শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অর্থনীতি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার এখনই উপযুক্ত সময় : বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেছেন. বাংলাদেশে স্থানীয় এবং বিদেশি উভয় সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) করার এখনই ‘সর্বোত্তম সময়’। কারণ পরিস্থিতি সঠিক দিকে এগোচ্ছে এবং অগ্রগতি দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলবো এটিই সঠিক সময়। তাই, দয়া করে এখানে বিনিয়োগ করুন। আমি বলতে চাই আমাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে প্রতিদিনই এগুলো সমাধান করা […]

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার এখনই উপযুক্ত সময় : বাণিজ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ মার্চ ২০২৫, ০০:২২

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেছেন. বাংলাদেশে স্থানীয় এবং বিদেশি উভয় সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) করার এখনই ‘সর্বোত্তম সময়’। কারণ পরিস্থিতি সঠিক দিকে এগোচ্ছে এবং অগ্রগতি দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি বলবো এটিই সঠিক সময়। তাই, দয়া করে এখানে বিনিয়োগ করুন। আমি বলতে চাই আমাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে প্রতিদিনই এগুলো সমাধান করা হচ্ছে এবং অগ্রগতিও প্রতিদিন স্পষ্ট হচ্ছে এবং এই অবস্থার আরও উন্নতির হবে।’

বাণিজ্য উপদেষ্টা সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে জাতীয় বার্তা সংস্থা- বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

গত সাড়ে সাত মাস ধরে বেসরকারি খাতের সামগ্রিক আস্থার মূল্যায়ন করতে বলা হলে তিনি বলেন, আমি খারাপ কিছু দেখছি না। ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর, পরিস্থিতি সঠিক দিকে এবং আরও ভালো দিকে এগিয়ে গেছে। এটি আরও উন্নত হবে। তাই, দেশে বিনিয়োগ করার জন্য এটি ‘সর্বোত্তম সময়’।

বশির উদ্দিন বলেন, গত প্রায় ১৬ বছর ধরে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আর্থিক ও রাজস্ব নীতি বিবেচনা করলে দেশের অর্থনীতিতে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্পদের বণ্টন নিশ্চিত করার পরিবর্তে বা সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পরিবর্তে, সেই সময়কালে দেশে ঠিক বিপরীত ঘটনা ঘটেছিল।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বিনিয়োগের সময় মূলধনের সমান বণ্টন থাকা উচিত, কিন্তু সেই সময়কালে অর্থ পাচারের মাধ্যমে এবং বিদেশে অর্থ পাচারের পর যারা আত্মগোপনে গিয়েছিল তাদের মাধ্যমেও মূলধন ভুল পথে চলে যায়।

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যেখানে সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি মনে করি ভবিষ্যতের পরিবেশ অবশ্যই অনেক ভালো হতে পারে। তবে, আমি মনে করি দেশে বিনিয়োগের জন্য এখন একটি সম্পূর্ণ অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুতরাং, বিনিয়োগ করা উচিত… সরকার এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আগামী দিনে আরও বাণিজ্য উদারীকরণ করবে।’

বশির উদ্দিন বলেন, সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য যত বেশি বিনিয়োগ তৈরি হবে, সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য আরও অনেক বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ফলে সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সমস্যা থাকবে, তবে বিনিয়োগের মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলো সমাধান করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে এফডিআই-এর হ্রাসের প্রবণতা কিছুটা উদ্বেগজনক, বিশেষ করে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক দায়বদ্ধতার মধ্যে।

বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা, অসংগতিপূর্ণ নীতি, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার অস্থিরতা এবং আন্তঃসংস্থার ভুল সমন্বয়কে এফডিআই হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এমনকি কম শ্রম ব্যয়ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ আওয়ামী লীগের ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে শাসনকালে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির সঙ্গে এই কারণগুলোর সংমিশ্রণে- অবশেষে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত বছর মাসব্যাপী বিক্ষোভ এবং আওয়ামী লীগের সহিংস নিপীড়নমূলক পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে, যার ফলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হয় এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বর্তমানে, সরকার বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা, অসংগতি চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তার উদ্যোগের অংশ হিসেবে, সরকার ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দেশের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ সুযোগ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার প্রদর্শনের জন্য ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫’ আয়োজন করতে যাচ্ছে।

এই শীর্ষ সম্মেলনের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা, জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী অর্থনৈতিক সংস্কার তুলে ধরা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পাইপলাইন তৈরি করা।

চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, সিঙ্গাপুর এবং জাপানসহ ৫০টি দেশের ৩ হাজারেরও বেশি বিনিয়োগকারী এই শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন।

শীর্ষ সম্মেলনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, দক্ষিণ কোরিয়ার ২৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম, মিরসরাই এবং কোরিয়ান ইপিজেড পরিদর্শন করবেন, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিনিয়োগের দৃশ্যপট সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।

এছাড়াও, একই দিনে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় একটি স্টার্টআপ-কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৮ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বিএসইজেড) পরিদর্শন করবেন এবং তারপরে সন্ধ্যায় একটি নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

৯ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, রাষ্ট্রদূত, নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়িক নির্বাহীদের সঙ্গে মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

দিনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে যুব উদ্যোক্তা প্রদর্শনী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপি আয়োজিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক একটি ব্রেকআউট অধিবেশন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরবে।

