অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া তথাকথিত কিংস পার্টিগুলোকে গুপ্তচরদের প্রক্সি সংগঠন বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তাঁর অভিযোগ, এসব সংগঠন দেশে বিভাজন, বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়িয়ে রাজনৈতিক পরিবেশকে বিষাক্ত করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ইঙ্গিত করে নুরুল হক নুর বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে যারা নেতা হয়েছেন, তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান হারিয়ে ফেলেছেন। নতুন বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রেখে একসঙ্গে কাজ করার কথা থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা তথাকথিত কিংস পার্টির মাধ্যমে সেই ঐক্য নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই স্পষ্ট হয়েছে, এসব সংগঠন একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রক্সি হিসেবে কাজ করছে। তাদের কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে বিভক্ত ও বিদ্বেষপূর্ণ করে তুলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদে চলমান রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে নুর বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন এবং রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জনগণ একটি প্রাণবন্ত সংসদ দেখতে চাইলেও এক বছরের কম সময়ের মধ্যেই কথিত প্রক্সি সংগঠন ও পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করা এবং বাংলাদেশকে স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে।
দেশে উগ্রবাদের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী নিজেদের অতীত পরিচয় আড়াল করতে জুলাইয়ের চেতনাকে ব্যবহার করে উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে এবং রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে সব প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
নুর আরও বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি রাজপথের একজন কর্মী হিসেবেও এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট দেখতে চান। সরকারের ভেতরে কেউ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রশ্রয় দিলে গণঅধিকার পরিষদ কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ সময় পিরোজপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগেরও তীব্র সমালোচনা করেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনার কথা বলে একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফন ও কবর খোঁড়ার কাজে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে কবর খুঁড়তে হওয়ার ঘটনাকে জাতির জন্য লজ্জাজনক উল্লেখ করে নুর বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরির জন্য জুলাইয়ের অভ্যুত্থান হয়নি এবং এটি জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।