বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

আধুনিক সমাজের নারীদের জন্য খাদিজা রা.-এর আর্দশ

আল্লাহ তায়ালা নারী ও পুরুষকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি দুটো পৃথক মনকে একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন, অনুর্বর হৃদয়ে ভালোবাসার উর্বরতা সৃষ্টি করেছেন এবং মায়াহীন অন্তরে মায়ার শীতলতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ সম্পর্কের অটুট বন্ধন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, তোমাদের জীবনসঙ্গীরা তোমাদের অবিছেদ্য অংশ, আর তোমরাও তাদের অবিছেদ্য অংশ। (সুরা আল-বাক্বারাহ: […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৯:২২

আল্লাহ তায়ালা নারী ও পুরুষকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি দুটো পৃথক মনকে একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন, অনুর্বর হৃদয়ে ভালোবাসার উর্বরতা সৃষ্টি করেছেন এবং মায়াহীন অন্তরে মায়ার শীতলতা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এ সম্পর্কের অটুট বন্ধন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, তোমাদের জীবনসঙ্গীরা তোমাদের অবিছেদ্য অংশ, আর তোমরাও তাদের অবিছেদ্য অংশ। (সুরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৭)। অর্থাৎ, জীবনের সঙ্গিনী হিসেবে একজন নারী স্বামীর জীবনের আলোর বাতিঘর।

যে নারী সারা জীবন ধরে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আগলে রেখেছিলেন, তার নাম হলো হযরত খাদিজাতুল কুবরা রা.। নবীজি সা.-তার সততা, বিশ্বস্ততা, ভদ্রতা, পরোপকার প্রবৃত্তি এবং অন্যান্য চারিত্রিক গুণে মুগ্ধ হয়ে তাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেন।

হযরত খাদিজা রা.-এর জীবন আজও বর্তমান সমাজের নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। তিনি কতটা ভালোবেসে নবীজিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। হাদিসের আলোকে তার কিছু চিত্র নিম্নে তুলে ধরা হলো।

নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

হজরত খাদিজা রা. প্রিয় নবীজি সা. -এর শুধু স্ত্রীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। হেরা গুহায় যখন নবীজি সা. ধ্যানে মগ্ন থাকতেন, তখন খাদিজা রা. সেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তার কাছে খাবার পৌঁছে দিতেন। (সহিহ বোখারি :৩)

যাদের হেরা গুহা স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয়েছে, তারা জানে সেখানে পৌঁছানো কতটা দুঃসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু হজরত খাদিজা রা.-এর ভালোবাসা ও সাহসিকতা তাকে কখনোই বাধা দেয়নি।

সাহসদাতা ও সান্ত্বনাদাতা নারী

নবীজি সা. যখন প্রথম হজরত জিবরাইল আ.-কে দেখে ভয় পেয়ে যান, তখন তিনি খাদিজা রা.-এর কাছে আসেন। তিনি বলেন, খাদিজা আমার কী হলো? আমি নিজের ওপর আশঙ্কা করছি। খাদিজা রা. তখন সাহস দিয়ে বলেন, না কখনো তা হবে না। বরং সুসংবাদ গ্রহণ করুন।

আল্লাহর কসম! তিনি আপনাকে অপমানিত করবেন না। আপনি স্বজনদের খোঁজখবর রাখেন, সত্য কথা বলেন, দুঃখীদের দুঃখ নিবারণ করেন, দরিদ্রদের বাঁচার ব্যবস্থা করেন, অতিথির সেবা করেন এবং প্রকৃত দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্য করেন। (সহিহ মুসলিম: ২৯৩)

খাদিজা রা-এর এ সাহসিকতা ও সমর্থন নবীজির জন্য এক অমূল্য পাথেয় ছিল।

স্বামীর কাজে সমর্থন

মুসনাদ ইবন হাম্বলে বর্ণিত একটি ঘটনা থেকে জানা যায়, হজরত খাদিজা রা. এক রাতে নবীজির পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেন। এক প্রতিবেশিনী যখন নবীজিকে শুনেছিলেন যে তিনি কখনো লাত এবং উজ্জা পূজা করবেন না, তখন খাদিজা রা. দৃঢ়ভাবে বলেন, দূর হোক লাত আর উজ্জা। (মুসনাদে আহমদ: ১৭৪৮৭)

