বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

‘৭১ এর স্বাধীনতা যদি বাঘ হয়ে থাকে, ২৪ এর স্বাধীনতা কিন্তু বিড়াল’

একাত্তর প্রসঙ্গে কোনো ছাড় নয়, এমন বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সারাদিন রাজনীতির কথা বলে ঘুরে বেড়াও, আমরা বসে আছি রাজনীতি বুঝি না কিছুই, আমাদের অভিজ্ঞতা নাই, জ্ঞান নাই, একাত্তর কোনো কিছুই না, অইটা কোনো স্বাধীনতা ছিল না, তোমরা স্বাধীনতা দিবা, আরে বাবা! একাত্তরের স্বাধীনতা আর এই স্বাধীনতা, বিড়ালরে কিন্তু বাঘের মাসি বলা হয়। একাত্তরের স্বাধীনতা […]

নিউজ ডেস্ক

১১ জানুয়ারী ২০২৫, ১৮:৪৮

একাত্তর প্রসঙ্গে কোনো ছাড় নয়, এমন বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সারাদিন রাজনীতির কথা বলে ঘুরে বেড়াও, আমরা বসে আছি রাজনীতি বুঝি না কিছুই, আমাদের অভিজ্ঞতা নাই, জ্ঞান নাই, একাত্তর কোনো কিছুই না, অইটা কোনো স্বাধীনতা ছিল না, তোমরা স্বাধীনতা দিবা, আরে বাবা! একাত্তরের স্বাধীনতা আর এই স্বাধীনতা, বিড়ালরে কিন্তু বাঘের মাসি বলা হয়। একাত্তরের স্বাধীনতা যদি বাঘ হয়ে থাকে, তোমাদের স্বাধীনতা কিন্তু বিড়াল।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পথ ছাড়বে না, হুঁশিয়ারি দেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যারা একাত্তরকে ভুলাইতে চান, তাদের বলতে চাই, এই বাঙ্গালি জাতি কখনও একাত্তরকে ভুলবে না। আমি বলি এই দেশে বেলি-চামেলি ফুলই ফোটে না, এ দেশে রক্তজবাও ফোটে। এই দেশের জঙ্গলে শুধু কোকিল ডাকে না, এই দেশে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও ডাকে। এই দেশে মীরজাফর, জগৎ শেঠ, রায় দুর্লভ, ইয়ার লতিফ, রাজবল্লভ, রাজাকার, আলবদর জন্মায় না, এই দেশে যুগে যুগে জন্মগ্রহণ করে সিরাজ, মীর মদন, মোহনলাল, সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম, শহীদ জিয়াউর রহমানের মতো, মুক্তিযোদ্ধাদের মতো বীর সন্তানেরা। এই দেশকে কখনো ধ্বংস করা যাবে না। এই দেশ স্বাধীনতার পথে থাকবে, মুক্তিযুদ্ধের পথে থাকবে।’

এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ করতে গিয়েছি, দেখেছি গুলি লাগছে গায়ে, উঠে বলছে মা’কে দেইখো তুমি, সেই মা পাগল হয়ে মারা গেছে। যারা নয় মাস যুদ্ধ করে কাটিয়েছেন যোদ্ধারা, তার সঙ্গে কিছুর তুলনা হয় বলেন আপনারা? আপনারা কি সব ভুইলা বইসা আছেন নাকি? যখন বলে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কিছু না, তাহলে আপনারা চুপ করে থাকেন কেন? আপনারা কি চুপ করে থাকবেন?’

শেষ দুই দশকে বিএনপি আর জামায়াতে ইসলামী একই সঙ্গে রাজনীতির ময়দানে ছিল। তবে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কটা দাঁড়িয়েছে রীতিমতো সাপে-নেউলে। সম্প্রতি এক সভায় আবারও জামায়াতে ইসলামীকে একহাত নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও দলটির নেতা ফজলুর রহমান।

তার অভিমত, বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচনে গেলে ১০ আসনও পাবে না জামায়াত।

এছাড়াও তিনি এই সভায় প্রশ্ন তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিয়েও। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সঙ্গে একাত্তরকে খাটো করার প্রবণতাকেও একহাত নিয়েছেন।

তিনি জামায়াত প্রসঙ্গে বলেন, ‘আল্লাহর রহমত আমরাই জিতব। বাকবাকুম করে যারা কথা বলত, তাদের নেতারা ৭০ সালেও কথা বলছে, পরে দেখা গেছে ভোট পেয়েছেন ৬ পারসেন্ট। আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, ইসলামের নাম নিয়ে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন, ৭০ সালে, ৭১ সালে, এখনও যারা করতে চান, তারা ১০ পারসেন্টের বেশি ভোট পান, তাহলে ভোটের পরে ফজলুর রহমানের সঙ্গে দেখা করবেন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বড় বড় কথা বলেন, ভোট একা করে দেখান তো পারলে? তিন বার ভোট করেছেন, একবার ১ আরেকবার ৩ আসন পেয়েছেন। বিএনপির নামে খুব দুর্নাম করতেছেন, বিএনপি খুব লুটপাট করতেছে, বিএনপি খারাপ বলে বলে ফেসবুক ইউটিউবে অপপ্রচার করতেছেন।’

যদিও বিএনপির বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেননি এই নেতা।সেই সঙ্গে পালটা প্রশ্ন তুলতেও ভুল করেননি। তার কথায়, ‘আমি অস্বীকার করি না, বিএনপির কর্মীরা ১৫ বছর না খেয়ে ছিল। অনেক অত্যাচার অবিচার সহ্য করেছে, মা-বাপ মরেছে জেলে থাকার কারণে দেখতে পারে নাই, জানাজা পড়তে এসেছে ডাণ্ডাবেড়ি পরে, সেই কর্মীর যখন পেটে ভাত থাকে না, যদি ১০ টাকা রোজগার করতে চায়, তার যদি দুর্নাম হয়, তাহলে যারা ব্যাংক দখল করে তাদের দুর্নাম হবে না?’

এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের নিয়েও মন্তব্য করেন ফজলুর রহমান।বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দলের নাম সমন্বয়কের দল। আমি কিশোরগঞ্জে গেছিলাম, দেখলাম তিনটা ছেলে হাতে ডায়েরি নিয়ে হাঁটে, আমি জিজ্ঞেস করলাম বাবা তোমরা কারা, ওদের একজন বলল আমরা সমর নায়ক, আমি বললাম তুমি সমর নায়ক? সে বলল স্যার ভুল হয়ে গেছে আমরা সমন্বয়ক। জিজ্ঞেস করলাম কেন আসছিলা, সে বলল ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে আসছি। কোন ক্লাসে পড়ো? বলল, কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি গুরুদয়াল কলেজে।’

তার অভিমত, এতে করে প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি ছেড়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ফেরার আহ্বান জানান, ‘এভাবে তিনটা জেনারেশন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে। আমরা যে এইম ইন লাইফ রচনায় লেখতাম ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই, এখন ছেলেরা লেখবে সমন্বয়ক হইতে চাই। এসব ছেড়ে পড়াশোনায় যাও। ভারতকে সারা দিন বকো? বকা দেও হাজারবার, আমরাও দেই। কিন্তু জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থেকে ভালো ছাত্র হও, বেঙ্গালুরুর আইআইটির বিজ্ঞানীর থেকেও ভালো বিজ্ঞানী হও।’

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৪

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৪

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৬

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৪