সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

শেরপুরে রহস্যময় আগন্তুকদের আনাগোনা! আতঙ্ক ও ষড়যন্ত্রের শঙ্কা জনমনে

সেলিম রেজা, (বগুড়া) শেরপুর: সৌহার্দ্য সম্প্রীতি আর শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত বগুড়ার শেরপুর উপজেলা। সম্প্রতি এই উপজেলায় অপরিচিত ও রহস্যময় ব্যক্তিদের আনাগোনা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। বিষয়টি পৌর শহর থেকে গ্রামীণ জনপদে অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। দিনেরাতে বিভিন্ন বয়সী অচেনা মুখের আনাগোনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৩২

সেলিম রেজা, (বগুড়া) শেরপুর:

সৌহার্দ্য সম্প্রীতি আর শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত বগুড়ার শেরপুর উপজেলা। সম্প্রতি এই উপজেলায় অপরিচিত ও রহস্যময় ব্যক্তিদের আনাগোনা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। বিষয়টি পৌর শহর থেকে গ্রামীণ জনপদে অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

দিনেরাতে বিভিন্ন বয়সী অচেনা মুখের আনাগোনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবুও এই পরিস্থিতিকে সম্ভাব্য বিপদের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন অনেকে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এই উদ্বেগের বাস্তব চিত্র পাওয়া গেছে।

পৌর শহরের বৈকাল বাজারের একজন চায়ের দোকানদার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক), জানান, “গত বেশ কিছুদিন ধরে সন্ধ্যার পর কিছু অপরিচিত যুবককে তার দোকানের আশেপাশে মোটরবাইকে করে ঘুরতে দেখতে পাচ্ছে।

তারা নিজেদের মধ্যে নিচু স্বরে কথা বলে এবং আচমকা এসেই আবার দ্রুত চলে যায়। তাদের এই আচরণ খুবই সন্দেহজনক বলে তিনি জানান।

শাহবন্দেগী ইউনিয়নের সিএনজিচালক আশরাফ আলী জানান, “তিনি ভবানীপুর, রানীর হাট, চান্দাইকোনা রোডে সিএনজি চালান। প্রায়ই অনেক অচেনা যাত্রী ওঠেন, যারা গ্রামের বিভিন্ন নির্জন এলাকায় নেমে যান। যদিও তাদের আচরণে সন্দেহজনক কিছু সরাসরি চোখে পড়েনি।

অটোরিকশা চালক আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি প্রায়ই অপরিচিত যাত্রী পায়, তবে তাদের সাথে সাধারণত একজন স্থানীয় লোক থাকে।

কিন্তু গত সপ্তাহে এক গভীর রাতে বাসস্ট্যান্ড থেকে বাক্স ও ব্যাগসহ দুই নারী ও দুই পুরুষকে দুটি রিকশায় করে উপশহরে নামিয়ে দিয়ে আসেন। তাদের আগে কখনো শেরপুরে দেখেনি। পুরো বিষয়টি তার কাছে বেশ সন্দেহজনক মনে হয়েছে।”

অটোরিকশা চালক দুলাল জানান, সে এখানকারই মানুষ। ইদানীং বিকেল হলেই বাসস্ট্যান্ড ও বাজারে এমন অনেক নতুন মুখ দেখে, যা আগে কখনো দেখেনি। তারা রিকশায় উঠে বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বাসার সামনে নেমে যায়।”

আরেক অটোরিকশা চালক শাহআলী, যিনি রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত অটো চালান। তিনি জানান, “বেশিরভাগ অচেনা যাত্রীরা বাসস্ট্যান্ড ও ধুনটমোড় থেকে ওঠেন। তাদের আঞ্চলিক ভাষা শুনে সহজেই বুঝতে পারি, তারা শেরপুরের বাইরের লোক।”

এদিকে, এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও। তাদের মধ্যে এমন কথাও প্রচলিত আছে, বিগত বছরগুলোতে যারা অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে, তারাই এই অচেনা ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন।

তবে কারণ যাই হোক, শেরপুরের শান্তি-শৃঙ্খলা যেন বিনষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিছেন তারা।

শেরপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মুস্তাফিস নাসিম বলেন, “বহিরাগত লোক যদি থাকে সেইটা প্রশাসনের দেখা উচিৎ, কারন শেরপুরে যদি কোনো অপরিচিত লোকজন থাকে এবং তারা কোনো অপকর্ম করলে সেইটা শেরপুরের লোকজনের ওপর বর্তাবে। অন্য কোথাও অকারেন্স করে এসে শেরপুরে বসবাস করবে এইটা কাম্য নয়।”

শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা জানে আলম খোকা, সম্প্রতি শেরুয়া বটতলা এলাকা থেকে আলাদীন নামে এক ছেলেকে হাত-পা বেঁধে তুলে নেওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “শেরপুরের শান্ত পরিবেশকে কেউ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

 তিনি এলাকাবাসীকে আত্মীয়-স্বজন ব্যতীত কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে আশ্রয় না দেওয়া এবং প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম বাবলু বলেন,“বহিরাগত লোক বা অপরিচিত মুখের আনাগোনা আমার চোখে পড়ে নাই। তবে বিষয়টি অবগত হয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ প্রশাসনকে তাদের নজরদারী বাড়ানোর জন্য আমি বলবো। সেক্ষেত্রে আমাদের সকল দল-মত নির্বিশেষে সজাগ থাকার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে করে কোন অপশক্তি আমাদের শেরপুরের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে না পারে।”

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি),এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, “বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখছি। পুরো উপজেলায় গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

যেকোনো ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় শেরপুর থানা পুলিশ প্রস্তুত আছে। আমরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করছি। তবে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে সাথে সাথে পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ করছি।”

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।