শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

আল্লাহর ইচ্ছা

মানুষ মহান আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। গোটা দুনিয়ার সমস্ত কার্যক্রম মানুষের চারপাশে আবর্তিত হয়। মানুষের ভালো-মন্দ, পথচলা, খাওয়া-দাওয়া, সংসার গঠন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এসবই আল্লাহর পরিকল্পনার অধীনে সংঘটিত হয়। আল্লাহ যা ভালো মনে করেন, তাই তিনি করেন, এবং তাঁর পরিকল্পনার সঙ্গে কোনো কিছু মিলানো বা সংশোধন করা সম্ভব নয়। তিনি কারো পরামর্শ বা উপদেশ […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৯:১৭

মানুষ মহান আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। গোটা দুনিয়ার সমস্ত কার্যক্রম মানুষের চারপাশে আবর্তিত হয়। মানুষের ভালো-মন্দ, পথচলা, খাওয়া-দাওয়া, সংসার গঠন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এসবই আল্লাহর পরিকল্পনার অধীনে সংঘটিত হয়। আল্লাহ যা ভালো মনে করেন, তাই তিনি করেন, এবং তাঁর পরিকল্পনার সঙ্গে কোনো কিছু মিলানো বা সংশোধন করা সম্ভব নয়। তিনি কারো পরামর্শ বা উপদেশ ছাড়াই সবকিছু পরিচালনা করেন।

শয়তানের ষড়যন্ত্র ও আল্লাহর পরিকল্পনা

মানুষ সৃষ্টির পর থেকেই শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট করার জন্য চেষ্টা করে আসছে। বারবার শয়তান মানুষকে ভুল পথে পরিচালনা করতে ষড়যন্ত্র করেছে, কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর পরিকল্পনায় সঠিক পথের দিশা দেখিয়েছেন। আল্লাহর এই পরিকল্পনার প্রতি সৎ বিশ্বাস, শিক্ষা এবং নবী-রসুলের মাধ্যমে মানুষের জন্য এক সঠিক পথ নির্দেশিত হয়েছে। সূরা আলে ইমরানের ৫৪ নম্বর আয়াতে এ ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে।

নবী-রসুলদের ভূমিকা

মহান আল্লাহ হজরত আদম আ. থেকে শুরু করে যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রসুল পাঠিয়েছেন, যারা তাদের যুগের উপযুক্ত বাণী দিয়ে মানুষকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালিত করেছেন। নবী-রসুলদের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষকে শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা করা ও আল্লাহর পথে আনার চেষ্টা করা।

মহান আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়

কুরআনুল কারিমে আল্লাহর সর্বশেষ বাণী। নবী মুহাম্মদ সা.-এর সময়েও মক্কার কাফেররা নবীকে কষ্ট দিয়েছিল। তারা মুসলিমদের ধোঁকা দেওয়ার নানা ফন্দি-ফিকির করেছিল। কিন্তু আল্লাহ তাঁর মেহেরবানিতে ঈমানদারদের সাহায্য করেছেন এবং তাদের বিজয় দান করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর পরিকল্পনায় ঈমানদারদের সর্বদা সাহায্য করেন।

ক্ষমতা, ধন-সম্পদ, এবং সম্মান

আজও পৃথিবীতে অনেক শাসক জনগণকে নির্যাতন করে, জেলে ভরে, গুম করে, খুন করে নিজেদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করে। তবে আল্লাহর ইচ্ছায় এসব শাসকরা পতিত হয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা হারায়। অনেককে দেশ ছাড়তেও হয়েছে। আল্লাহর পরিকল্পনায় কোনো ভুল হতে পারে না, এবং তাঁর পদক্ষেপের কোনো বাধা নেই। তিনি আমাদের একমাত্র অভিভাবক ও সাহায্যকারী।

আল্লাহর চূড়ান্ত ক্ষমতা ও রাজত্ব

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, বলো, হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ! আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন। যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মান দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা আপনি হীন করেন। কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান (সুরা আলে ইমরান : ২৬)।
এ আয়াতে আল্লাহর সীমাহীন শক্তি ও মহা কুদরতের প্রকাশ ঘটেছে। তিনি বাদশাহকে ফকির এবং ফকিরকে বাদশাহে পরিণত করেন। তিনিই সব ক্ষমতার মালিক।

আল্লাহর রাজত্ব: চিরস্থায়ী ও চিরন্তন

আল্লাহ তায়ালাই মহাজগতের সব ক্ষমতার অধিকারী। তিনি রাজাধিরাজ, এবং তাঁর রাজত্ব সমগ্র সৃষ্টিজগতে কার্যকর। পৃথিবী তাঁর রাজত্বের ক্ষুদ্রতম অংশ মাত্র। মুত্তাকিরা থাকবে স্রোতস্বিনী বিধৌত জান্নাতে, যোগ্য আসনে, সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী আল্লাহর সান্নিধ্যে।(সুরা কামার : ৫৪-৫৫) সৃষ্টিজগতে সবার রাজত্ব অস্থায়ী, কিন্তু আল্লাহর রাজত্ব চিরন্তন ও চিরস্থায়ী।

