শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা অর্ধশতাধিক পুলিশ কর্মকর্তার

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নির্দেশে সংঘটিত জুলাই গণহত্যার অন্যতম মাস্টার মাইন্ড ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অর্ধশতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা। তারা এখন কলকাতায় নিরাপদ আশ্রয়ে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে গুম, খুন, নির্যাতন, বিরোধী দল দমন-পীড়নসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত এসব পুলিশ কর্মকর্তা জুলাই বিপ্লবের পর ভারতে পালিয়ে গেছেন। হাবিবুর রহমানের পাশাপাশি […]

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা অর্ধশতাধিক পুলিশ কর্মকর্তার

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬:৫৪

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নির্দেশে সংঘটিত জুলাই গণহত্যার অন্যতম মাস্টার মাইন্ড ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অর্ধশতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা। তারা এখন কলকাতায় নিরাপদ আশ্রয়ে।

শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে গুম, খুন, নির্যাতন, বিরোধী দল দমন-পীড়নসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত এসব পুলিশ কর্মকর্তা জুলাই বিপ্লবের পর ভারতে পালিয়ে গেছেন।

হাবিবুর রহমানের পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, ডিআইজি আনিসুর রহমান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, বহুল আলোচিত অতিরিক্ত ডিআইজি ‘র’-এর এজেন্ট প্রলয় কুমার জোয়ার্দারসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা এখন কলকাতায় ঘাঁটি গেড়ে বসেছেন।

বর্তমানে তারা ভারতের ডিপ এস্টেটের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য নানামুখী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন বলে নিরাপত্তা সূত্রগুলো আমার দেশকে জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশ ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত বেশ ক’জন আমলা ও সরকারি আইনজীবী। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের মতো শীর্ষ আমলারাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে জুলাই বিপ্লবের পর যেসব আওয়ামী লীগ নেতা, আমলা, পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পদস্থ কর্তাব্যক্তি কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের বিস্তারিত তথ্য সংবলিত একটি ডেটাবেস তৈরি করছে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)।

গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত ডেটাবেসে ৭৩৪ জনের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। ওই তালিকায় ৫০ জনেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডেটাবেসে সংরক্ষিত এসব পুলিশ কর্মকর্তার পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য এখন আমার দেশ-এর হাতে।

আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের অন্যতম কারিগর সাবেক নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি তার স্ত্রী সালমা সুলতানাকে নিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট ১০২, গুলমহর, ৬০ মিডল্টন স্ট্রিট, কানকারিয়া এস্টেট, কলকাতাÑএই ঠিকানায় বসবাস করছেন।

তার বর্তমান বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর ডি-০০০১১৮৪১। তার ফোন নম্বর +৯১৯১৬৩৭৮৮৯৮০। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখা এবং ডামি নির্বাচন অনুষ্ঠানের আরেক কারিগর সাবেক মুখ্য সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এখন কলকাতা সদরে অবস্থান করছেন। তিনি মুখ্য সচিবের আগে শেখ হাসিনার পিএস-১ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার কাছে থাকা বর্তমান বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর ডিসি-৪০০৭৫৪১। তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর +৯১৮৪১৩৯৯৯২৩৫।

চব্বিশের ডামি ভোটের ৬ মাস আগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োপ্রাপ্ত তোফাজ্জল হোসেন নির্বাচনে ‘বিশেষ ভূমিকা’ পালনের পুরষ্কারসরূপ শেখ হাসিনা তার চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বৃদ্ধি করে। কোটা সংস্কার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী হিসেবে তিনি নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শেখ হাসিনার পতনের পর গত বছরের ৭ আগষ্ট মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে সরকার।

শেখ হাসিনার সাবেক সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন এখন কলকাতা সদরে অবস্থান করছেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ ও ঢাকার ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৫ আগস্টের পর পাল্টা ক্যু করতে বেশ কয়েকজন আমলাদের নিয়ে তিনি গোপন বৈঠক করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে সুবিধা করতে না পারায় ভারতে পালিনে যান। তার কাছে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর ডি-০০০১৩৪৭০। তার কলকাতার ফোন নম্বর +৯১৬৯০৯২২৫১০৬।

বহুল আলোচিত দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল এখন কলকাতার অভিজাত এলাকা ১৩৩০/৫ ইই ব্লক, সল্ট লেক, কলকাতাÑএই ঠিকানায় থাকছেন। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি এবং অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত পিলখানা হত্যা মামলার এই সরকারি আইনজীবীর কাছে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর এ-১৫৭২৮৩৫২। তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর ০১৭১১৫২২৭০৮।

শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাবেক সচিব মো. রাশিদুল আলম ৫ আগস্টের পর সস্ত্রীক দেশ থেকে পালিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের বড় ভাই। তিনি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী বৈতরনী পার করার ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছেন।

তিনি প্রথমে এইচটি ইমামের সেকেন্ডম্যান হিসেবে কাজ করলেও তার মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের নির্বাচন সংক্রান্ত মুল দায়িত্ব পালন করতেন সাবেক এই আমলা। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রাশিদুল আলম দলের নির্বাচনী বোর্ডেও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার কাছে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর এ-০০১৩১২৮৪। তার বর্তমান ফোন নম্বর +৬০১৮৯৭৬০৪৯৩। সাবেক এই আমলা বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি।

জুলাই গণহত্যার অন্যতম প্রধান হোতা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান তার স্ত্রী সামসুন্নাহার এবং ছেলে আফতান আফিফ আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। তিনি এখন কলকাতা সদরে অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হাবিবুর রহমান কলকাতায় বসে ভারতের ডিপ স্টেটের সঙ্গে মিলে নানা ধরনের বাংলাদেশবিরোধী তৎপতায় লিপ্ত।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি নাশকতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন তিনি। জুলাই গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুনি এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর ই-০০০০৯৭৯২। কলকাতায় তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর +১ (৭১৮) ৭৫৫৪২৫৫।

কোলকাতায় অবস্থানকারী অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সিএমপির সাবেক কমিশনার (অতিরিক্ত আইজি) কৃষ্ণপদ রায়, পাসপোর্ট নম্বর ই০০১৫৩৭১৯, মোবাইল নম্বর +৯১৮৫৮২৮৪৬৮০৮; ডিআইজি মো: আনিসুর রহমান, পাসপোর্ট নম্বর ই০০১৫৩৯৪৪, মোবাইল নম্বর +৯১৮০১১৪৮৯৩৭০; রংপুর রেঞ্জের সাবেক কমিশনার ডিআইজি মনিরুজ্জামান, পাসপোর্ট নম্বর এ১৮১৭২৩৩২, মোবাইল নম্বর +৬৬৯৩৩২৫১২৪; অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, পাসপোর্ট নম্বর ই০০১২৬৯৭, মোবাইল নম্বর +৮৮০১৮১৯২৭৫৫৫; অতিরিক্ত ডিআইজি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী পাসপোর্ট নম্বর ই০০১৪০৯২৫, মোবাইল নম্বর +৯১৮৮৭৬৬৮০১৫ এবং অতিরিক্ত ডিআইজি রিফাত রহমান শামীম, পাসপোর্ট নম্বর বিজি০০৩৭৬২৬, মোবাইল নম্বর +৮৮০১৮৭৪৫৫০৫।

এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে পালিয়ে যারা ভারতে অবস্থান করছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- আসাদুজ্জামান, পাসপোর্ট নম্বর ই০০১৩১০০৮, মোবাইল নম্বর +৮৮০১৭১৬০৬৪৩৩৮; গোলাম মোস্তফা রাসেল তার পাসপোর্ট নম্বর ই০০০৫০২২৭, মোবাইল নম্বর +৬৫৮৪৬৪৭৫৯২; মো: শাহজাহান পাসপোর্ট নম্বর ই০০১৫৭৬৫৬, মোবাইল নম্বর +৪৪৭৯৪৭৩২৬১৮০, আরিফুর রহমান মন্ডল, মুহম্মদ সানোয়ার হোসেন এবং হাসান আরাফাত।

অতিরিক্ত এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. মাসুদুর রহমান, এস এম শামীম, শাহনূর আলম পাটোয়ারী, হাসানুজ্জামান মোল্লা, শাহ আলম মো. আক্তারুল, রাজন কুমার দাস, মো: রাশেদুল ইসলাম ও এডিসি ইফতেখারুল ইসলাম।

কোলকাতায় রয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ভাই সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম রুহানী ও এএসপি মুহম্মদ ইমরুল।

এছাড়া পুলিশের পরিদর্শকদের মধ্যে জাকির হোসেন, মো. ওবায়দুল হক মামুন, কাজী মঈনুল ইসলাম, অপূর্ব হাসান, মোহাম্মদ মহসিন, শামসুল হক, তানভীর আহমেদ, আশীষ কুমার দেব, ও মো. মশিউর রহমান। উপ পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম ভূইঁয়া, মোহাম্মদ সোহেল ও শেখ মো: জাবেদ মিয়া এখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে কোলকাতায় অবস্থান করছেন।

পলাতক এসব কর্মকর্তাদের বেশিরভাগকে সরকার সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। এদিকে কৃষ্ণপদসহ কয়েকজনকে ৫ আগস্টের পরে বাধ্যতামুলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।