এমন দৃঢ় সমর্থন ও বিশ্বাস নবীজির প্রতি তার ভালোবাসার গভীরতা প্রকাশ করে।

আদর্শ জীবনসঙ্গিনীর ইসলাম গ্রহণ

হজরত খাদিজা রা. নবীজির দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা.-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, যেদিন আমি ইসলাম গ্রহণ করি, সেদিন আমি তৃতীয় ব্যক্তি ছিলাম যে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। (সহিহ বোখারি: ৩৭২৭)

খাদিজা রা. ও আবু বকর রা. ছাড়া অন্য কেউ তখন ইসলাম গ্রহণ করেননি। এ থেকে বোঝা যায়, খাদিজা রা. ছিলেন নবীজির প্রথম সহযাত্রী ইসলামের পথে।

ভালোবাসায় সমর্পণ

হজরত খাদিজা রা. তার চারিত্রিক গুণাবলির জন্য ‘তাহিরা’ (পবিত্র) নামে সুপরিচিত ছিলেন। বিয়ের আগে তিনি মক্কার এক ধনাঢ্য বিধবা ছিলেন এবং সিরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে তার বাণিজ্য চলত।

নবী মুহাম্মদ সা.-এর গুণাবলির কথা শুনে তিনি নিজের ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব নবীজির ওপর অর্পণ করেন। নবীজির আদর্শ ও সততা দেখে তিনি নিজের সবকিছু তাঁকে সমর্পণ করেছিলেন।

সাহসী ও দৃঢ়চিত্ত নারী

মক্কায় ইসলাম প্রচারের পর, কোরাইশরা নবীজির বিরুদ্ধে শত্রুতা শুরু করে এবং তিনি নানা অত্যাচারের শিকার হন। নবুওয়তের সপ্তম বছরে কোরাইশরা নবীজি এবং তার পরিবার-পরিজনকে একঘরে করে দেয়।

তিন বছর পর্যন্ত তারা বর্ণনাতীত কষ্ট সহ্য করেন। এই কঠিন সময়ে হজরত খাদিজা রা. ছিলেন নবীজির পাশে, তাকে সাহস ও সমর্থন জুগিয়ে চলছিলেন। তিনি তার অগাধ ধনসম্পদ ইসলাম প্রচারের জন্য ব্যয় করেন।

হযরত খাদিজা রা. এক আদর্শ নারীর মূর্তিমান রূপ। তিনি নিঃস্বার্থভাবে নিজের জীবন ও সম্পদ নবীজির জন্য উৎসর্গ করেছিলেন এবং ইসলামের প্রচারের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করেছিলেন।

তাঁর জীবন আমাদেরকে শিক্ষা দেয়, কীভাবে একজন নারী একজন পুরুষকে সফল করতে পারে। তাঁর জীবনী আমাদের নারী সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

 

ইসলাম ও জীবন

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন। ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে […]

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

নিউজ ডেস্ক

২৬ মে ২০২৬, ০৯:২৬

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন।

ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারেরও বেশি।

আজ ৯ জিলহজ, হজের মূল দিন। হাজিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের বিশাল এই সমতল ভূমি আজ সাদা এহরামে আচ্ছাদিত লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এক অনন্য দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

হাজিরা এখানে অবস্থান করে জিকির-আজকার, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটাবেন। একই সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং হজের খুতবা শুনবেন। এ বছর আরাফাতের মসজিদে নামিরায় হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে রাতযাপন করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপের জন্য কংকর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকেই।

পরদিন ১০ জিলহজ মিনায় গিয়ে হাজিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং তাওয়াফে জিয়ারত।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে গেলে শয়তান তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। সেই ঘটনার স্মরণেই হাজিরা জামরাতে প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন।

হজের শেষ পর্বে হাজিরারা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন। এর মাধ্যমেই শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে গতকাল সারাদিন ও রাত হাজিরা মিনায় অবস্থান করেন। লাখ লাখ তাঁবুর শহরে পরিণত হওয়া মিনায় তারা নামাজ, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটান।

পবিত্র হজ উপলক্ষে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফাসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার। মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

তীব্র গরমের মধ্যেও হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা ও আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, ড্রোন ক্যামেরা এবং তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে এবারের হজ ব্যবস্থাপনায়।

ইসলাম ও জীবন

মাদরাসায় যৌন নির্যাতন রোধে কমিশন গঠন-মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শ : শায়েখ আহমাদুল্লাহ

