রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

হজরত ঈসা আ. সম্পর্কে কুরআনের চমৎকার বর্ণনা

প্রতিটি নবীর জীবনই আমাদের জন্য অনুসরণীয় ও শিক্ষণীয়। তাদের জীবনকে যদি আমরা গভীরভাবে অনুসন্ধান করি, তবে দেখতে পাই যে, তাদের প্রতিটি অধ্যায় আল্লাহর দয়া, কুদরত ও হিকমতের অনন্য দৃষ্টান্ত। আল্লাহর নবী হজরত ঈসা আ. -এর জীবনও এই ক্ষেত্র থেকে ব্যতিক্রম নয়। তিনি ছিলেন এক মহান নবী, যার জীবন ছিল অলৌকিক ঘটনা ও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৭:০৯

প্রতিটি নবীর জীবনই আমাদের জন্য অনুসরণীয় ও শিক্ষণীয়। তাদের জীবনকে যদি আমরা গভীরভাবে অনুসন্ধান করি, তবে দেখতে পাই যে, তাদের প্রতিটি অধ্যায় আল্লাহর দয়া, কুদরত ও হিকমতের অনন্য দৃষ্টান্ত।

আল্লাহর নবী হজরত ঈসা আ. -এর জীবনও এই ক্ষেত্র থেকে ব্যতিক্রম নয়। তিনি ছিলেন এক মহান নবী, যার জীবন ছিল অলৌকিক ঘটনা ও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে পরিপূর্ণ।

হজরত ঈসা আ. -এর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বহু আয়াত রয়েছে, যা তার নবুওয়াতের বিশেষত্ব, অলৌকিক ক্ষমতা ওু আল্লাহর প্রতি তার নিবেদনের প্রমাণ বহন করে।

তিনি ছিলেন বনি ইসরায়েলের প্রতি প্রেরিত নবী, যার ওপর আল্লাহর কিতাব ইনজিল নাজিল হয়েছিল। তার জীবন ও কর্মের প্রতিটি দিক মানবজাতির জন্য এক অসীম শিক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আল্লাহর প্রেরিত এই মহান ব্যক্তিত্বের জীবন শুধুমাত্র ধর্মীয় ইতিহাসের পাতায় নয়, বরং পবিত্র কুরআনেও উল্লেখিত হয়েছে তাঁর সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যবলী, যা আমাদের ইমান মজবুত করার পাশাপাশি নবীদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও হিকমত সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি দেবে।

হজরত ঈসা আ. এর অলৌকিক জন্ম

কুরআনে হজরত ঈসা আ. এর জন্মের কথা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। কারণ হজরত ঈসা আ. ছিলেন একমাত্র নবী,যার জন্মগ্রহণ ছিল এক অলৌকিক ঘটনা, যেহেতু তিনি কোন পিতার মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেননি।

তাঁর মায়ের নাম হজরত মারিয়ম আ., যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ দয়া লাভকারী একজন মহীয়সী নারী ছিলেন। (সুরা আল ইমরান,আয়াত: ৪৫-৪৭)

আল্লাহর দেয়া নাম ঈসা মাসিহ

আল্লাহ নিজেই হজরত ঈসা আ. -এর নাম রেখেছেন ঈসা মাসিহ। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যখন ফেরেশতারা বলল, হে মারইয়াম! আল্লাহ তোমাকে তার পক্ষ থেকে এক বাণী দিয়ে সুসংবাদ দিচ্ছেন। তার নাম হবে মাসিহ, ঈসা ইবনে মারইয়াম। (সুরা আলে ইমরান ৪৫)

শয়তানের অনিষ্টতা থেকে মুক্ত থাকা

হজরত ঈসা আ. এবং তার মাতা হজরত মারইয়াম আ. শয়তানের অনিষ্ট থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন। কুরআনে আল্লাহ বলেন, আমি তাকে ও তার সন্তানকে অভিশপ্ত শয়তানের স্পর্শ থেকে রক্ষা করেছি। (সুরা আলে ইমরান ৩৬)

দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানের অধিকারী

ঈসা আ. দুনিয়া ও আখিরাতে মহাসম্মানের অধিকারী ছিলেন। আল্লাহ বলেন, তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত হবেন এবং তিনি আমার ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। (সুরা আলে ইমরান ৪৫)

মায়ের কোলে বক্তব্য দেয়া

হজরত ঈসা আ. মাতৃক্রোড়ে থেকেই অলৌকিকভাবে কথা বলেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি বললেন, আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং নবী করেছেন। (সুরা মারইয়াম ৩০)

বনি ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত নবী

কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঈসা আ. বনি ইসরায়েলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। আল্লাহ বলেন, আর তিনি ইসরাঈল বংশের প্রতি রাসুল ছিলেন। (সুরা আলে ইমরান ৪৯)

