একদিকে সারাদেশে গরিব মানুষ খুঁজে বের করতে সরকার দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করছে, অন্যদিকে ঠিক সেই সময়ে কোনো ধরনের টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই ৭০০–৮০০ কোটি টাকার কৃষক কার্ড প্রকল্পটি জনাব তারেক রহমানের এক বন্ধুর কোম্পানি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে-কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে সরকার কাজটি সেনাবাহিনীকে দিয়েছে, যা G2G (Government-to-Government) পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আমার জানামতে, BMTF থেকে নিজেদের খুশিমতো পছন্দের লোকজনকে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কাজ ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। খাল খননসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজও গত পাঁচ মাস ধরে এভাবেই ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও e-GP-এর মাধ্যমে, আবার কোথাও অন্য পদ্ধতিতে এসব কাজ বণ্টন করা হচ্ছে।
প্রশ্ন হলো, ৭০০–৮০০ কোটি টাকার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়া কাজ বণ্টন হচ্ছে কেন? BMTF-এর মাধ্যমে কারা সাব-কন্ট্রাক্ট পাচ্ছে, কীসের ভিত্তিতে পাচ্ছে এবং এই কাজ বণ্টনের পেছনে কারা জড়িত?
সরকারি প্রকল্প কি এখন ইচ্ছামতো পছন্দের লোকজনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার হাতিয়ার হয়ে গেছে?
গত পাঁচ মাস ধরে চলা এই কাজ বণ্টন প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি।
অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি কিংবা আর্থিক ভাগ-বাঁটোয়ারার অভিযোগ সত্য হলে, জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
আমরা শুনতে পাই, প্রধানমন্ত্রী নিজে দুপুরের খাবার খান মাত্র ১৫০ টাকা দিয়ে। কিন্তু তিনি কি খোঁজ রাখেন, সাড়ে চার কোটি মানুষকে ১৫০ টাকা করে একবেলা খাওয়াতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হবে, তাঁর বন্ধুরা একবেলাতেই সেই পরিমাণ টাকা খেয়ে ফেলছেন?
জনাব তারেক রহমান, আপনার পাতে ১৫০ টাকার মিতব্যয়িতার গল্প, আর আপনার বন্ধুর পাতে সাড়ে চার কোটি মানুষের একবেলার খাবারের সমান টাকা!
আপনার সাশ্রয় যদি হয় আদর্শ, তবে আপনার বন্ধুদের এই ‘ক্ষুধা’কে জনগণ কী নামে ডাকবে?