সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সেই রাসেলের বিরুদ্ধে নিজ গ্রামেও অভিযোগ

মো:ফারুক আহমেদ, ঘাটাইল টাঙ্গাইল: রিকশাচালককে পিটিয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচক ভাইরাল হয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া রাজশাহীর পবা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান রাসেলের বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ তুলেছেন তার জন্মস্থান টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের আওতাভুক্ত শরিফবাড়ি গ্রামের সাধারণ জনগণ। গত ২ মার্চ শরিফবাড়ি গ্রামের ২০ জন ব্যক্তি স্বাক্ষরিত লিখিত একটি অভিযোগ ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ একাধিক […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৬ মার্চ ২০২৫, ১৫:১৫

মো:ফারুক আহমেদ, ঘাটাইল টাঙ্গাইল:

রিকশাচালককে পিটিয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচক ভাইরাল হয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া রাজশাহীর পবা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান রাসেলের বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ তুলেছেন তার জন্মস্থান টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের আওতাভুক্ত শরিফবাড়ি গ্রামের সাধারণ জনগণ।

গত ২ মার্চ শরিফবাড়ি গ্রামের ২০ জন ব্যক্তি স্বাক্ষরিত লিখিত একটি অভিযোগ ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ একাধিক দপ্তরে দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। এসব নিয়ে ঘাটাইলের সর্বত্র চলছে তোলপাড় এবং আলোচনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাসেলের স্ত্রী একজন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ। ২০২৩ সালে তিনি রাজশাহীর আদালতে বদলি হয়ে আসেন। এরপর পবা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব নেন রাসেল।

তারপর থেকেই বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচিত হতে থাকেন তিনি। এমনকি তিনি তার অসীম ক্ষমতার দাপট নিজ গ্রামের সাধারণ মানুষজনের মধ্যেও দেখাতেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

জানা যায়, জাহিদের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের আওতাভুক্ত শরীফবাড়ি গ্রামে। সেখানে তিনি ফাতেমা ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়েছেন। এটি গড়তে গিয়ে সামনে ঘাটাইল-ভুয়াপুর আঞ্চলিক সড়কের একটি অংশ দখল করে গেইট নির্মাণ করেছেন তিনি, অভিযোগ স্থানীয়দের।

ফলে এখানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্ত সাপেক্ষে জরুরী ভিত্তিতে উক্ত গেইটটি ভেঙ্গে রাস্তা দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে সরেজমিনে শরিফবাড়ি গ্রামে ফাতেমা ফাউন্ডেশনে গিয়ে পাওয়া যায় রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার জন্য তৈরীকৃত ডাস্টবিনের। এগুলোর গায়ে লেখা রয়েছে পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার নাম। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওহাটা পৌরসভা সম্প্রতি ডাস্টবিন বিতরণ করেছে। 

প্লাস্টিকের তৈরি এই ডাস্টবিন নওহাটা থেকে জাহিদের গ্রামের বাড়ির ফাতেমা ফাউন্ডেশনে আসলো কিভাবে, সে বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় নওহাটা পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ওয়ালিউল ইসলাম খানের সাথে। 

ওয়ালিউল ইসলাম খান বলেন,’আমরা একটি কমিটির মাধ্যমে পবায় ডাস্টবিনগুলো বিতরণ করি। কমিটির সভাপতি জাহিদ হাসান তাঁর কার্যালয়ের জন্য এবং কয়েকটি সংগঠনের নামে কয়েকটি ডাস্টবিন নেন। এগুলো তিনি লোক পাঠিয়ে নিয়েছেন। তারপর কী করেছেন বলতে পারব না। যদি তিনি এগুলো তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে যান, তাহলে তা দুঃখজনক।’

জামুরিয়া ইউনিয়নের শরিফবাড়ি, শংকরপুর গ্রামের সাধারণ মানুষজন জানান, আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সংশ্লিষ্টতার সুবাদে ক্ষমতার দাপটে তিনি কাউকে পরোয়া করতেন না। অহংকারমিশ্রিত নানান কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলেন তার নিজ গ্রামের সাধারণ জনগণ। কারণে অকারনে তাদের সাথে করতেন দুর্ব্যবহার।

লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারীরা জাহিদ হাসান রাসেল এবং ফাতেমা ফাউন্ডেশনকে আওয়ামী লীগের প্রোডাক্ট বলে উল্লেখ করেন। এমনকি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মাহবুল হক হানিফের প্রভাব এই ফাউন্ডেশনে রয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন।

এমনকি রাসেলকে একজন ধর্মব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করে গ্রামে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন গ্রামের সাধারণ জনগণ। 

স্থানীয়রা আরও জানান, ঘাটাইলের সাবেক আওয়ামী সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার সাথে রাসেলের ছিল অধিক সখ্যতা। ফলে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ভীতসন্তস্ত্র করে তুলতেন। 

শরিফবাড়ি গ্রামের মিঠু, বাবুল, কায়সার, বাদশা মিয়া সহ অনেকের ভাষ্যমতে, গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী নেতাদের সাথে রাসেল হাসানের গভীর মেলামেশা ও সম্পর্ক ছিল। ফলে তার অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেউ কোনো প্রতিবাদ জানাতে সাহস করত না।

কিন্তু রাজশাহীর পবায় একজন গরিব অসহায় রিকশাচালককে পিটিয়ে আহত করার সংবাদ প্রকাশিত হলে আমরাও গ্রামবাসী একজোট হয়ে রাসেলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।

এরই ফলশ্রুতিতে আমরা লিখিত একটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ অন্যান্য দপ্তরে প্রেরণ করেছি। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে রাসেলের দখলদারিত্বের অবসান হোক।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বরখাস্ত হওয়া সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান রাসেলকে ফোন করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও সাড়া দেননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও আবু সাঈদ অভিযোগপত্র পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এই বিষয়টি নিয়ে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।