নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১ নং ভোগডাবুরী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের নিজ ভোগডাবুরী বোতলগঞ্জ এলাকায় স্কুলপড়ুয়া দুই সন্তানের ভরণপোষণ ও খোঁজখবর না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসাদুজ্জামান (আসাদ) নামে এক পিতার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে বোতলগঞ্জ এলাকার বুলি আক্তারের সঙ্গে চিলাহাটি এলাকার আসাদুজ্জামান আসাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই সন্তানের জন্ম হয়। ছেলে বায়াদুল ইসলাম বাপ্পি (১৫) এবং মেয়ে মোছা: নাজমুন নাহার আরনি (১৪)।
বুলি আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলত। একপর্যায়ে ২০১৪ সালে আসাদ অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন বুলি আক্তার। সেখানেই নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বুলি আক্তার জানান, ২০১৪ সালের পর থেকে তার স্বামী সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নেননি। জীবিকার তাগিদে প্রায় দুই বছর আগে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। তার দাবি, স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলেও তাকে এখনো তালাক দেননি।
তিনি আরও জানান, আসাদ মাঝেমধ্যে কেতকীবাড়ি প্রধানপাড়া এলাকায় তার বড় ভাই নাজমুল আলম সোহাগ, মেজ ভাই নূর কালাম লাবু ও ছোট বোন নিলুফা আক্তার মনির বাড়িতে এলেও দুই সন্তানের খোঁজখবর নেন না।
দুই সন্তান জানায়, ছোটবেলা থেকেই তারা নানার বাড়িতে বড় হয়েছে। বাবা জীবিত থাকলেও তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেন না। ছেলে বায়াদুল ইসলাম বাপ্পি জানায়, মাঝেমধ্যে বাবা যোগাযোগ করলেও তাদের ভরণপোষণ ও পড়াশোনার খরচের বিষয়ে উদাসীন থাকেন।
বর্তমানে বায়াদুল ইসলাম বাপ্পি নবম শ্রেণিতে এবং মোছা. নাজমুন নাহার আরনি অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
বুলি আক্তারের বড় বোন জানান, তার বোন অনেক কষ্ট করে দুই সন্তানকে লালন-পালন করে বড় করেছেন। সন্তান দুটি ছোটবেলা থেকেই তাদের নানার বাড়িতে বেড়ে উঠছে। তাদের বাবা নিয়মিত কোনো খোঁজখবর রাখেন না।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দাও জানান, বুলি আক্তারের দুই সন্তান ছোটবেলা থেকেই নানার বাড়িতে বড় হচ্ছে। তাদের বাবাকে এলাকায় খুব একটা আসতে দেখা যায় না। অন্যদিকে, তাদের মা প্রায় দুই-তিন বছর আগে জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান আসাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।