মাদরাসাগুলোতে শিশুদের বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আলেম সমাজের একটি বড় অংশকে সোচ্চার হতে না দেখায় সমালোচনা করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সমালোচনা করেন।
পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশের আলেম সমাজে অনেক শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি রয়েছেন। ধর্মীয় অনুশাসন, মানবিক কার্যক্রম ও সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে তাঁদের অনেকে মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। তবে বৃহত্তর আলেম সমাজের কিছু মানুষের বিরুদ্ধে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা হয়তো কম, কিন্তু বিষয়টি একেবারে উপেক্ষা করার মতো নয়। তাঁর মতে, শিশুদের বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আলেম সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা ও মাদরাসা শিক্ষকদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখা উচিত।
আসিফ নজরুল প্রশ্ন তোলেন, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলেম সমাজের অনেকে সোচ্চার হলেও নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘটিত শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে তাঁদের অনেককে কেন সক্রিয় দেখা যায় না।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় নেতাদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান না নিয়ে কেউ কেউ অপরাধীদের প্রতি সহানুভূতি দেখালে সামগ্রিকভাবে আলেম সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব বিশেষ করে কওমি মাদরাসাগুলোর ওপরও পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে আসিফ নজরুল আশা প্রকাশ করেন, আলেম সমাজের নেতৃত্ব শিগগিরই এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা নেবে। মাদরাসায় শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে কঠোর বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানাবে তারা।
তিনি মনে করেন, এ ধরনের অপরাধ বন্ধে আলেম সমাজের নেতৃত্বের স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি।