বিএনপি যে সরকারে আছে সেটা গায়ের জোরে আছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, অতীতেও আমরা দেখেছি গায়ের জোরে বাংলাদেশে অনেকেই ক্ষমতায় ছিল। অনেক সিদ্ধান্ত পাশ করিয়েও নিয়েছে। কিন্তু সেগুলো কিন্তু স্থায়ী হয়নি, ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এনসিপির আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আমরা ইতিমধ্যেই সারা দেশব্যাপী জোটগতভাবে এবং দলীয়ভাবে কর্মসূচি দিয়েছি। পার্লামেন্টে আমাদের বিরোধীদলীয় একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেছি। কারণ যেহেতু আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য আছি, আমরা শপথ নিয়েছি, আমরা শপথবদ্ধ সংসদ সদস্য।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ের আদেশেও এটা উল্লেখিত ছিল বরং বিএনপির যারা সংসদ সদস্য রয়েছে তারা এই শপথ না দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থান এবং গণভোটের গণরায়ের সাথে প্রতারণা করেছে। ফলে আমরা মনে করি, এখন বিএনপি যে সরকারে আছে সেটা গায়ের জোরে আছে এবং তারা যে গণভোটের গণরায় মানছে না এটা গায়ের জোরে মানছে না।
অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘অতীতেও আমরা দেখেছি গায়ের জোরে বাংলাদেশে অনেকেই ক্ষমতায় ছিল। অনেক সিদ্ধান্ত পাশ করিয়েও নিয়েছে। কিন্তু সেগুলো কিন্তু স্থায়ী হয়নি, ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। বিএনপি গায়ের জোরে বেশিদিন ক্ষমতায় এভাবে থাকতে পারবে না। তাকে ক্ষমতায় থাকতে হলে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে হলে অবশ্যই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ তাদেরকে বাস্তবায়ন করতে হবে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে। তারা মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার ওপর আওয়ামী লীগের অত্যাচার-নির্যাতনের কথা ভুলে গেছে। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের নির্যাতনের ইতিহাস কীভাবে এত সহজে ভুলে যাচ্ছে তারা? আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে এনে জিয়াউর রহমান যে ঐতিহাসিক ভুলের মাশুল দিয়েছেন, একই ভুলের মাশুল যেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিতে না হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে তাদের এজেন্ডাভিত্তিক জোট হলেও এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সারা দেশে এককভাবে প্রার্থী দেবে এনসিপি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম দর্পনসহ স্থানীয় নেতারা।
এর আগে গাইবান্ধায় পৌঁছালে কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।