“আমি অবাক হই, যারা নিজেদের সভ্য দাবি করে, মানবাধিকার ও শান্তির কথা বলে, তারা কীভাবে এই হত্যাযজ্ঞের মুখে নীরব থাকে! বরং তারা অস্ত্র পাঠিয়ে এই অপরাধকে সমর্থন করছে। মানুষকে পানি, খাদ্য, ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা এবং শিশু, নারী, পুরুষদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক।”
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফ ইরানের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান অপরাধযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সোমবার চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) ২৫তম শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন,
“আমরা সাংহাই সংস্থার প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সহযোগী দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি শাসক গোষ্ঠীর আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানাই।”
শাহবাজ শরীফ আরও বলেন,
“আমরা আমাদের প্রতিবেশী ও এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। বেপরোয়া ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ইসরায়েলের নৃশংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।
অন্যদিকে, একই দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজিশকিয়ান বলেন,
“ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। আমরা সব ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাধা দূর করতে আগ্রহী।”
পেজিশকিয়ান পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বন্যা দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুই দেশের জনগণসহ গোটা অঞ্চলের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে কাজ করতে প্রস্তুত।
গাজায় ইসরায়েলি অপরাধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন,
“আমি অবাক হই, যারা নিজেদের সভ্য দাবি করে, মানবাধিকার ও শান্তির কথা বলে, তারা কীভাবে এই হত্যাযজ্ঞের মুখে নীরব থাকে! বরং তারা অস্ত্র পাঠিয়ে এই অপরাধকে সমর্থন করছে। মানুষকে পানি, খাদ্য, ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা এবং শিশু, নারী, পুরুষদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক।”
পেজেশকিয়ান: ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে কোন দূরত্ব নেই
Published on: 01 September, 2025
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফ ইরানের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান অপরাধযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সোমবার চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) ২৫তম শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন,
“আমরা সাংহাই সংস্থার প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সহযোগী দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি শাসক গোষ্ঠীর আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানাই।”
শাহবাজ শরীফ আরও বলেন,
“আমরা আমাদের প্রতিবেশী ও এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। বেপরোয়া ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ইসরায়েলের নৃশংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।
অন্যদিকে, একই দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজিশকিয়ান বলেন,
“ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। আমরা সব ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাধা দূর করতে আগ্রহী।”
পেজিশকিয়ান পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বন্যা দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুই দেশের জনগণসহ গোটা অঞ্চলের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে কাজ করতে প্রস্তুত।
গাজায় ইসরায়েলি অপরাধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন,
“আমি অবাক হই, যারা নিজেদের সভ্য দাবি করে, মানবাধিকার ও শান্তির কথা বলে, তারা কীভাবে এই হত্যাযজ্ঞের মুখে নীরব থাকে! বরং তারা অস্ত্র পাঠিয়ে এই অপরাধকে সমর্থন করছে। মানুষকে পানি, খাদ্য, ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা এবং শিশু, নারী, পুরুষদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক।”
ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]
তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব
ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।
পেজেশকিয়ান: ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে কোন দূরত্ব নেই
Published on: 01 September, 2025
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফ ইরানের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান অপরাধযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সোমবার চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) ২৫তম শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন,
“আমরা সাংহাই সংস্থার প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সহযোগী দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি শাসক গোষ্ঠীর আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানাই।”
শাহবাজ শরীফ আরও বলেন,
“আমরা আমাদের প্রতিবেশী ও এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। বেপরোয়া ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ইসরায়েলের নৃশংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।
অন্যদিকে, একই দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজিশকিয়ান বলেন,
“ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। আমরা সব ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাধা দূর করতে আগ্রহী।”
পেজিশকিয়ান পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বন্যা দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুই দেশের জনগণসহ গোটা অঞ্চলের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে কাজ করতে প্রস্তুত।
গাজায় ইসরায়েলি অপরাধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন,
“আমি অবাক হই, যারা নিজেদের সভ্য দাবি করে, মানবাধিকার ও শান্তির কথা বলে, তারা কীভাবে এই হত্যাযজ্ঞের মুখে নীরব থাকে! বরং তারা অস্ত্র পাঠিয়ে এই অপরাধকে সমর্থন করছে। মানুষকে পানি, খাদ্য, ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা এবং শিশু, নারী, পুরুষদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক।”
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।
ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।
পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।
মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।
অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।
একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।
তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।
অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।
ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।
পেজেশকিয়ান: ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে কোন দূরত্ব নেই
Published on: 01 September, 2025
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফ ইরানের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান অপরাধযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সোমবার চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) ২৫তম শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন,
“আমরা সাংহাই সংস্থার প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সহযোগী দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি শাসক গোষ্ঠীর আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানাই।”
শাহবাজ শরীফ আরও বলেন,
“আমরা আমাদের প্রতিবেশী ও এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। বেপরোয়া ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ইসরায়েলের নৃশংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।
অন্যদিকে, একই দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজিশকিয়ান বলেন,
“ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। আমরা সব ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাধা দূর করতে আগ্রহী।”
পেজিশকিয়ান পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বন্যা দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুই দেশের জনগণসহ গোটা অঞ্চলের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে কাজ করতে প্রস্তুত।
গাজায় ইসরায়েলি অপরাধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন,
“আমি অবাক হই, যারা নিজেদের সভ্য দাবি করে, মানবাধিকার ও শান্তির কথা বলে, তারা কীভাবে এই হত্যাযজ্ঞের মুখে নীরব থাকে! বরং তারা অস্ত্র পাঠিয়ে এই অপরাধকে সমর্থন করছে। মানুষকে পানি, খাদ্য, ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা এবং শিশু, নারী, পুরুষদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক।”
ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। প্রাথমিক […]
ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার জেরেই জাহাজটি ডুবে গিয়েছে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমান কোস্টগার্ড।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাহাজের সব ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
পাশাপাশি নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পেজেশকিয়ান: ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে কোন দূরত্ব নেই
Published on: 01 September, 2025
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফ ইরানের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান অপরাধযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সোমবার চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) ২৫তম শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন,
“আমরা সাংহাই সংস্থার প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সহযোগী দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি শাসক গোষ্ঠীর আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানাই।”
শাহবাজ শরীফ আরও বলেন,
“আমরা আমাদের প্রতিবেশী ও এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। বেপরোয়া ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ইসরায়েলের নৃশংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।
অন্যদিকে, একই দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজিশকিয়ান বলেন,
“ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। আমরা সব ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাধা দূর করতে আগ্রহী।”
পেজিশকিয়ান পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বন্যা দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুই দেশের জনগণসহ গোটা অঞ্চলের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে কাজ করতে প্রস্তুত।
গাজায় ইসরায়েলি অপরাধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন,
“আমি অবাক হই, যারা নিজেদের সভ্য দাবি করে, মানবাধিকার ও শান্তির কথা বলে, তারা কীভাবে এই হত্যাযজ্ঞের মুখে নীরব থাকে! বরং তারা অস্ত্র পাঠিয়ে এই অপরাধকে সমর্থন করছে। মানুষকে পানি, খাদ্য, ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা এবং শিশু, নারী, পুরুষদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক।”
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বিভিন্ন সংঘাতকে পুঁজি করে ইসরাইলের নেতানিয়াহু সরকার ফিলিস্তিন ইস্যুকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। তুরস্কের রাজধানী…
ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগরে জাহাজে নতুন করে হামলার খবরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কোনো ধরনের সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পরিচালনা…
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরানের জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে রোববার তিনি এ কথা বলেন। একের পর এক নিষেধাজ্ঞা…
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তি হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে…