সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। তিনি বলেছেন, একজন নেত্রীর কারাজীবন নিয়ে হাসাহাসি করা উচিত নয়। নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মেঘনা আলম।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূতের কূটনৈতিক বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল। মেঘনা জানান, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় ওই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল না। পরবর্তী সময়ে তাদের পরিচয় ও বাগদান হয়।
মেঘনা আলমের ভাষ্য, জুলাইয়ের পর খালেদা জিয়ার প্রথম কূটনৈতিক বৈঠক সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকের উদ্যোগের পেছনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখেছেন বলেও দাবি করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সৌদি রাষ্ট্রদূত মনে করতেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সহায়তায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন সরকার গঠন করতে পারে। তবে তিনি রাষ্ট্রদূতকে বিএনপির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই অন্য রাষ্ট্রদূতদের তুলনায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়েও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান মেঘনা।
খালেদা জিয়ার কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, ‘একজন মহান নেত্রী বিনা অপরাধে কারাবরণ করেছিলেন, আমিও বিনা বিচারে কারাবরণের স্বাদ নিয়েছি। সেই ইতিহাস নিয়ে হাসাহাসি, নোংরামি করবেন না।’
পোস্টে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মেঘনা আলম। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের নাগরিকদের অসম্মান করা এবং এ ধরনের আচরণ বিদেশে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী-পুরুষের বিয়ের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ দাবির পক্ষে পোস্টে কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য উল্লেখ করেননি।
মেঘনা আলম লেখেন, দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারাজীবন নিয়ে বিদ্রূপ করা অনুচিত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে কথিত ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানো ব্যক্তিদের সেগুলো মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন মেঘনা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সম্মানজনক পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মেঘনা আলমের এসব বক্তব্য তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।