বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।” […]
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
ড. ইউনূসের বক্তব্য ‘ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’, ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : দেববর্মা
Published on: 02 April, 2025
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]
সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’
শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।
জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।
ড. ইউনূসের বক্তব্য ‘ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’, ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : দেববর্মা
Published on: 02 April, 2025
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত […]
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ইউএই ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যদিও ইউএই কোনোভাবেই এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবুও দেশটি ৮০০টি হামলা মোকাবিলা করেছে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যারা নিজেদের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এর আগে শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণগুলো ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের।
আল-হাইদারি মুসলমানদের সতর্ক করেছেন, নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ইহুদি ও আমেরিকানদের অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে।
শিয়া ধর্মমতে, এই ধরনের জিহাদ সাধারণত প্রতিরক্ষা ভিত্তিক এবং আক্রমণাত্মক নয়। দ্বাদশ শিয়াদের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা একজন মারজা’ আল-তাকলিদ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে সীমাবদ্ধ।
এর আগে ২০১৪ সালে ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান করেছিলেন, যা পরে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসে (পিএমই) পরিণত হয়।
ড. ইউনূসের বক্তব্য ‘ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’, ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : দেববর্মা
Published on: 02 April, 2025
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ […]
ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিলো, জাহাজগুলো তাদের পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) সঙ্গে জড়িত ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, তেহরান বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে। সূত্রটি জানায়, সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিস্থ ইরান দূতাবাস এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরান সম্প্রতি ভারতের দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি সোমবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে ফিরে এসেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই প্রণালীর দুই পাশেই জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে কোনো আলোচনার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সোমবার বলেন, সাম্প্রতিক এই জাহাজ চলাচল দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক লেনদেনের প্রতিফলন। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে এই সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো বিনিময় হচ্ছে না।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলায় এখন পর্যন্ত তিন জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।
রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।
মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।
আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।
ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।
রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।
মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।
আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।
ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
ড. ইউনূসের বক্তব্য ‘ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’, ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : দেববর্মা
Published on: 02 April, 2025
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
সাক্ষাৎকারে তিনি সীমান্তে তথাকথিত ‘পুশ-ব্যাক’ প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন। তার দাবি অনুযায়ী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী কিছু লোককে কয়েকদিন নিজেদের কাছে রেখে পরে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। যদিও এ ধরনের বক্তব্য…
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পুনরায় বিমান হামলা শুরু করার কথা চিন্তা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন…
ভারতের কিংবদন্তী বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন। রবিবার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এর আগে, শনিবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের ইমার্জেন্সি…