অলৌকিক ক্ষমতা লাভ

ঈসা আ. -কে আল্লাহ বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা প্রদান করেছিলেন। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে ১. আমি মাটির পাখি তৈরি করি, এরপর এতে ফুঁ দিলে তা জীবন্ত পাখি হয়ে যায়। ২. আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করি। ৩. আমি মৃতকে জীবিত করি। (সুরা আলে ইমরান ৪৯)

ইনজিল লাভ ও তাওরাতের সত্যায়ন

হজরত ঈসা আ. -কে আল্লাহ ইনজিল কিতাব দান করেছেন, তিনি তাওরাতের সত্যায়ন করেছেন। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি তাকে ইনজিল প্রদান করেছি, যা তাওরাতের সত্যায়নকারী। (সুরা আলে ইমরান ৫০)

আসমানে উঠিয়ে নেয়া

ইহুদি চক্রান্তের ফলে ঈসা আ. -কে আল্লাহ আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। কুরআনে আল্লাহ বলেন, বরং আল্লাহ তাকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা নিসা ১৫৮)

দুনিয়া থেকে জীবিত অবস্থায় আসমানে উত্তোলিত হওয়া

ঈসা আ. ছিলেন একমাত্র নবী, যাকে আল্লাহ জীবিত অবস্থায় আসমানে উত্তোলন করেছেন। কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা ঈসাকে হত্যা করেনি এবং শূলে চড়ায়নি, বরং তাদের কাছে তা সন্দেহজনক করে দেওয়া হয়েছিল। (সুরা নিসা ১৫৭)

হজরত ঈসা আ. -এর জীবনের প্রতিটি ঘটনা আল্লাহর কুদরতের মহন নিদর্শন। তিনি আল্লাহর প্রেরিত এক বিশেষ রসুল, যার জীবন থেকে আমাদের অনেক শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। আল্লাহ তায়ালার এ প্রিয় বান্দার প্রতি বিশ্বাস রাখা আমাদের ইমানের বিশেষ অংশ।

 

ইসলাম ও জীবন

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা […]

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিলো।

খবরে জানা গেছে, সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার ভিসা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক বক্তব্যকারীদের প্রতি অস্টেলিয়া সরকারের কোনো সহনশীলতা নেই।

এ ছাড়া ডেইলি টেলিগ্রাফ শায়খ আহমদুল্লাহর ভিসা বাতিলের খবর নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, শায়খ আহমদুল্লাহ অতীতে ইহুদিদের ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার জন্য ইহুদিদের দায়ী করেন।

(আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে মেলবোর্নে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন।

মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া
তার ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল-তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগেই আজহারির মতো তাকেও অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হলো।

আন্তর্জাতিক

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন […]

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

নিউজ ডেস্ক

০৬ মে ২০২৬, ১৩:৫২

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন-

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন হার মানতে চাননি এবং জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি সুযোগ পেলে মমতাও জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতেন।

সাধারণত নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এবং তাকেই পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নিলে তিনি ফের শপথ নেন। নাহলে কুর্সি ছাড়তে হয়।

গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন-

আমরা তো হারিনি যে রাজভবনে যাব। হারলে আমি রেজিগনেশন দিতাম। এখন প্রশ্নই ওঠে না। জোর করে আমাদের হারানোর চেষ্টা হচ্ছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৭৮

ইসলাম ও জীবন

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি পদে মসজিদের ইমাম

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার শীর্ষ এ পদে একজন আলেমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, […]

নিউজ ডেস্ক

২২ মে ২০২৬, ১৮:৩৯

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার শীর্ষ এ পদে একজন আলেমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৭৫-এর ধারা ৫(ক)(১) ও ৫(ক)(২) অনুযায়ী তাকে অন্যান্য পেশাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, এ নিয়োগ দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এই প্রথম কোনও পেশাদার আলেম ও মসজিদের ইমামকে সচিব পদমর্যাদার প্রশাসনিক উচ্চ পদে দায়িত্ব প্রদান করা হলো।

প্রসঙ্গত, মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী কওমি, আলিয়া ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, ভারতের প্রসিদ্ধ দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে অধ্যয়ন করেন।

কওমি শিক্ষায় দাওরায়ে হাদিস, আলিয়া শিক্ষায় কামিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মাস্টার্স—সব ক্ষেত্রেই তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন তার অসাধারণ মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের প্রমাণ বহন করে।

কর্মজীবনে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, গবেষক ও প্রশিক্ষক হিসেবে বহু প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি চট্টগ্রামের দারুল মারিফ ও দারুল উলুম মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও পাঠদানে নিয়োজিত ছিলেন। তার হাতে অসংখ্য শিক্ষার্থী ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষায় আলোকিত হয়েছেন।

দেশের ইসলামী অর্থনীতি ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নেও রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সর্বশেষ তিনি সেন্ট্রাল শরীয়াহ কাউন্সিল ফর ইসলামী ব্যাংকস অব বাংলাদেশের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি-এর শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ইসলামী উইংয়ের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক-সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।