রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

আধুনিক সমাজের নারীদের জন্য খাদিজা রা.-এর আর্দশ

আল্লাহ তায়ালা নারী ও পুরুষকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি দুটো পৃথক মনকে একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন, অনুর্বর হৃদয়ে ভালোবাসার উর্বরতা সৃষ্টি করেছেন এবং মায়াহীন অন্তরে মায়ার শীতলতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ সম্পর্কের অটুট বন্ধন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, তোমাদের জীবনসঙ্গীরা তোমাদের অবিছেদ্য অংশ, আর তোমরাও তাদের অবিছেদ্য অংশ। (সুরা আল-বাক্বারাহ: […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৯:২২

আল্লাহ তায়ালা নারী ও পুরুষকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি দুটো পৃথক মনকে একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন, অনুর্বর হৃদয়ে ভালোবাসার উর্বরতা সৃষ্টি করেছেন এবং মায়াহীন অন্তরে মায়ার শীতলতা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এ সম্পর্কের অটুট বন্ধন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, তোমাদের জীবনসঙ্গীরা তোমাদের অবিছেদ্য অংশ, আর তোমরাও তাদের অবিছেদ্য অংশ। (সুরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৭)। অর্থাৎ, জীবনের সঙ্গিনী হিসেবে একজন নারী স্বামীর জীবনের আলোর বাতিঘর।

যে নারী সারা জীবন ধরে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আগলে রেখেছিলেন, তার নাম হলো হযরত খাদিজাতুল কুবরা রা.। নবীজি সা.-তার সততা, বিশ্বস্ততা, ভদ্রতা, পরোপকার প্রবৃত্তি এবং অন্যান্য চারিত্রিক গুণে মুগ্ধ হয়ে তাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেন।

হযরত খাদিজা রা.-এর জীবন আজও বর্তমান সমাজের নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। তিনি কতটা ভালোবেসে নবীজিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। হাদিসের আলোকে তার কিছু চিত্র নিম্নে তুলে ধরা হলো।

নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

হজরত খাদিজা রা. প্রিয় নবীজি সা. -এর শুধু স্ত্রীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। হেরা গুহায় যখন নবীজি সা. ধ্যানে মগ্ন থাকতেন, তখন খাদিজা রা. সেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তার কাছে খাবার পৌঁছে দিতেন। (সহিহ বোখারি :৩)

যাদের হেরা গুহা স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয়েছে, তারা জানে সেখানে পৌঁছানো কতটা দুঃসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু হজরত খাদিজা রা.-এর ভালোবাসা ও সাহসিকতা তাকে কখনোই বাধা দেয়নি।

সাহসদাতা ও সান্ত্বনাদাতা নারী

নবীজি সা. যখন প্রথম হজরত জিবরাইল আ.-কে দেখে ভয় পেয়ে যান, তখন তিনি খাদিজা রা.-এর কাছে আসেন। তিনি বলেন, খাদিজা আমার কী হলো? আমি নিজের ওপর আশঙ্কা করছি। খাদিজা রা. তখন সাহস দিয়ে বলেন, না কখনো তা হবে না। বরং সুসংবাদ গ্রহণ করুন।

আল্লাহর কসম! তিনি আপনাকে অপমানিত করবেন না। আপনি স্বজনদের খোঁজখবর রাখেন, সত্য কথা বলেন, দুঃখীদের দুঃখ নিবারণ করেন, দরিদ্রদের বাঁচার ব্যবস্থা করেন, অতিথির সেবা করেন এবং প্রকৃত দুর্দশাগ্রস্তদের সাহায্য করেন। (সহিহ মুসলিম: ২৯৩)

খাদিজা রা-এর এ সাহসিকতা ও সমর্থন নবীজির জন্য এক অমূল্য পাথেয় ছিল।

স্বামীর কাজে সমর্থন

মুসনাদ ইবন হাম্বলে বর্ণিত একটি ঘটনা থেকে জানা যায়, হজরত খাদিজা রা. এক রাতে নবীজির পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেন। এক প্রতিবেশিনী যখন নবীজিকে শুনেছিলেন যে তিনি কখনো লাত এবং উজ্জা পূজা করবেন না, তখন খাদিজা রা. দৃঢ়ভাবে বলেন, দূর হোক লাত আর উজ্জা। (মুসনাদে আহমদ: ১৭৪৮৭)

এমন দৃঢ় সমর্থন ও বিশ্বাস নবীজির প্রতি তার ভালোবাসার গভীরতা প্রকাশ করে।

আদর্শ জীবনসঙ্গিনীর ইসলাম গ্রহণ

হজরত খাদিজা রা. নবীজির দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা.-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, যেদিন আমি ইসলাম গ্রহণ করি, সেদিন আমি তৃতীয় ব্যক্তি ছিলাম যে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। (সহিহ বোখারি: ৩৭২৭)

খাদিজা রা. ও আবু বকর রা. ছাড়া অন্য কেউ তখন ইসলাম গ্রহণ করেননি। এ থেকে বোঝা যায়, খাদিজা রা. ছিলেন নবীজির প্রথম সহযাত্রী ইসলামের পথে।

