবির–সমর্থিত সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ছাত্রদল–মনোনীত প্যানেল।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে চাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, এই হোস্টেলে মোট ভোটার ছিলেন ১৫৬ জন, এর মধ্যে ১২৪টি ভোট কাস্ট হয়েছে।

ফলাফলে চাকসুর ভিপি পদে ছাত্রদলের প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ৩৪ ভোট এবং সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি পেয়েছেন ২৭ ভোট।

জিএস পদে সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের সাঈদ বিন হাবিব পেয়েছেন ২৮ ভোট, ছাত্রদলের শাফায়েত হোসেন ১৪ ভোট এবং সুদর্শন চাকমা ২৯ ভোট পান।

এজিএস পদে ছাত্রদলের তৌফিক পেয়েছেন সর্বাধিক ৩৮ ভোট, আর সাজ্জাত হোছন মুন্না পেয়েছেন ১১ ভোট।

এছাড়া শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেল সংসদের ফলাফলও ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে খন্দকার মাসরুল আল ফাহিম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মোহাম্মদ আফসার সরকার, ক্রীড়া ও ক্যান্টিন সম্পাদক পদে সুকুমার রায়, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মো. ফরহাদ হোসেন সুমন, দপ্তর সম্পাদক পদে আশিক বাবু, স্বাস্থ্য, আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে জামিল হোসেন এবং সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে তুষার দে নির্বাচিত হয়েছেন।

মাস্টার দা সূর্য সেন হলের ভোটের ফলাফলে ভিপি ও এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। জিএস পদে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রশিবির প্যানেলের প্রার্থী।

রাত ১১ টার দিকে বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের ডিন অফিসে এ হলের ফল ঘোষণা করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সদস্যসচিবের উপস্থিতিতে ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ ড. আল আমীন।

ফলাফলে দেখা গেছে, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ১৪১ ভোট। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ইব্রাহীম হোসেন রনি পেয়েছেন ১৩০ ভোট।

জিএস পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থী সাঈদ বিন হাবিব ১৭৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদলের প্রার্থী শাফায়াত হোসেন পেয়েছেন ৫৩ ভোট।

এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ১৭০ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। শিবিরে প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৬৫ ভোট।

অতীশ দীপঙ্কর হলের ফলাফলে দেখা গেছে, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ২২৩ ভোট। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ইব্রাহীম হোসেন রনি পেয়েছেন ৯০ ভোট।

জিএস পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থী সাঈদ বিন হাবিব ৮৩ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদলের প্রার্থী শাফায়াত হোসেন পেয়েছেন ১৬৪ ভোট।

এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ২৬৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। শিবিরে প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৪৫ ভোট।

এই হল সংসদে ভিপি পদে রিপুল চাকমা ২১৭ ভোট ও জিএস মো. কবির আলী ১৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

এছাড়া এজিএস অনন্ত কির্ত্তনীয়া ১৭৫, খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক রুমনজয় তঞ্চঙ্গ্যা ২৯৭, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মনষা ত্রিপুরা ৩০৫, দপ্তর সম্পাদক অরিয়ন চাকমা ৩১২ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন।

সোহরাওয়ার্দী হলের ফলাফলে ভিপি পদে ছাত্রশিবিরের ইব্রাহিম হোসেন রনি ১৪৮৮ এবং ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ৬৮০ ভোট পেয়েছে। জিএস পদে ছাত্রশিবিরের সাইদ বিন হাবিব ১৪০৪ এবং ছাত্রদলের মো. শাফায়েত হোসেন ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন।

এজিএস পদে ছাত্রশিবিরের সাজ্জাত হোছন মুন্না ৯০৬ এবং ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ৮৬৮ ভোট পেয়েছেন।

এছাড়া সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ভিপি পদে নেয়ামতুল্লাহ ফারাবী, জিএস মো. নুরুন্নবী সোহান বিজয়ী হয়েছেন।

শহীদ আবদুর রব হলে ফলাফলে ভিপি পদে ছাত্রশিবিরের ইব্রাহিম হোসেন রনি ৬৪৯ এবং ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ২৮২ ভোট পেয়েছেন। জিএস পদে ছাত্রশিবিরের সাইদ বিন হাবিব ৬৩৬ এবং ছাত্রদলের মো. শাফায়েত হোসেন ১৫৭ ভোট পেয়েছেন।

এজিএস পদে ছাত্রশিবিরের সাজ্জাত হোছন মুন্না ৩৬৩ এবং ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ৫৪০ ভোট পেয়েছেন।

এছাড়া হল সংসদে ভিপি পদে মো. বোরহান উদ্দিন, জিএস পদে মনির হোসেন, এজিএস পদে মো. আবু বক্কর বিজয়ী হয়েছেন।

বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলাফল গণনা চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।