বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

কুরআন ও হাদিসের আলোকে মুনাফিক চেনার উপায়

ইসলামি সমাজে ‘মুনাফিক’ শব্দটি এক বিশেষ ধরনের মানুষকে বুঝায়, যাদের অন্তরে কুফরি ও ইসলামবিরোধিতা লুকানো থাকে, কিন্তু বাইরে ইসলামের পরিচয় ধারণ করে। এই শব্দিটির উৎপত্তি ‘নেফাক’ শব্দ থেকে, যার অর্থ হল কোনো কিছু গোপন রেখে তার বিপরীত প্রকাশ করা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় মুনাফিক বলতে ওই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যারা প্রকাশ্যে মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও অন্তরে ইসলামকে […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৭:২৪

ইসলামি সমাজে ‘মুনাফিক’ শব্দটি এক বিশেষ ধরনের মানুষকে বুঝায়, যাদের অন্তরে কুফরি ও ইসলামবিরোধিতা লুকানো থাকে, কিন্তু বাইরে ইসলামের পরিচয় ধারণ করে। এই শব্দিটির উৎপত্তি ‘নেফাক’ শব্দ থেকে, যার অর্থ হল কোনো কিছু গোপন রেখে তার বিপরীত প্রকাশ করা।

ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় মুনাফিক বলতে ওই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যারা প্রকাশ্যে মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও অন্তরে ইসলামকে অস্বীকার করে এবং তারা ইসলামি সমাজে অনুপ্রবেশ করে ইসলামের মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে।

পবিত্র কুরআন ও হাদিসে মুনাফিকদের বহু আলামত বা নিদর্শন বর্ণিত হয়েছে, যা তাদের চিনতে সাহায্য করে।
আজ আমরা এসব নিদর্শনের আলোকে মুনাফিকদের চিনতে ও তাদের থেকে সতর্ক থাকতে চেষ্টা করবো। ইনশাআল্লাহ ।

মুনাফিকের আলামত ও নিদর্শন

কুরআন নিয়ে সন্দেহপোষণ: নিজেকে ঈমানদার বলে দাবি করেও পবিত্র কুরআনের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করা (সুরা তাওবা: ৪৫)।

আল্লাহ ও রসুলের নির্দেশনা অপছন্দ করা: আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দেওয়া হুকুম ও বিধি-বিধান অপছন্দ করা (সুরা নিসা: ৬০-৬১)।

ইসলামের বিজয়কে অপছন্দ করা: ইসলামের বিজয় ও মুসলিমদের সাহায্য করা অপছন্দ করা, এবং মুসলমানদের অপমান বা লাঞ্ছনায় খুশি হওয়া (সুরা তাওবা: ৫০; সুরা আলে ইমরান: ১১৯-১২০)।

মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি: মুসলমানদের মধ্যে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করা ও অনৈক্য তৈরিতে সহায়তা করা (সুরা তাওবা: ৪৭)।

কাফেরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব: মুসলিম বাদ দিয়ে কাফের সম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা (সুরা মুজাদালাহ: ১৪)।

মুমিনদের উপহাস করা: মুমিনদের নিয়ে টিপ্পনী কাটা, উপহাস করা এবং তাদের দোষ খোঁজার চেষ্টা করা (সুরা তাওবা: ৭৯)।

আল্লাহর আহ্বানে দাম্ভিকতা: যখন আল্লাহর দিকে ডাকলে, তখন দাম্ভিকতার সঙ্গে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া (সুরা মুনাফিকুন: ৫)।

নামাজে অলসতা: সালাতকে ভারী মনে করা এবং নামাজে অলসতা করা। (সুরা নিসা: ১৪২) রসুল সা. বলেছেন, মুনাফেকদের জন্য ফজর ও এশার নামাজ অত্যন্ত কঠিন (বুখারি: ৬৫৭; মুসলিম: ৬৫১)

নিরপরাধ মুমিনদের কষ্ট দেওয়া: নিরপরাধ মুমিনদের ফাঁদে ফেলে তাদের কষ্ট দেওয়া। (সুরা আহজাব: ৫৭-৫৮)