১০ এপ্রিল, একাধিক ব্রেকআউট অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে যেমন ডিজিটাল অর্থনীতি (সিটি এনএ এবং ইউএনডিপির নেতৃত্বে), টেক্সটাইল (এইচএসবিসি এবং বিজিএমইএ), কৃষি ও কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ (ডাচ দূতাবাস এবং এলসিপি), এবং স্বাস্থ্যসেবা (ইন্সপাইরা, ইবিএল এবং সাজিদা ফাউন্ডেশন)।

ওইদিন একটি ম্যাচমেকিং অধিবেশন এবং বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগের সর্বোত্তম অনুশীলনের উপর একটি গোলটেবিল আলোচনাও থাকবে।

বাসস

অর্থনীতি

যে কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

সাধারণত বৈশ্বিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন, ফলে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চললেও এবার এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। এর বদলে স্বর্ণের দাম কমছে। জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ৩০৩ ডলার। গত শুক্রবার […]

যে কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৫

সাধারণত বৈশ্বিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন, ফলে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চললেও এবার এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। এর বদলে স্বর্ণের দাম কমছে।

জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ৩০৩ ডলার। গত শুক্রবার (১২ জুন) এটি নেমে আসে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো হয়ত সুদের হার কমাবে না। উলটো দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে তারা সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে করে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীরা খুব বেশি আগ্রহী হচ্ছেন না।

বর্তমান এই মুদ্রাস্ফীতির বড় একটি কারণ হলো হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলার প্রতিবাদে যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ অবরোধ করে রেখেছে ইরান। এতে করে গ্যাস ও তেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। যার প্রভাবে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি।

যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া দেশটির চাকরির বাজারও থমকে আছে। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার কমাবে এমন কোনো সম্ভাবনা খুবই কম।বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলার একটি হাতিয়ার (হেজ) হিসেবে কাজ করলেও, উচ্চ সুদের হার সাধারণত এই মূল্যবান ধাতুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বর্ণকে মূলত একটি ‘মুনাফাহীন’ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ নিজস্ব মূল্য বৃদ্ধি ছাড়া এটি থেকে বাড়তি কোনো আয় বা লভ্যাংশ আসে না। অন্য কথায়, স্বর্ণ থেকে মুনাফা করতে হলে কেবল এর বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ওপরই নির্ভর করতে হয়।

আলজাজিরাকে আর্থিক খাতের ওয়েবসাইট ‘অপশনস্প্রেডার্স ডটকমের’ প্রধান অপশন অ্যানালিস্ট জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেন, ‘যেকোনো সম্পদের তুলনায় স্বর্ণ প্রকৃত অর্থের (টাকার) সবচেয়ে কাছাকাছি একটি রূপ। এখান থেকে কোনো লভ্যাংশ পাওয়া যায় না, আবার দাম না বাড়া পর্যন্ত এর বাড়তি কোনো মূল্যও তৈরি হয় না। মানুষ মূলত মূল্যবৃদ্ধির ওপর ভরসা করেই স্বর্ণ কেনে।’জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেছেন, যা সুদহার বৃদ্ধি ও স্বর্ণকে সরাসরি প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলে। সুদহার বেশি থাকলে স্বর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে তার ক্ষমতা হারায় এবং মানুষ তখন বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকে।

নোবেল গোল্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কলিন প্লাম আলজাজিরাকে বলেন, যখন ডলার শক্তিশালী হয় তখন স্বর্ণ চাপটি টের পায়। যখন ডলার দুর্বল থাকে তখন স্বর্ণের দাম বাড়ে। বর্তমানে ডলার শক্তিশালী। যার চাপটি টের পাচ্ছে স্বর্ণ। তবে সামনে কি হবে সেটি নিশ্চিত নয়।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বোর্ডের সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন। রোববার (১৪ জুন) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। চলমান সংকট মোকাবিলায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় ও ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ […]

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুন ২০২৬, ২২:৩৭

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বোর্ডের সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন।

রোববার (১৪ জুন) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। চলমান সংকট মোকাবিলায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় ও ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের (Board of Directors) চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক।

রোববার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। কিন্তু এই বৈঠকের ঘন্টা তিনেক পরই ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলো।

সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা পাওয়ার পর ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হোসেন গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেন, এখন থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে তারা টাকা তুলতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও চেক নগদায়নে কোনো অসুবিধা হবে না। আমানত জমা ও উত্তোলনের হার প্রায় কাছাকাছি। গ্রাহকরা প্রতিদিন ১২০০ কোটি টাকার মতো জমা ও সমপরিমাণ আমানত নগদায়ন করছেন।

এছাড়া রেমিটেন্স প্রেরণকারীদের কোনো ধরনের ভোগান্তি যেন না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে বলে জানায় ইসলামী ব্যাংক।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংককে ১৩ হাজার কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়েছে: গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, তারল্য সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে গভর্নর এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ […]

ইসলামী ব্যাংককে ১৩ হাজার কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়েছে: গভর্নর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১৮:৪৫

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, তারল্য সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে গভর্নর এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন ব্যাংককে মোট ১৭ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ সহায়তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫১ হাজার কোটি টাকা। তবে বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম চার মাস বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ব্যাংককে আর্থিক সহায়তা দেয়নি।

গভর্নরের ভাষ্য, পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সংকট গভীর হওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৩ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় গভর্নর আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উৎপাদনমুখী খাতে ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।