ভালোবাসায় সমর্পণ

হজরত খাদিজা রা. তার চারিত্রিক গুণাবলির জন্য ‘তাহিরা’ (পবিত্র) নামে সুপরিচিত ছিলেন। বিয়ের আগে তিনি মক্কার এক ধনাঢ্য বিধবা ছিলেন এবং সিরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে তার বাণিজ্য চলত।

নবী মুহাম্মদ সা.-এর গুণাবলির কথা শুনে তিনি নিজের ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব নবীজির ওপর অর্পণ করেন। নবীজির আদর্শ ও সততা দেখে তিনি নিজের সবকিছু তাঁকে সমর্পণ করেছিলেন।

সাহসী ও দৃঢ়চিত্ত নারী

মক্কায় ইসলাম প্রচারের পর, কোরাইশরা নবীজির বিরুদ্ধে শত্রুতা শুরু করে এবং তিনি নানা অত্যাচারের শিকার হন। নবুওয়তের সপ্তম বছরে কোরাইশরা নবীজি এবং তার পরিবার-পরিজনকে একঘরে করে দেয়।

তিন বছর পর্যন্ত তারা বর্ণনাতীত কষ্ট সহ্য করেন। এই কঠিন সময়ে হজরত খাদিজা রা. ছিলেন নবীজির পাশে, তাকে সাহস ও সমর্থন জুগিয়ে চলছিলেন। তিনি তার অগাধ ধনসম্পদ ইসলাম প্রচারের জন্য ব্যয় করেন।

হযরত খাদিজা রা. এক আদর্শ নারীর মূর্তিমান রূপ। তিনি নিঃস্বার্থভাবে নিজের জীবন ও সম্পদ নবীজির জন্য উৎসর্গ করেছিলেন এবং ইসলামের প্রচারের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করেছিলেন।

তাঁর জীবন আমাদেরকে শিক্ষা দেয়, কীভাবে একজন নারী একজন পুরুষকে সফল করতে পারে। তাঁর জীবনী আমাদের নারী সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

 

ইসলাম ও জীবন

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা […]

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিলো।

খবরে জানা গেছে, সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার ভিসা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক বক্তব্যকারীদের প্রতি অস্টেলিয়া সরকারের কোনো সহনশীলতা নেই।

এ ছাড়া ডেইলি টেলিগ্রাফ শায়খ আহমদুল্লাহর ভিসা বাতিলের খবর নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, শায়খ আহমদুল্লাহ অতীতে ইহুদিদের ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার জন্য ইহুদিদের দায়ী করেন।

(আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে মেলবোর্নে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন।

মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া
তার ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল-তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগেই আজহারির মতো তাকেও অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হলো।

আন্তর্জাতিক

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন […]

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

নিউজ ডেস্ক

০৬ মে ২০২৬, ১৩:৫২

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন-

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন হার মানতে চাননি এবং জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি সুযোগ পেলে মমতাও জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতেন।

সাধারণত নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এবং তাকেই পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নিলে তিনি ফের শপথ নেন। নাহলে কুর্সি ছাড়তে হয়।

গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন-

আমরা তো হারিনি যে রাজভবনে যাব। হারলে আমি রেজিগনেশন দিতাম। এখন প্রশ্নই ওঠে না। জোর করে আমাদের হারানোর চেষ্টা হচ্ছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৭৯

ইসলাম ও জীবন

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি পদে মসজিদের ইমাম

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার শীর্ষ এ পদে একজন আলেমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, […]

নিউজ ডেস্ক

২২ মে ২০২৬, ১৮:৩৯

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার শীর্ষ এ পদে একজন আলেমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৭৫-এর ধারা ৫(ক)(১) ও ৫(ক)(২) অনুযায়ী তাকে অন্যান্য পেশাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, এ নিয়োগ দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এই প্রথম কোনও পেশাদার আলেম ও মসজিদের ইমামকে সচিব পদমর্যাদার প্রশাসনিক উচ্চ পদে দায়িত্ব প্রদান করা হলো।

প্রসঙ্গত, মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী কওমি, আলিয়া ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, ভারতের প্রসিদ্ধ দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে অধ্যয়ন করেন।

কওমি শিক্ষায় দাওরায়ে হাদিস, আলিয়া শিক্ষায় কামিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মাস্টার্স—সব ক্ষেত্রেই তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন তার অসাধারণ মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের প্রমাণ বহন করে।

কর্মজীবনে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, গবেষক ও প্রশিক্ষক হিসেবে বহু প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি চট্টগ্রামের দারুল মারিফ ও দারুল উলুম মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও পাঠদানে নিয়োজিত ছিলেন। তার হাতে অসংখ্য শিক্ষার্থী ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষায় আলোকিত হয়েছেন।

দেশের ইসলামী অর্থনীতি ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নেও রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সর্বশেষ তিনি সেন্ট্রাল শরীয়াহ কাউন্সিল ফর ইসলামী ব্যাংকস অব বাংলাদেশের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি-এর শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ইসলামী উইংয়ের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক-সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।