মুনাফিক চেনার উপায়

মুনাফিকদের চিহ্নিত করা সাধারণত সহজ নয়, কারণ তারা তাদের অন্তরের বিশ্বাস গোপন রাখে এবং বাইরের আচরণে ইসলামিক সত্ত্বার ছাপ দেয়। তবে, প্রিয় নবী সা. মুনাফিকদের চিহ্নিত করার জন্য কিছু আলামত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে’। (বুখারি, কিতাবুল ঈমান: ১/৮৯)

এছাড়াও, ‘চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান, সে খাঁটি মুনাফিক, সেগুলো হলো: মিথ্যা বলা, ওয়াদা ভঙ্গ করা, আমানত খেয়ানত করা ও বিবাদে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি দেওয়া (সহিহ বুখারি: ৩৪)।

মুনাফিকদের চেনা সহজ কাজ নয়, কিন্তু নবী সা.-এর নির্দেশনা অনুসরণ করে আমরা তাদের আলামত চিহ্নিত করতে পারি। আমাদের উচিত, নিজেদের ঈমানের প্রতি সতর্ক থাকা, এবং যেকোনো প্রকার নেফাক থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেয়া।

আমাদের জীবন থেকে মুনাফিকের আলামত দূর করা এবং সুস্থ, সৎ ও ঈমানদার মুসলমান হিসেবে জীবন অতিবাহিত করা একান্ত জরুরি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে মুনাফিক ও মুনাফিকদের আলামত থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

ইসলাম ও জীবন

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির সরকার পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, চাঁদের দেখা মেলায় কাল বুধবার প্রথম রোজা হবে। ‘হারামাইন’ নামে ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়েছে, “সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধচন্দ্রের দেখা মিলেছে। ফলে আজ রাত থেকে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাস শুরু।” “তারা […]

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৮

সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির সরকার পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, চাঁদের দেখা মেলায় কাল বুধবার প্রথম রোজা হবে।

‘হারামাইন’ নামে ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়েছে, “সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধচন্দ্রের দেখা মিলেছে। ফলে আজ রাত থেকে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাস শুরু।”

“তারা আরও বলেছে, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সিয়াম, কিয়াম এবং ইবাদত কবুল করুক। এবং তিনি যেন আমাদের এই বরকতময় মাসের মূল্যবান মুহূর্তগুলোকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যয় করার তাওফিক দান করেন। আমীন।”

ইসলাম ও জীবন

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা […]

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিলো।

খবরে জানা গেছে, সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার ভিসা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক বক্তব্যকারীদের প্রতি অস্টেলিয়া সরকারের কোনো সহনশীলতা নেই।

এ ছাড়া ডেইলি টেলিগ্রাফ শায়খ আহমদুল্লাহর ভিসা বাতিলের খবর নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, শায়খ আহমদুল্লাহ অতীতে ইহুদিদের ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার জন্য ইহুদিদের দায়ী করেন।

(আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে মেলবোর্নে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন।

মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া
তার ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল-তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগেই আজহারির মতো তাকেও অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হলো।

ইসলাম ও জীবন

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ, ইসলামের প্রথম বিজয়

রমজানের নীরব আকাশের নিচে ইতিহাসের কিছু দিন এমন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দীপ্ত অধ্যায়। মুসলিম ইতিহাসে তেমনই এক দিন বদর দিবস। মরুপ্রান্তরের এক অনাড়ম্বর ভূমিতে সংঘটিত সেই ঘটনাটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি ঈমানের দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল। হিজরি দ্বিতীয় […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ মার্চ ২০২৬, ১৩:২২

রমজানের নীরব আকাশের নিচে ইতিহাসের কিছু দিন এমন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দীপ্ত অধ্যায়।

মুসলিম ইতিহাসে তেমনই এক দিন বদর দিবস। মরুপ্রান্তরের এক অনাড়ম্বর ভূমিতে সংঘটিত সেই ঘটনাটি কেবল একটি যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি ঈমানের দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থার এক অনন্য দলিল।

হিজরি দ্বিতীয় সনের ১৭ রমজান। আরবের উত্তপ্ত বালুকাময় ভূমিতে মদিনা থেকে অগ্রসর হচ্ছিলেন নবী করিম সা. এবং তার অল্পসংখ্যক সাহাবি। তাদের সংখ্যা মাত্র তিন শতাধিক ইতিহাসে যাদের পরিচয় বদরী সাহাবি নামে অমর হয়ে আছে।

অপরদিকে মক্কার কুরাইশরা এসেছিল প্রায় এক হাজার যোদ্ধার সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে। অস্ত্র, অশ্বারোহী শক্তি এবং সামরিক প্রস্তুতিতে তারা ছিল বহুগুণ শক্তিশালী। কিন্তু সেই অসম বাস্তবতার মাঝেও মুসলমানদের হৃদয়ে ছিল এক অদৃশ্য শক্তি ঈমানের দীপ্তি এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা।

মদিনা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রান্তর এ এসে মুখোমুখি দাঁড়ায় দুই শক্তি একদিকে অহংকার ও ক্ষমতার প্রাচুর্য, অন্যদিকে সত্য ও বিশ্বাসের অটল প্রত্যয়। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটিকে বলা হয়েছে ইয়াওমুল ফুরকান সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যের দিন।

যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ সা. গভীর আকুতিতে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন। ইতিহাসের বর্ণনায় আছে, তিনি দু’হাত উঁচু করে প্রার্থনা করেছিলেন যদি এই ক্ষুদ্র দলটি আজ পরাজিত হয়, তবে পৃথিবীতে আল্লাহর ইবাদতকারী আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। সেই মুহূর্তে তার দোয়ার আবেগ, সাহাবিদের অটল আস্থা এবং মরুর নিস্তব্ধতার ভেতর এক আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি হয়েছিল, যা মুসলিম চেতনার ইতিহাসে এক অনন্য দৃশ্য হয়ে আছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সেই দিনটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আল্লাহ তো বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছিলেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল।”

এই আয়াত শুধু একটি বিজয়ের স্মৃতি নয়, এটি মুসলিম সভ্যতার এক গভীর দার্শনিক সত্যকে তুলে ধরে মানবিক শক্তির সীমাবদ্ধতার ওপরে আছে ঈমানের শক্তি এবং আল্লাহর সাহায্য। ইসলামী ঐতিহ্যে বলা হয়, সেই যুদ্ধে ফেরেশতাদের সহায়তা নেমে এসেছিল, যা বদরের বিজয়কে কেবল সামরিক সাফল্য নয়, বরং আধ্যাত্মিক জয়ের প্রতীক করে তুলেছে।

বদরের বিজয় মুসলিম সমাজের জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক মোড়। মক্কায় দীর্ঘ নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাস পেরিয়ে মদিনায় নবগঠিত মুসলিম সমাজ তখনো ছিল নাজুক অবস্থায়। কিন্তু এই বিজয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। আরবের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুসলমানদের উপস্থিতি তখন আর উপেক্ষা করার মতো ছিল না। বদরের মরুপ্রান্তরেই যেন ইতিহাস প্রথমবারের মতো ঘোষণা করেছিল একটি নতুন সভ্যতার সূচনা হয়েছে।

তবে বদরের প্রকৃত মাহাত্ম্য কেবল বিজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধশেষে নবী করিম সা. বন্দিদের প্রতি যে মানবিক আচরণ প্রদর্শন করেছিলেন, তা ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

অনেক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল শিক্ষাদানের বিনিময়ে যা প্রমাণ করে, ইসলামের নৈতিকতা যুদ্ধের উত্তেজনাকেও অতিক্রম করে মানবতার মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়।

আজও রমজানের দিনগুলো যখন ফিরে আসে, মুসলিম হৃদয়ে বদর দিবস নতুন করে জেগে ওঠে। এটি কেবল অতীতের একটি যুদ্ধকে স্মরণ করা নয়, বরং একটি আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করা যেখানে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস, ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা একত্রে ইতিহাস রচনা করে।

বদরের মরুপ্রান্তরে যে আলোকরেখা উদিত হয়েছিল, তা পরবর্তীকালে সমগ্র আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে বিশ্বসভ্যতার দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আলো আজও মুসলিম উম্মাহকে স্মরণ করিয়ে দেয় সংখ্যা নয়, সম্পদ নয়, বরং ঈমান, আদর্শ এবং নৈতিক দৃঢ়তাই ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের প্রকৃত শক্তি।

বদর তাই কেবল অতীতের একটি ঘটনা নয়, এটি মুসলিম চেতনার এক চিরন্তন প্রতীক যেখানে মরুর নীরবতার মধ্যেই প্রথমবারের মতো উচ্চারিত হয়েছিল এক নতুন ইতিহাসের সূচনা।

লেখক: শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো, মিশর