ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (শায়েখে চরমোনাই) বিএনপিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন,
“বিএনপি চাঁদাবাজের দল। চাঁদার জন্য খুন করছে। চাঁদা না দেওয়ায় ওরা স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করছে। তাদের কথা না শুনলে পুলিশকে হুমকি দেয়। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই বিএনপির যদি এই অবস্থা হয় ক্ষমতায় গেলে কি হবে।”
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নেত্রকোনা জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।
রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যার বিচার, সারাদেশে খুন-লুণ্ঠন-চাঁদাবাজি বন্ধ, পিআর পদ্ধতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং দেশ ও ইসলাম বিরোধী সব ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মুফতি ফয়জুল করীম আরও বলেন,
“আজ ছাত্রদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীকে হত্যা করছে। ওরা টর্চার সেল গঠন করেছে। সেখানে নির্যাতন করা হচ্ছে। ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকে হত্যা করছে। পাথর দিয়ে মারছে। বিএনপির লোকজন বিএনপিকে হত্যা করছে। এক বিএনপি নেতা থানার ওসিকে হুমকি দিয়ে বলছে, তাদের কথা শুনে কাজ করতে হবে। আমরা এই বাংলাদেশ দেখতে চাই না। বিএনপি লোকজন চাঁদা না পেলে লোকজনকে হত্যা করছে। ভোলায় বিএনপি নেতা চাঁদা না পেয়ে স্বামীর সামেনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে। বিএনপিও টর্চার সেল গঠন করেছে। ক্ষমতায় না যেতেই তাদের এই অবস্থা, ক্ষমতায় গেলে এরা কি করবে বুঝে নেন।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“বিএনপি নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা দিয়েছে, আমি বলি তাদের বিরুদ্ধে আরও বেশি মামলা দেয়া উচিত ছিল।”
এসময় তিনি নেত্রকোনার ৫টি সংসদীয় আসনে ইসলামী আন্দোলনের ৫ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি মুফতি নুরুল ইসলাম হাকিমী এবং সঞ্চালনা করেন মুফতি ওয়ালি উল্লাহ ও ওমর ফারুক।
এছাড়াও বক্তব্য দেন ইসলামী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক মোর্শেদ, ইসলামী আন্দোলন নেত্রকোনা জেলা শাখার উপদেষ্টা আব্দুল কাইয়ূম, ইসলামী ঐক্যজোটের সম্পাদক আবু সায়েম এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সম্পাদক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান।