সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

১৩০০ কোটি টাকার সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ পেলো ‘শপআপ’

বাংলাদেশের বৃহত্তম বিটুবি কমার্স প্ল্যাটফর্ম শপআপ ও গালফ অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় বিটুবি মার্কেটপ্লেস ও সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম ‘সারি’ জোট বেঁধে গঠন করলো সিল্ক গ্রুপ। এর ফলে এশিয়া ও গালফ অঞ্চল মিলে গঠিত হলো একটি অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা ভোক্তা বাজারকে সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বুধবার (৯ এপ্রিল) শপআপের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে […]

১৩০০ কোটি টাকার সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ পেলো ‘শপআপ’

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৯ এপ্রিল ২০২৫, ১৬:৪০

বাংলাদেশের বৃহত্তম বিটুবি কমার্স প্ল্যাটফর্ম শপআপ ও গালফ অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় বিটুবি মার্কেটপ্লেস ও সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম ‘সারি’ জোট বেঁধে গঠন করলো সিল্ক গ্রুপ। এর ফলে এশিয়া ও গালফ অঞ্চল মিলে গঠিত হলো একটি অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা ভোক্তা বাজারকে সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

বুধবার (৯ এপ্রিল) শপআপের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, যাত্রার শুরুতেই সিল্ক পেয়েছে সৌদি সরকারের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ তহবিল পিআইএফের সানাবিল ইনভেস্টমেন্ট ও পিটার থিয়েলের ভালার ভেঞ্চারসের কাছ থেকে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ। এর মধ্যে রয়েছে ইকুইটি ইনভেস্টমেন্ট ও সিল্ক ফাইন্যান্সিয়ালের জন্য অর্থায়ন সুবিধা।

এই বিনিয়োগ এসএমইভিত্তিক জিডিপি বৃদ্ধির মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে।

শপআপ ও সারি এখন পর্যন্ত ছয় লক্ষাধিক খুচরা বিক্রেতা, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে এবং পাইকারদের সেবা দিয়েছে, যা থেকে উপকৃত হয়েছে লাখ লাখ খুচরা ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার। যৌথভাবে তাদের প্ল্যাটফর্মে ইতোমধ্যে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি লেনদেন হয়েছে এবং এমবেডেড ফাইন্যান্স হিসেবে ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি পরিমাণ অর্থছাড় হয়েছে।

এখন পর্যন্ত তারা বাজারে ১০ কোটি পণ্য সরবরাহ করেছে। এই সব কার্যক্রমের মাধ্যমে সিল্ক এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, যা আর্থিক, বাণিজ্যিক এবং লজিস্টিক পরিষেবা প্রদান করে ব্যবসার দক্ষতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।

একীভূত হওয়ার পরেও শপআপ ও সারি তাদের নিজ নিজ ভৌগোলিক অঞ্চলে নিজস্ব নামেই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে সিল্কের অবকাঠামো ব্যবহার করবে উভয় প্রতিষ্ঠানই। পাশাপাশি, সিল্ক ফাইন্যান্সিয়ালকে গ্রুপটির অর্থায়ন শাখা হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা দুই দেশের বাজারেই এমবেডেড ফাইন্যান্সিং এবং পয়েন্ট-অব-সেলস ব্যবসার স্কেল বাড়াবে।

শপআপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আফিফ জামান সিল্ক গ্রুপ সিইও পদে থাকবেন ও শপআপ-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা আতাউর রহিম চৌধুরী শপআপ (বাংলাদেশ) সিইও হিসেবে এ অঞ্চলের সকল ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন। সারি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোহাম্মদ আলদোসারি হবেন সিল্ক ফাইন্যান্সিয়ালের সিইও।

শপআপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আফিফ জামান বলেন, ‘এই জোট তৈরির মাধ্যমে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক করিডোরগুলোর একটিতে প্রবেশ করছি, যার আকার ৬৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই অঞ্চলের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ও ভোক্তাদের কাছে আমরা বৈশ্বিক পণ্য পৌঁছে দিতে পারব ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাজারে সিল্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।’

সিল্ক ফাইন্যান্সিয়াল সিইও মোহাম্মদ আলদোসারি বলেন, ‘আমাদের শক্তিগুলো একত্রিত করে আমরা শুধু আমাদের ব্যবসার পরিসর বাড়াচ্ছি না। বরং গালফের ব্যবসায়ী ও দক্ষিণ এশিয়ার উৎপাদকদের জন্য ডিজিটাল বাণিজ্যের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছি।

এই অংশীদারিত্ব দুই দেশের বিস্তৃত আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা ও বিশ্বমানের প্রযুক্তির মত সেরা দিকগুলোকে একত্র করেছে। এর ফলে আমাদের ইকোসিস্টেমের প্রতিটি ব্যবসা উপকৃত হবে যার মূল উপাদান হিসেবে থাকবে আর্থিক সেবা।’

ভালার ভেঞ্চারসের প্রতিষ্ঠাকালীন পার্টনার জেমস ফিটজজেরাল্ড বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি চমকপ্রদ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার গল্প রয়েছে। এই একীভূত হওয়া একটি সাহসী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন যা এই বাজারগুলোকে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত একটি নতুন বাণিজ্যিক ইকোসিস্টেমের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করবে।

একদল সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে সিল্ক গঠিত হয়েছে। সিল্ক এই অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে উপযুক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে এই খাতকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সম্ভাবনা রাখে।’

সানাবিল ইনভেস্টমেন্টসের মুখপাত্র বলেন, ‘আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকভাবে সিল্ক একটি শীর্ষস্থানীয় বিটুবি কমার্স প্লেয়ারে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এটি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্ম যা আর্থিক, লজিস্টিকস ও কমার্স সেবাকে একত্রিত করে বিটুবি ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়তা করে।

এই একীভূত হওয়ার মাধ্যমে সিল্কের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। এটি যেন সব অংশীজনের জন্য উপকার বয়ে আনে সেজন্য আমরা কোম্পানির নেতৃত্বকে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।