ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনে নেতৃত্ব তৈরি করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ নয়, বরং দেশ গঠন ও মানবতার কল্যাণই দলটির রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে দিনাজপুর শহরের নাজমা গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ২০২৭-২৮ কার্যকালের জেলা আমির নির্বাচনে ভোট গ্রহণ উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আবদুল হালিম বলেন, নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ত্যাগ ও কোরবানির ফলেই জামায়াত আজ দেশের প্রধান বিরোধী দলের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। দেশকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত করে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দলটি বদ্ধপরিকর বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দলের সদস্যরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দাওয়াত ও তাবলিগ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নৈতিক প্রশিক্ষণ, সমাজসেবা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে।
সমসাময়িক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রুকনদের সতর্ক ও কৌশলী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে জ্ঞান ও আমলের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা করা এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আত্মগঠন ও দাওয়াতি কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল হালিম বলেন, প্রত্যেক রুকনকে সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। ইসলামের আদর্শ মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষার বার্তা দেশজুড়ে পৌঁছে দিতে সংগঠনের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এমপি, চিরিরবন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আফতাব উদ্দীন মোল্লা এবং দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রাজিবুর রহমান পলাশ ও সাইদুল ইসলাম সৈকত।
সম্মেলনে দিনাজপুর জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা জামায়াতের প্রায় দুই হাজার পুরুষ ও নারী রুকন এবং ডেলিগেট অংশ নেন।