মাদরাসাভিত্তিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন ও অনাচারের অভিযোগ বন্ধে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বক্তা শায়েখ আহমাদুল্লাহ। একইসঙ্গে এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে আলাদা কমিশন গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন পরামর্শ ও সুপারিশ […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১০:৫৪

মাদরাসাভিত্তিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন ও অনাচারের অভিযোগ বন্ধে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বক্তা শায়েখ আহমাদুল্লাহ। একইসঙ্গে এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে আলাদা কমিশন গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন পরামর্শ ও সুপারিশ দিয়ে আসছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে হজ সফরে থাকলেও দেশে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন এবং কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, মাদরাসায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রতিরোধে প্রতিটি কক্ষ সিসিটিভির আওতায় আনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা, আবাসন ও শ্রেণিকক্ষ আলাদা রাখা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক খাটের ব্যবস্থা জরুরি।

এছাড়া মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

শায়েখ দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা থাকলেও কখনও কখনও নিরপরাধ আলেম বা ইমামদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়। উদাহরণ হিসেবে ফেনীর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে ফরেনসিক পরীক্ষায় অভিযোগের সঙ্গে স্থানীয় ইমামের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, দেশের বড় ও পরিচিত মাদরাসাগুলোর তুলনায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট আবাসিক মাদরাসাগুলোতে এ ধরনের অভিযোগ বেশি শোনা যায়।

এ অবস্থায় হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার অধীনে আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠলে কমিশন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না পাওয়ার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হবে।

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ধরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন পরামর্শ ও সুপারিশ দিয়ে আসছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে হজ সফরে থাকলেও দেশে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন এবং কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, মাদরাসায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রতিরোধে প্রতিটি কক্ষ সিসিটিভির আওতায় আনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা, আবাসন ও শ্রেণিকক্ষ আলাদা রাখা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক খাটের ব্যবস্থা জরুরি।

এছাড়া মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

শায়েখ দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা থাকলেও কখনও কখনও নিরপরাধ আলেম বা ইমামদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়। উদাহরণ হিসেবে ফেনীর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে ফরেনসিক পরীক্ষায় অভিযোগের সঙ্গে স্থানীয় ইমামের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, দেশের বড় ও পরিচিত মাদরাসাগুলোর তুলনায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট আবাসিক মাদরাসাগুলোতে এ ধরনের অভিযোগ বেশি শোনা যায়।

এ অবস্থায় হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার অধীনে আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠলে কমিশন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না পাওয়ার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হবে।

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ধরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ইসলাম ও জীবন

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি পদে মসজিদের ইমাম

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার শীর্ষ এ পদে একজন আলেমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, […]

নিউজ ডেস্ক

২২ মে ২০২৬, ১৮:৩৯

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার শীর্ষ এ পদে একজন আলেমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৭৫-এর ধারা ৫(ক)(১) ও ৫(ক)(২) অনুযায়ী তাকে অন্যান্য পেশাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, এ নিয়োগ দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এই প্রথম কোনও পেশাদার আলেম ও মসজিদের ইমামকে সচিব পদমর্যাদার প্রশাসনিক উচ্চ পদে দায়িত্ব প্রদান করা হলো।

প্রসঙ্গত, মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী কওমি, আলিয়া ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, ভারতের প্রসিদ্ধ দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে অধ্যয়ন করেন।

কওমি শিক্ষায় দাওরায়ে হাদিস, আলিয়া শিক্ষায় কামিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মাস্টার্স—সব ক্ষেত্রেই তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন তার অসাধারণ মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের প্রমাণ বহন করে।

কর্মজীবনে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, গবেষক ও প্রশিক্ষক হিসেবে বহু প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি চট্টগ্রামের দারুল মারিফ ও দারুল উলুম মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও পাঠদানে নিয়োজিত ছিলেন। তার হাতে অসংখ্য শিক্ষার্থী ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষায় আলোকিত হয়েছেন।

দেশের ইসলামী অর্থনীতি ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নেও রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সর্বশেষ তিনি সেন্ট্রাল শরীয়াহ কাউন্সিল ফর ইসলামী ব্যাংকস অব বাংলাদেশের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি-এর শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ইসলামী উইংয়ের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক-সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।