বাংলাদেশের মানুষের অর্থ ব্যয় করে তোষামোদকারীদের বিদেশ সফরে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তাঁর দাবি, বিদেশ সফরে যাওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ জানেনই না কেন তাঁদের সেখানে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ জীবনে প্রথমবার বিমানে চড়ার কথাও বলছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তেভেজা ২৮ অক্টোবর, ফ্যাসিবাদের উত্থান: কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যে বিএনপির সমালোচনা করে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ফেরার প্রয়োজন নেই। কারণ, তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে যেসব কাজ করেছে, বিএনপি সাত মাসের মধ্যেই সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দলীয়করণ ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতার পাশাপাশি সরকারি অর্থ ব্যয় করে তোষামোদকারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ সফরে পাঠানো হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিব্রত ও অপমানিত করা হচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতকে নির্মূল করার বক্তব্য দিয়ে কেউ কেউ আবার ফ্যাসিবাদী মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের একসময় দেশ ছেড়ে পালানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্পর্ক এবং তাদের কথিত অভিন্ন কর্মসূচির বিষয়টি আড়াল করতেই জামায়াতের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
সেমিনারে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাও তুলে ধরেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। ওই দিনের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সাত মাস পার করলেও সংসদে কিংবা সংসদের বাইরে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শোনা যায়নি। ওই ঘটনায় বিএনপির কর্মীরাও নিহত হয়েছিলেন উল্লেখ করে সরকারের কাছে জবাব চান তিনি।
এ সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের প্রসঙ্গও তোলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন না; বরং ওই মাসের কোনো একদিন তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন।