বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

জোরপূর্বক গাজার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার প্রচেষ্টা :আফ্রিকার দিকে নজর ইসরায়েলের

গাজায় যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় এবং এই অঞ্চলে মানবিক সংকট এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রতিদিন কয়েক ডজন গাজাবাসী প্রাণ হারাচ্ছে কেবল ইসরায়েলি সামরিক গুলিবর্ষণের কারণেই নয় ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কারণেও।ইসরায়েল গাজার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের জন্য বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশের সাথে আলোচনা করছে। গাজার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক অন্য দেশে স্থানান্তরের বিষয়টি এমন একটি নীতি যা ইসরায়েল দৃঢ়ভাবে […]

জোরপূর্বক গাজার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার প্রচেষ্টা :আফ্রিকার দিকে নজর ইসরায়েলের

জোরপূর্বক গাজার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার প্রচেষ্টা :আফ্রিকার দিকে নজর ইসরায়েলের

এডিটর

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১৮:২৯

গাজায় যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় এবং এই অঞ্চলে মানবিক সংকট এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রতিদিন কয়েক ডজন গাজাবাসী প্রাণ হারাচ্ছে কেবল ইসরায়েলি সামরিক গুলিবর্ষণের কারণেই নয় ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কারণেও।ইসরায়েল গাজার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের জন্য বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশের সাথে আলোচনা করছে।

গাজার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক অন্য দেশে স্থানান্তরের বিষয়টি এমন একটি নীতি যা ইসরায়েল দৃঢ়ভাবে জোর দিয়ে আসছে বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের এ অশুভ তৎপরতা বেড়েছে। একসময় গাজা যুদ্ধের মাধ্যমে ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার একটি চরম জাতীয়তাবাদী কল্পনা হিসেবে বিবেচিত হত এবং ট্রাম্প গাজা সংকটের সমাধান হিসেবে এটি প্রস্তাব করার পর থেকে এই ধারণাটি ধীরে ধীরে জাতীয়তাবাদী ধারণার ক্ষেত্র থেকে ইসরায়েলি নীতিতে একটি কার্যকরী কৌশলে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এখন মনে হচ্ছে ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক এবং জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তনের আশায় এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

যদিও গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিরা এবং ফিলিস্তিনকে সমর্থনকারী দেশগুলো শুরু থেকেই এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে যার ফলে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর সমর্থক অনেক দেশও এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তারা ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমিতে থাকার আইনি অধিকারের উপর জোর দিয়েছে এবং অনেক মানবাধিকার গোষ্ঠীও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে ফিলিস্তিনিদের তাদের দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করা বা চাপ দেওয়া একটি সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হতে পারে; তবে, ইহুদিবাদী সরকার এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য জোর দিয়ে চলেছে এবং এখন আফ্রিকান দেশগুলোকে গাজা শরণার্থীদের গ্রহণের জন্য সম্ভাব্য গন্তব্য হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই দেশগুলোকে বেছে নেওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর একটি কারণ হল তাদের ভৌগোলিক নৈকট্য এবং গাজায় সহজ প্রবেশাধিকার। কিছু আফ্রিকান দেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় গাজার কাছাকাছি, এবং এই দেশগুলোতে লোক স্থানান্তর করতে কম খরচ হবে।

অন্যদিকে, অনেক আফ্রিকান দেশ পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা থেকে উপকৃত হতে ইচ্ছুক। অতএব, ইসরায়েলের সাথে তাদের সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং গাজার বাসিন্দাদের গ্রহণ করা এই সম্পর্কগুলোকে শক্তিশালী করার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা থেকে উপকৃত হওয়ার একটি উপায় হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে এই দেশগুলা গাজার বাসিন্দাদের গ্রহণকে আন্তর্জাতিক সাহায্য এবং সমর্থন পাওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।

বর্তমানে ইহুদিবাদী ইসরায়েল এবং তার পশ্চিমা সমর্থকরা উপনিবেশবাদের এক নতুন রূপে কিছু আফ্রিকান দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যার সুযোগ নিচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। যদিও অনেক আফ্রিকান দেশ এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং এটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

যাইহোক, সংবাদ সূত্রগুলো গাজার বাসিন্দাদের গ্রহণের জন্য ইসরায়েল এবং দক্ষিণ সুদানের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার খবর দিয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ সুদান এখনও তেল আবিব কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় কেন? দক্ষিণ সুদান যা ২০১১ সালে সুদান থেকে আলাদা হয়ে একটি স্বাধীন দেশে পরিণত হয়েছিল আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে নাজুক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির দেশগুলো মধ্যে একটি। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধ, মানবিক সংকট এবং অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তবে, দক্ষিণ সুদান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের সাথে তার সম্পর্ক প্রসারিত করেছে এবং এখন মনে হচ্ছে গাজার বাসিন্দাদের গ্রহণ করাকে ইসরায়েলের সাথে তার সম্পর্ক শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে, যার মাধ্যমে এটি তেল আবিব থেকে আরও সাহায্য পেতে পারে।

গাজার বাসিন্দাদের বহিষ্কারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে কেবল গাজা দখল ও দখলের ইসরায়েলের লক্ষ্যই পূরণ হচ্ছে না বরং আফ্রিকায় ইসরায়েলের প্রভাব আরও সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং তারা ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার নীতি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে বলে আশা করছে বাস্তবে এই নীতি একটি নিষ্ফল প্রচেষ্টা। গাজার বাসিন্দারা সর্বদা তাদের ভূমিতে থাকার তাদের আইনি অধিকারের উপর জোর দিয়ে এসেছে এবং এই ক্ষেত্রে, বিশ্বব্যাপী জনমতও যেকোনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি নীতিকে মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী বলে মনে করে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এর নিন্দা করে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিষয়ে ঘোষণা করেছে: গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালার পরিপন্থী এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য এর বিপর্যয়কর পরিণতি হবে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছেন, গাজা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমিতে বসবাসের অধিকার রয়েছে; আমরা গাজার বাসিন্দাদের যেকোনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি প্রত্যাখ্যান করি এবং এটিকে জাতিগত নির্মূল বলে বিবেচনা করি।

অন্যদিকে, বিদেশীদের উপস্থিতিতে উপনিবেশবাদ এবং গৃহযুদ্ধের যুগের অভিজ্ঞতা অর্জনকারী অনেক আফ্রিকান দেশ এখন এই ধরনের নীতি গ্রহণ করতে রাজি নয়।

এই ক্ষেত্রে, ইসরায়েলের নীতি কেবল চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হবে না, বরং পশ্চিম এশীয় অঞ্চলে মানবিক সংকট এবং অবিশ্বাসকে আরও গভীর করবে; অন্যদিকে এই ধরনের পরিকল্পনার মাধ্যমে আফ্রিকায় ইসরায়েলের প্রভাব সম্প্রসারণ কেবল কৃষ্ণাঙ্গ মহাদেশে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে এবং আফ্রিকার জটিলতা ও সমস্যাগুলোকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সূত্রঃ পার্সটুডে

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫০২৪

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের সাথে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের তুমুল লড়াই

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে। তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে।

তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে।

তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।

অন্যদিকে ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে পেতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে পাওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫০২৪

আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক বোমার চেয়েও কার্যকর অস্ত্র পেয়ে গেছে ইরান !

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করে যে, বিশ্বকে চরম সমস্যায় ফেলতে ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই।

এই জলপথটি দ্রুত যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের ছায়াশক্তিরা এ অঞ্চলে ট্যাংকারগুলোতে আক্রমণ করছে এবং একটি টোল বা মাশুল ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুয়াশার বলেন, ‘ইরান আবিষ্কার করেছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য পারমাণবিক বোমা থাকার চেয়েও বেশি কার্যকর।’

ট্রাম্পের ক্ষোভ ও হতাশা
গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে তার ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই জলপথটি ফের খোলার জন্য সামরিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতায় তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রণালি খুলে দাও… নয়তো তোমরা নরকে বাস করবে—শুধু দেখে যাও!’

অথচ কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ভোটারদের সমর্থন পেতে এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইতিবাচক সুর বজায় রেখেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। কারণ ইরানের তেল বিক্রি করতেই হবে, সেটাই তাদের পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।’

ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির পথে এবং আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চরম আঘাত হানবে।

হরমুজে নতুন ব্যবস্থা
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই স্পষ্টভাবে বলেনি, এই যুদ্ধের মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত রাখা, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হোয়াইট হাউজকে দিশেহারা করে তুলেছে। এমনকি ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভা এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে, প্রণালিটি না খুলেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার কথা বিবেচনা করতে পারে।

ইরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। বিশ্লেষকরা এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার পেছনে ইরানের কোনো বিশেষ স্বার্থ দেখছেন না। কার্নেগি বিশ্লেষক করিম সাজাদপুর বলেন, তারা এখন প্রকাশ্যেই এই নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক করার কথা বলছে, যেন এটি তাদের নিজস্ব ‘পানামা খাল’ হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই অগ্রহণযোগ্য।

সাজাদপুর ও মুয়াশার জানান, ইরান এখন কেবল সামরিক সক্ষমতার যুদ্ধের বদলে ‘রাজনৈতিক সহনশীলতা ও টিকে থাকার’ যুদ্ধে মনোযোগ দিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলার দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বদলে অন্য মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা চীনের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে, যা থেকে তাদের দৈনিক আয় কোটি কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

গত সপ্তাহে ইরানি নেতারা একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন যেখানে স্থায়ীভাবে টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট যে কোনো জাহাজের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা একে রাজস্বের উৎস এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে, ইরান মার্কিন শত্রুদের (যেমন চীন) বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও চীন স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধে সহায়তা করছে।

ইরানি আইনপ্রণেতা মোহাম্মদরেজা রেজাই কুচি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। অন্যান্য করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় যেমন ট্রানজিট ফি দিতে হয়, হরমুজও একটি করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা দিচ্ছি, তাই জাহাজগুলোর ফি দেওয়াটাই স্বাভাবিক।’

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এই প্রণালি দিয়ে যায়, যা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। সৌদি আরব ও ইরাকের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথেই হয়।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ৪১টি দেশের এক বৈঠকে বলেন, ‘আমরা দেখছি ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ দখল করেছে।’ তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে ইরান জাহাজে ২৫টিরও বেশি আক্রমণ করেছে এবং প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

কার্নেগির গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান এক বছরের মধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ফের গুছিয়ে নিতে পারবে। আর ড্রোন বা ইউএভির ক্ষেত্রে এটি আরও সহজ, কারণ এগুলো ছোট বা বেসামরিক স্থাপনাতেও তৈরি করা সম্ভব।

মারওয়ান মুয়াশার সতর্ক করে বলেন, আরব বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পুরোনো কৌশল এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘যদি ট্রাম্প প্রণালিটি না খুলে যুদ্ধ ত্যাগ করেন, তবে অন্য কেউ শক্তি প্রয়োগ করে তা খোলার চেষ্টা করবে না। কারণ সেই রাষ্ট্রগুলোর সেই সক্ষমতা বা সদিচ্ছা নেই।’

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন টাইমস

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫০২৪

আন্তর্জাতিক

মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে, ‘হারিয়েছেন পা’

ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল ও পা গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এসব থেকে সেরে উঠতে এখনো তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠ মহলের তিনজন ব্যক্তির বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলায় খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। সেই সঙ্গে তার একটি পা বা উভয় পা-ই গুরুতর জখম হয়েছে। […]

নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৮

ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল ও পা গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এসব থেকে সেরে উঠতে এখনো তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠ মহলের তিনজন ব্যক্তির বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলায় খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। সেই সঙ্গে তার একটি পা বা উভয় পা-ই গুরুতর জখম হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেছেন, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি তার ক্ষত থেকে সেরে উঠছেন। মানসিকভাবে তিনি তীক্ষ্ণ আছেন।

সূত্রের দুইজন ব্যক্তি বলেছেন, অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মোজতবা খামেনি সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং প্রধান প্রধান ইস্যু নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকছেন। এসব ইস্যুর মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও রয়েছে।

এদিকে আজ শনিবার ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এমন উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনার প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত নিতে মোজতবা খামেনির শরীর-স্বাস্থ্য কতটা উপযুক্ত- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মোজতবার ঘনিষ্ঠ মহলের ব্যক্তিদের ভাষ্যে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার সবচেয়ে বিশদ বর্ণনা পাওয়া গেছে। তবে রয়টার্স এসব ভাষ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়। তবে সেইদিন অল্পের জন্য বেঁচে যান তার ছেলে মোজতবা।

এরপর গত ৮ মার্চ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন মোজতবা। তবে সেইদিনের পর থেকে মোজতবা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেননি। তার ভিডিও, অডিও বা কোনো ছবিও প্রকাশ পায়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-মার্কিন বাহিনীর প্রথম দফার হামলায় মোজতবা আহত হয়েছেন। তবে তার আহত হওয়া নিয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

গত ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন, সম্ভবত তিনি পঙ্গু হয়েছেন।

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, ধারণা করা হচ্ছে মোজতবা খামেনি একটি পা হারিয়েছেন। তবে মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫০২৪