কেয়ামতের দিন আল্লাহর একক কর্তৃত্ব

হজরত রসুলুল্লাহ সা. বলেন, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন পৃথিবী তাঁর মুঠোয় ধারণ করবেন এবং আসমানকে তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে নিয়ে বলবেন, আমিই একমাত্র অধিপতি। দুনিয়ার বাদশাহরা কোথায়? (সহিহ বোখারি : ৭৩৮২) এই হাদিসের মাধ্যমে আল্লাহর রাজত্বের অমোঘ এবং অনন্ত শক্তি ফুটে উঠেছে।

প্রকৃত মালিক আল্লাহর চূড়ান্ত অধিকার

আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো শক্তি বা রাজত্ব স্থায়ী নয়। আল্লাহর রাজত্বই চিরস্থায়ী এবং চিরন্তন, আর তিনিই পৃথিবীসহ সমগ্র সৃষ্টির প্রকৃত মালিক। মহিমান্বিত আল্লাহ, যিনি প্রকৃত মালিক, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, সম্মানিত আরশের তিনিই অধিপতি (সুরা মুমিনুন : ১১৬)।

আল্লাহর ক্ষমতা ও রাজত্বই চূড়ান্ত, এবং তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কিছুই প্রতিহত হতে পারে না। তিনি আমাদের একমাত্র অভিভাবক ও সাহায্যকারী, এবং তিনি আমাদের পথ দেখান।

ইসলাম ও জীবন

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা […]

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিলো।

খবরে জানা গেছে, সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার ভিসা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক বক্তব্যকারীদের প্রতি অস্টেলিয়া সরকারের কোনো সহনশীলতা নেই।

এ ছাড়া ডেইলি টেলিগ্রাফ শায়খ আহমদুল্লাহর ভিসা বাতিলের খবর নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, শায়খ আহমদুল্লাহ অতীতে ইহুদিদের ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার জন্য ইহুদিদের দায়ী করেন।

(আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে মেলবোর্নে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন।

মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া
তার ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল-তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগেই আজহারির মতো তাকেও অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হলো।

আন্তর্জাতিক

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন […]

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

নিউজ ডেস্ক

০৬ মে ২০২৬, ১৩:৫২

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন-

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন হার মানতে চাননি এবং জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি সুযোগ পেলে মমতাও জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতেন।

সাধারণত নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এবং তাকেই পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নিলে তিনি ফের শপথ নেন। নাহলে কুর্সি ছাড়তে হয়।

গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন-

আমরা তো হারিনি যে রাজভবনে যাব। হারলে আমি রেজিগনেশন দিতাম। এখন প্রশ্নই ওঠে না। জোর করে আমাদের হারানোর চেষ্টা হচ্ছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৭৮

ইসলাম ও জীবন

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি পদে মসজিদের ইমাম

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার শীর্ষ এ পদে একজন আলেমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, […]

নিউজ ডেস্ক

২২ মে ২০২৬, ১৮:৩৯

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার শীর্ষ এ পদে একজন আলেমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৭৫-এর ধারা ৫(ক)(১) ও ৫(ক)(২) অনুযায়ী তাকে অন্যান্য পেশাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, এ নিয়োগ দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এই প্রথম কোনও পেশাদার আলেম ও মসজিদের ইমামকে সচিব পদমর্যাদার প্রশাসনিক উচ্চ পদে দায়িত্ব প্রদান করা হলো।

প্রসঙ্গত, মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী কওমি, আলিয়া ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, ভারতের প্রসিদ্ধ দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে অধ্যয়ন করেন।

কওমি শিক্ষায় দাওরায়ে হাদিস, আলিয়া শিক্ষায় কামিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মাস্টার্স—সব ক্ষেত্রেই তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন তার অসাধারণ মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের প্রমাণ বহন করে।

কর্মজীবনে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, গবেষক ও প্রশিক্ষক হিসেবে বহু প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি চট্টগ্রামের দারুল মারিফ ও দারুল উলুম মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও পাঠদানে নিয়োজিত ছিলেন। তার হাতে অসংখ্য শিক্ষার্থী ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষায় আলোকিত হয়েছেন।

দেশের ইসলামী অর্থনীতি ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নেও রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সর্বশেষ তিনি সেন্ট্রাল শরীয়াহ কাউন্সিল ফর ইসলামী ব্যাংকস অব বাংলাদেশের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি-এর শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ইসলামী উইংয়ের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক-সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।